×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খেলা

সাকিব-মোস্তাফিজের সেঞ্চুরি, হাজারের অপেক্ষায় সাব্বির

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২২, ১০:৪২ পিএম

সাকিব-মোস্তাফিজের সেঞ্চুরি, হাজারের অপেক্ষায় সাব্বির

সাকিব আল হাসান

সাকিব-মোস্তাফিজের সেঞ্চুরি, হাজারের অপেক্ষায় সাব্বির

মোস্তাফিজুর রহমান

সাকিব-মোস্তাফিজের সেঞ্চুরি, হাজারের অপেক্ষায় সাব্বির

সাব্বির রহমান

এশিয়া কাপের ১৫তম আসরের প্রথম ম্যাচ খেলতে মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বি গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী আফগানিস্তান। যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আট উইকেটের জয় পেয়েছে। তবে প্রথম ম্যাচে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রায় সবাই নিজেদের প্রথম বিষয়গুলো স্মরণীয় করে রাখতে চায়। তাই এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচটিও জয় দিয়েই রাঙাতে চায় সাকিব-মোস্তাফিজরা। তরুণদের নিয়ে তিনবারের শিরোপার আক্ষেপ মেটাতে চান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। তবে ফাইনালে লড়ার আগে প্রথম ম্যাচে আফগানদের বধ করাই হবে টাইগারদের মুখ্য উদ্দেশ্য। কোনো কারণে এই ম্যাচে হোঁচট খেলে দ্বিতীয় ম্যাচটি দুই দলের জন্যই হবে ডু অর ডাই ম্যাচ।

[caption id="attachment_364718" align="aligncenter" width="700"] মোস্তাফিজুর রহমান[/caption]

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচে যারা জিতবে তারাই নিশ্চিত করবে সুপার ফোর। গ্রুপ পর্বে দুই গ্রুপ থেকে একটি করে দল বিদায় নিবে। এ গ্রুপের তিনটি দল হলো বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের জয়ের সুবাদের সুপার ফোরে একধাপ এগিয়ে আছে তারা। তিন দল সমান দুই পয়েন্ট করে অর্জন করলেও সুপার ফোরের যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনার পথ খোলা আছে রশিদ-নবিদের সামনে। কেননা লঙ্কানদের বিপক্ষে ৯.৫ ওভার ও আট উইকেট হাতে রেখে জয়ের সুবাদে রান রেটে এগিয়ে আছে তারা। সুপার ফোরের জন্য মঙ্গলবারের ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের বিকল্প নেই।

যদিও অতীত পরিসংখ্যানে টাইগারদের থেকে এগিয়ে আছে আফগানরা। এখনো পর্যন্ত দুই দল টি-টোয়েন্টি সংস্করণে আটবার মুখোমুখি হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচবার জিতেছে আফগানিস্তান ও তিনবার জিতেছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থাকলেও টাইগার শিবিরে ভয় নেই। কেননা বিপিএলসহ বিভিন্ন সময় দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আফগানদের তুরুপের তাস নবি-রশিদদের বেশ সাফল্যের সঙ্গেই মোকাবিলা করেছে টাইগারা ব্যাটাররা। গত ফেব্রুয়ারিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মিডল অর্ডারে রেকর্ড গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেছে আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরজা। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে। প্রথম ম্যাচে শতরানের আগেই অলআউট করেছে সফরকারি আফগানিস্তানকে। যেখানে বল হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন নাসুম আহমেদ ও সাকিব আল হাসানরা। এবার শারজাহতেও নিজেদের নৈপুণ্য দেখাতে প্রস্তুত সাকিব বাহিনী। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে।

ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস এই সম্পর্কে বলেন, খেলোয়াড়রা আসার পর থেকে উজ্জীবিত। ভালো অনুশীলন হচ্ছে। আস্তে আস্তে মানিয়ে নিচ্ছে। এখানে সবাই আছি, বোর্ড সভাপতিও ওদের সঙ্গে কথা বলেছেন, প্রেরণা দিয়েছেন। মাঠের বাইরে থেকে মানসিক সাপোর্ট দেয়া জরুরি। এজন্যই আমাদের এখানে আসা। টাইগার অধিনায়ক তরুণদের জেগে ওঠার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে গতকাল তিনি লিখেছেন, গর্জনের সময় এখনই! মরুর বুকে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে আফগানদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত টাইগাররা। মরুর বুকে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে লড়াইয়ে প্রস্তুত টাইগাররা।

[caption id="attachment_364719" align="aligncenter" width="700"] সাব্বির রহমান[/caption]

দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট একাডেমিতে বেশ কয়েকদিন অনুশীলন করেছে টাইগাররা। কোচিং স্টাফের নতুন গুরু শ্রীধরন শ্রীরামের অধীনে নিজেদের প্রস্তুত করেছে আফিফ-বিজয়রা। নেট অনুশীলনে প্রায় সবার মানসিক প্রস্তুতি ছিল লম্বা শট খেলা ও ওভার বাউন্ডারি হাঁকানো। শেষদিকে দলে ডাক পাওয়া নাঈম শেখও বেশ কয়েকটি বল হারিয়েছেন। প্রাথমিক দলে জায়গা না পেলেও শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান চূড়ান্তভাবে ছিটকে যাওয়ায় দলে ডাক পেয়েছে তিনি। এশিয়া কাপে এবার এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে উদ্বোধনী ব্যাটার হিসেবে নাঈম শেখকেই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা প্রাথমিক একাদশে থাকা দলের আরেক ওপেনার পারভেজ ইমন একেবারেই নতুন। সে জায়গায় নাঈম শেখ গত বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ব্যাটার হিসেবে খেলেছেন। টাইগার শিবিরে একাধিক ক্রিকেটার রেকর্ডের অপেক্ষায় থাকবে। টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তার শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নামবে। জাতীয় দলের জার্সিতে এপর্যন্ত ৯৯টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে সাকিব। যেখান থেকে নামের পাশে যোগ করেন ২০১০ রান। অপরদিকে, বল হাতে নিয়েছেন ১২১ উইকেট। রেকর্ডের অপেক্ষায় মুখিয়ে থাকবে সাব্বির রহমান ও মোস্তফিজুর রহমানও ।

সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েই এশিয়া কাপের জন্য সাব্বির রহমানকে জাতীয় দলে ডাকেন। সাব্বির রহমান টাইগারদের সঙ্গে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ২০১৯ সালে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই সিরিজেও তেমন ভালো ইনিংস উপহার দিতে পারেননি। গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও টি-টোয়েন্টির জন্য দলে জায়গা পাননি এই হার্ড হিটার। কিন্ত এশিয়া কাপের একাদশে দেখা যাবে তাকে। এশিয়া কাপে সাব্বির রহমানের জন্য এক মাইলফলক অপেক্ষা করছে।

টি-টোয়েন্টি সংস্করনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের হয়ে সাব্বির রহমানের অভিষেক হয়েছে ২০১৪ সালে। এরপর থেকে এপর্যন্ত ৪৪টি ম্যাচ খেলেছেন। এই ৪৪ ম্যাচের স্ট্রাইকরেটই বলে দেয় ২০ ওভারের ক্রিকেটের জন্য সাব্বিরের প্রয়োজনীয়তা। ৪৪ ম্যাচে গড়ে প্রায় ২৫ রান করে তুললেও তার স্ট্রাইকরেট ছিল প্রায় ১২১। যা যে কোনো ব্যাটারের জন্যই ইতিবাচক দিক। কোনো সেঞ্চুরি পাননি। হাফসেঞ্চুরির সংখ্যাও কমই। ৪৪ ম্যাচে মাত্র চারবার হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। তবে তার মোট রান ৯৪৬। হাজারা রানের মাইলফলকে পৌঁছাতে সাব্বিরের প্রয়োজন মাত্র ৫৪ রান। যা এই এশিয়া কাপে অর্জন করার সর্বোচ্চ সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে সপ্তম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হাজার রানের মাইলফলকে পা রাখবেন তিনি। সাব্বিরের আগে হাজার রান করা ছয় ব্যাটারের মধ্যে শীর্ষে আছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর পর্যায়ক্রমে আছেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। এদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান দুই জনই ২ হাজার রানের মাইলফলক জয় করেছেন।

অপরদিকে, টি-টোয়েন্টিতে শত উইকেটের মাইলফলক জয়ের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশের বিস্ময় কাটার মাস্টার মোস্তফিজুর রহমান। বর্তমানে মোস্তাফিজের ঝুলিতে আছে ৯১ উইকেট। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে টাইগাররা খেলবে মাত্র দুইটি ম্যাচ। দুই ম্যাচে নয় উইকেট অনেকটাই কষ্টসাধ্য। তবে কাটার মাস্টার তার পুরনো জাদুর প্রয়োগ করতে পারলে অসম্ভব কিছু নয়। বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের একজন বোলারই শত উইকেটের মাইলফলক জয় করেছেন। তিনি আর কেউ নন, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত বছর মিরপুরে এই রেকর্ড গড়েন তিনি। ১০০ উইকেট নিতে সাকিব আল হাসানের খেলতে হয়েছে ৮৪ ম্যাচ।

এদিকে মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো পর্যন্ত খেলেছেন ৬৯ ম্যাচ। আগামী দুই কিংবা তিন ম্যাচেও নয় উইকেট নিতে পারলে সাকিব আল হাসানের চেয়েও দ্রুত শততম উইকেটের রেকর্ড গড়বেন তিনি। আগামী দুই তিন ম্যাচে মোস্তাফিজ এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে ক্রিকেট বিশ্বের দ্বিতীয় বোলার হবেন তিনি। কেননা মাত্র ৫৩ ম্যাচেই ১০০ উইকেট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছেন রশিদ খান। এরপর ৭৬ ম্যাচে ১০০ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন লাসিথ মালিঙ্গা। তৃতীয় স্থানে সাকিব আল হাসান। তার বর্তমান উইকেট সংখ্যা ১২১। সাকিবের সমান ম্যাচে ১০০ উইকেট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App