সাকিব-মোস্তাফিজের সেঞ্চুরি, হাজারের অপেক্ষায় সাব্বির

আগের সংবাদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে পথশিশুরা

পরের সংবাদ

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ বিল পাস

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২২ , ১১:২২ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০২২ , ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার এবং মানসম্মত চিকিৎসক তৈরির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষার মান বজায় রাখতে ও মান সম্মত ডাক্তার তৈরিতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। সোমবার (২৯ আগস্ট) রাতে সংসদ অধিবেশনে নতুন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়। এর আগে নতুন ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান এমপিগণ।

এর আগে বিলটির ওপর বিরোধী দলীয় সদস্যদের আপত্তি ও সংশোধনী ভোটে নাকচ হয়ে যায়। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ বিলটির বিরোধিতা করে গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ওপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। এটি যে যে ভাবে পারে সে ভাবে বেতন-খরচ আদায় করছে। এখানে পড়ানো ধনী শ্রেণি ছাড়া সম্ভব নয়। বিএনপির হারুন অর রশীদ বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতটাই খারাপ যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পয়সার লোভে অযোগ্য শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের চেয়ে অবনমন ঘটবে।

তিনি মনে করেন, সরকারের আনুকূল্যে বেসরকারী মেডিকেল কলেজগুলো প্রচুর অর্থ ব্যয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করে সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেবে। আর সেখানে চিকিৎসার নামে রোগীর গলা কাটা হচ্ছে। তিনি সরকারের নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন এবং ফিসসহ সব কিছুর মান বেঁধে দেবার দাবি জানান। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, পীর ফজলুর রহমান ও রওশন আরা মান্নান এ বিলটি আরও যাচাই বাছাই এর জন্য পুনরায় কমিটিতে ফেরত পাঠাতে বলেন।

তারা বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেছেন অলাভজনক। কিন্তু এতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা বলেন, এসব কলেজে একটা আইসিইউ এর খরচ কত, ভর্তি খরচ কত, এসব কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা এটিকে অলাভজনক বললেও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টালকলেজগুলো রোগীর গলা কেটে অর্থ আদায় করছে। এরা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে ।

বেসরকারী মেডিকেল কলেজ আইনকে একটি অবাস্তব আইন মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেসব ক্রাইটেরিয়া এদের সরকার বেঁধে দিয়েছে তাতে একজন ছাত্রের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এখানে পরিকল্পনাহীনভাবে বিলটি আনা হয়েছে। তিনি সরকারকে স্থান ও ব্লিডিং তৈরি করে দেবার আহ্বান জানান। তিনি সরকারকে পুনরায় বিলটি যাচাই বাছাই করার জন্য কমিটিতে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানান।

প্রতিউত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজের ফিস আমরা নির্ধারণ করে দিয়েছি। কোভিডের সময়ও আমরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছি। দেশে মোট ৭২টি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ রয়েছে। যারা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিরোধীদের কয়েকটি সংশোধনীর মধ্যে ৫, ৩১, ৪৩ এ তিনটি গ্রহণ করেন।

পরে বিলটি ধ্বনী ভোটে সংসদে পাস হয়ে যায়। এর ফলে দেশের যে কোনো স্থানে সরকারের দেয়া ক্রাইটেরিয়া মেনে যে কেউ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করতে পারবে। এটি সকলের জন্য উম্মুক্ত থাকবে। এতে কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে- ন্যূনতম ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে, ন্যূনতম ২ একর জমির ওপর নির্মিত হতে হবে, মেট্রোপলিটন এলাকায় ১ একর হলে চলবে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজতে ন্যূনতম তিন কোটি টাকা ও ডেন্টাল কলেজকে ২ কোটি টাকা তফশিল ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। এ কলেজগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, বা পরিচালক সভাপতি হবেন। ওই কলেজের একজন ডিন থাকবে। এবং অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক থাকবেন। সরকার একটি পরিদর্শন কমিটি নিয়মিত কলেজগুলো পরিদর্শন করে মান নিয়ন্ত্রণ করবে।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়