ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় বখাটের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত

আগের সংবাদ

২,৩৬৩টি কেন্দ্রে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি ১ সেপ্টেম্বর থেকে

পরের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কথা বিএনপির অনেকে বিশ্বাস করে: গয়েশ্বর

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২২ , ৪:৩৮ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০২২ , ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা বিএনপির অনেক নেতা বিশ্বাস করে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, আমাদের কোন কোন নেতা বলে সরকার বিদেশীদের চাপে আমাদের কর্মসূচিতে ঝামেলা করছে না। দুইটা প্রাণ কেড়ে নিলো তারপরও বলছে ঝামেলা করছে না।

রবিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন: ইভিএম মেশিন ও আজকের গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী প্রজম্ম ৭১ নামের একটি সংগঠন এই সভার আয়োজন করে।

সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সমাবেশ বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে সরকারকে বিদেশিরা চাপে রেখেছে। তাই বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে সরকার কোনো ঝামেলা করছে না। তিনি বলেছেন, এখন তারা (সরকার) দেখাচ্ছে যে বিরোধী দলকে সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছি। তারা দেখাচ্ছে, আমরা তো গণতান্ত্রিক দল, আমরা কোনো ঝামেলা করি না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কেউ কেউ বিশ্বাস করবে আগামী নির্বাচনে আমাদেরকে আশ্বস্ত এবং বিশ্বাস তৈরি করার জন্য সরকার আর কোন ঝুট ঝামেলা করবে না। যারা এই কথা বিশ্বাস করে তারা আওয়ামী লীগকে চিনে না। আওয়ামী লীগ যা করে তার উল্টোটা করে। আওয়ামী লীগ এর কথা শোনা তাদের কথার উত্তর দেয়া আর তাদের স্বীকার করে নেয়া সমান। তাই আমরা কি করবো আমাদের কি করা উচিত সেইটা নিয়ে ভাবতে হবে।

গয়েশ্বর বলেন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত মানুষ বিশ্বাস করতো বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এক শ্রেণী বিশ্বাস করছে নির্বাচনে কিভাবে যায়, আবার আরেক শ্রেণী মনে করছে নির্বাচনে যাবে। এটা সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন কথাবার্তা যেটা পর্দার অন্তরালে। এখন আমরা যারা বসে আছি তাদের মধ্যে কে সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছি সেইটা চিন্তার বিষয় না। এবং আমাদের রাতের অন্ধকারে কে কার সাথে যোগাযোগ করছে, কাকে কি আসনের নিশ্চয়তা দিতেছে, কাকে টাকা দিতেছে এগুলো আমাদের জানা নাই। কিন্তু এই কথা যাচাই করা বা প্রমাণ করারও সুযোগ নাই। আকাশে বাতাসে এই কথাগুলো ভাসতেছে। কিন্তু জনগণের সন্দেহ যেটা রয়েছে সেই জায়গাটা পরিস্কার করতে হবে রাজপথের আন্দোলনে।

আলোচনা সভার আলোচ্য সূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন ,আজকে দেশে গণতন্ত্র নাই। তাই গণতন্ত্রের আলোচনা হয় না। আর আমরা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ এই সরকারের অধীনে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাবো না। আমাদের নেতাদের মুখ থেকে এটা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। সকল নেতাকর্মীরা এতে বিশ্বাস করে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়। সুতরাং যেখানে এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন নয় সেখানে ইভিএম নিয়ে কোন কথা নয়।

তিনি বলেন, আজকেই পেক্ষাপটে সরকারের পতন এবং এর কৌশল নির্ধারণ তার প্রস্তুতি এবং কি কি কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো যায় সেই আলোচনা হওয়াই উচিত। এবং এটি আমাদের জন্য বেশি জরুরি।

গয়েশ্বর আরো বলেন, আমরা ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা বলেছিলাম এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, খালেদা জিয়া মুক্তি না হলে নির্বাচন নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তে থাকি নাই। খালেদা জিয়া এখনও মুক্তি হন নাই। এখনও ওই যে পুরানো কথাটা, নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সংশয় থাকে যে বিএনপি এখন বলছে নির্বাচনে যাবে না পরে যদি আবার যায়। এই সংশয়টা কাটিয়ে উঠার দ্বায়িত্ব আমাদের। আমাদের কর্ম, কর্ম পদ্ধতি, আন্দোলনের কর্মসূচিতে আমাদের আন্তরিকতা এর মধ্যেই নির্ভর করে জনগণের মাঝে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা।

আওয়ামী লীগ আর ভারতের গোপন ডাইরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফাঁস করে দিয়েছেন মন্তব্য করে গয়েশ্বর বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই আমি। তাকে বেকুব বললে আওয়ামী লীগ বলতে পারে। কিন্তু আমি তাকে ধন্যবাদ জানাবো কারণ ভারত – বাংলাদেশের মধ্যে সিক্রেট ডায়েরিটা সে প্রকাশ করে দিয়েছে। ভারত বাংলাদেশের মাঝে একটা লেনদেনের সম্পর্ক আছে এখানে সে রাজসাক্ষী।

গয়েশ্বর বলেন, একটা পজিটিভ দিক হলো বিএনপি এখন শুধু মার খায় না, তারা মার দেয়। এটা বিএনপির জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ। জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার যুদ্ধে অনেক রক্ত যাবে, অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে। জনগণের জন্য বিএনপিকে এই যুদ্ধে নামতেই হবে।

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্য তিনি বলেন, পুলিশকে আক্রমণ করা ঠিক নয়। তারা কর্তব্য পালন করছে। যদি তারা বাড়াবাড়ি করে আর জনগণ মনে করে ইউনিফর্মকে সম্মান করবে না তাহলে কিছুই করার নেই।

জাতীয়তাবাদী প্রজম্ম ৭১ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির কার্য নির্বাহী সদস্য মীর শরাফত আলী সপু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়