রিজার্ভসহ আর্থিক সংকট : বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হতে যাবে কেন?

আগের সংবাদ

নিরাপত্তাহীন নির্মাণের খেসারত

পরের সংবাদ

ক্ষমতাই কাঙ্ক্ষিত হয়ে পড়েছে

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২২ , ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০২২ , ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

শেষ বিচারে ব্যাপারটা ক্ষমতারই। মানুষ ক্ষমতা চায়। ক্ষমতাহীন হলে তাকে হতাশায় পায়। আর হতাশা যত বাড়ে ততোই বৃদ্ধি ঘটে ক্ষমতাহীনতার বোধের। তখনই বোধ হয় তার চিন্তায় আসে আত্মহত্যার। আর যার ক্ষমতা আছে সে ক্ষমতা দেখায়। ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এমনকি হত্যাও করে মানুষকে। আমেরিকায় বন্দুকধারীরা ক্ষমতাবান, ক্ষমতা প্রদর্শন করে জানিয়ে দিতে চায় যে তারা আর যাই হোক না কেন ক্ষমতাহীন নয়। বন্দুক সেখানে আর পাঁচটা সওদাপাতির মতোই দোকান থেকে কেনা যায় এবং সেটা নাকি দরকার পড়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই। তাই যত বেশি হত্যাকাণ্ড বন্দুকের ততো বেশি আবশ্যকতা, যুক্তি এই রকমেরই। সেজন্য বন্দুক কেনাবেচার ওপর নিয়ন্ত্রণের আইন জারি করা দুঃসাধ্য। পেছনে অবশ্য অন্য এক ঘটনাও আছে। সেটা হলো বন্দুক প্রস্তুতকারকদের বাণিজ্যিক স্বার্থ। সেটাই প্রধান।
ক্ষমতার ওই প্রতিদ্ব›িদ্বতার কারণেই তো এক দেশের সঙ্গে অপর দেশের যুদ্ধ বাধে। এবং ব্যক্তি বন্দুকধারীদের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যা ঘটে রাষ্ট্রীয় যুদ্ধেও অবিকল ঠিক সেটাই ঘটে থাকে, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যে যুদ্ধ তাতেও উলুখাগড়ার প্রাণহানির ঘটনাই তো দেখছি। যুদ্ধটা আসলে আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার; মাঝখান থেকে প্রাণ দিচ্ছে নিরীহ ইউক্রেনবাসী। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের লোকেরা বলেছেন ইউক্রেনে ইতোমধ্যেই যে ধ্বংসলীলা ঘটেছে তার বর্ণনা করা দুঃসাধ্য। ৭০ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছে; তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। অপরদিকে রুশ সেনাবাহিনীর অসহায় সদস্যরাও মারা পড়ছে। রাশিয়া থেকেও মানুষ অন্যদেশে চলে যাচ্ছে। ইউক্রেন আক্রমণের পক্ষে রাশিয়া বিভিন্ন রকমের যুক্তি দিচ্ছে। প্রথমে বলছিল, ইউক্রেন আমেরিকা-নিয়ন্ত্রিত ন্যাটোতে যোগ দেবে এমন লক্ষণ দেখা গেছে; যোগ দিলে রাশিয়ার নিরাপত্তা ভীষণভাবে বিঘিœত হবে, শত্রæপক্ষ একেবারে দরজায় এসে ওঁৎ পেতে বসে থাকবে। সেটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। যুদ্ধের সময়ে আবার নতুন যুক্তি যুক্ত করেছে; বলা শুরু করেছে ইউক্রেনের সরকার সেখানকার রুশভাষী মানুষদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাচ্ছিল, সেজন্যই এই জাতীয়তাবাদী পদক্ষেপ। দুষ্কর্মের অবশ্যই ছলের অভাব হয় না। অভিসন্ধি মনে হয় ইউক্রেন থেকে একটি ভূখণ্ডকে বিচ্ছিন্ন করে নিজেদের দখলে নিয়ে আসা। আপাতত লাভ হবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের। তিনি বিরোধী দলকে পদানত করে রেখেছেন এবং জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা তৈরি করে জনগণকে শান্ত রেখে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। শেষ পরিণতি কী দাঁড়াবে সেটা অবশ্য ভিন্ন ব্যাপার। আমেরিকারও লাভ হবে। অস্ত্র বিক্রি করা, ইউক্রেনকে ঋণের জালে আবদ্ধ করা, আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষমতার বলয় বিস্তার ঘটানো, এসব সুবিধা তারা পেয়ে যাবে। তবে আমেরিকার নতুন প্রতিদ্ব›দ্বী চীন দমবে না, ওই সুযোগে চীনও তার শক্তি বাড়িয়ে নেবে। সবটা মিলিয়ে পুঁজিবাদের সংকট বৃদ্ধি পাবে এবং তাতে বিশ্ব আরো বিপন্ন হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর জো বাইডেনের কথা হয়েছিল চীনের শাসক প্রধান শি জিন পিংয়ের সঙ্গে। চীনের নেতা নাকি আমেরিকার নেতাকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে আগামীতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটা ক্ষয়ে যাবে, ভবিষ্যতে বিশ্বকে শাসন করবে স্বৈরতন্ত্র। ভুল বলেছেন বলে তো মনে হয় না। উলুখাগড়াদের নিস্তার নেই।
এই যুদ্ধে জিতবে কে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন কোনো পক্ষই জিতবে না; রাশিয়া নয়, ইউক্রেনও নয়। তবে হারবে কে সেটা কিন্তু নিশ্চিত রূপেই বলে দেয়া যাবে। হারবে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ; হারবে রাশিয়ার সাধারণ মানুষও। হারবে বিশ্বের সেই সব মানুষ যারা ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে খাদ্যশস্য না পেয়ে খাদ্যাভাবে ভুগবে। শিকার হবে মুদ্রাস্ফীতির। আর সুবিধা হবে চীনের। লড়াকু দুপক্ষের যুদ্ধের ফাঁক দিয়ে চীন আরো এগিয়ে যাবে বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তারের তৎপরতায়।
ইউক্রেনের ঘটনা নিয়ে প্রচুর হৈ চৈ হচ্ছে। তা হওয়া দরকারও বটে। পশ্চিমা বিশ্ব থেকে বলা হচ্ছে সেখানে গণহত্যা চলছে। একেবারে প্রথম দিন থেকেই বলা হচ্ছে পুতিনের এই অন্যায় আগ্রাসন গণহত্যা ভিন্ন অন্যকিছু নয়। সে তথ্য মোটেও ভ্রান্ত নয়। কিন্তু মিয়ানমারে যখন মস্ত বড় গণহত্যা ঘটল, লাখ লাখ অসহায় মানুষকে মেরেকেটে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে নারীধর্ষণ ঘটিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দেয়া হলো তখন কই কোনো আওয়াজ তো শোনা গেল না। গণহত্যা যে ঘটছে সেটা টের পেতেও তো পশ্চিমা বিশ্বের লেগে গেল তিন বছর। জাতীয়তাবাদী রাশিয়া ও জাতীয়তাবাদী চীনের কথা আলাদা, তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ দেখছে এবং নীরব রয়েছে, অর্থাৎ সমর্থন জানাচ্ছে মিয়ানমারের নৃশংস সামরিক শাসকদের। বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী এবং অতিশয় বন্ধু রাষ্ট্র হচ্ছে ভারত, সেও তো নীরব রইল। পরে বরং ভারত সরকারের লোকদের মুখে শোনা গেল যে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা ভারতে ঢুকে পড়ছে, তাদের তাড়াতে হবে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা নিরীহ মানুষ। বেজায় গরিব, তাদের দমিয়ে রাখা হয়েছে, বঞ্চিত করা হয়েছে সর্বপ্রকার নাগরিক অধিকার থেকে; সর্বোপরি তারা তো ইউরোপীয় নয়, তাদের গায়ের রং তো সাদা নয়, তাদের কান্না কে শোনে? কেউ শুনছে না।
ফিলিস্তিনিদেরও তো একই অবস্থা। সেখানে জবরদখল চলেছে সেই ১৯৪৮ সাল থেকেই। ভূমি দখলের পর ইসরায়েল যা ঘটিয়েছে তা গণহত্যাই। এখনো প্রায় প্রতিদিনই সেই হত্যাকাণ্ড চলছে। ফিলিস্তিনি বলে পরিচিত সাংবাদিকরাও নিরাপদে নেই। কিন্তু কই মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তো সে ঘটনা নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বেগ দেখা যায় না। উল্টো তারা আগ্রাসী, গণহত্যাকারী, বর্ণবাদী ইসরায়েলকেই সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে। নীরবে তো অবশ্যই, কখনো কখনো সরবেও। কারণ ইসরায়েল পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের আপনজন। ফিলিস্তিনিরা দরিদ্র এবং তারা আরব। ইহুদিরা টাকাওয়ালা, তাদের রাজনৈতিক শক্তি মস্ত বড়।
ইরাকে, আফগানিস্তানে, সিরিয়াতে, লিবিয়াতে পশ্চিমারা যে আগ্রাসন চালিয়েছে তা ইউক্রেনে রুশ অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ংকর। কিন্তু তাতে পশ্চিমাদের বিবেক বিন্দুমাত্র কাঁপেনি। পশ্চিমা কোনো শক্তিই সেখানে সাম্রাজ্যবাদী মানবাধিকার লঙ্ঘন দেখতে পায়নি। ইরাকে বিপুল পরিমাণ ওয়েপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন মজুত আছে ইরাক আক্রমণের এই অজুহাতটা ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। মার্কিনিরা সেখানে তেমন কোনো অস্ত্র খুঁজে পায়নি। তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে। জানাই ছিল যে পাবে না।
তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তাদের ওই কাজটা যে অন্যায় ও বর্বরোচিত ছিল তা নিজের অজান্তে, অন্যমনস্ক অবস্থাতে স্বীকারও করে ফেলেছেন। স্বকণ্ঠে তিনি বলেছেন যে, এক ব্যক্তি ইরাকে ওই অন্যায়, বর্বর কাণ্ডটি ঘটিয়েছে। তার ওই উক্তিতে প্রবল হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। কারণ ইরাকে গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিটি তো অন্য কেউ নন, তিনি নিজেই। নিজেই নিজেকে অভিযুক্ত করেছেন, ক্ষণিকের জন্য হলেও। অবচেতন মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা সত্যটা বেরিয়ে এসেছে সতর্কতার পাহারাকে ফাঁকি দিয়ে। তবে ক্ষণিকের জন্যই বটে, কারণ হাস্যরোল শুনে পর মুহূর্তেই তিনি নিজেকে সামলে নিয়েছেন। বলেছেন যে ইরাকের নয়, তিনি বলতে চেয়েছিলেন ইউক্রেনের কথা। তা ইরাক আর কত দূরে ইউক্রেন থেকে? ঘটনা তো একই। অন্যায় ও বর্বর আক্রমণ। নেকড়ের ঝাঁপিয়ে-পড়া নিরীহ মেষশাবকের ওপর। এক্ষেত্রে পুতিন যা বুশও তা-ই। নামেরই যা ফারাক। হিটলারও তাদের কাছের মানুষই।
লজ্জা পেয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ওই অনুষ্ঠানে পাল্টা হাস্যরস সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। তা তাদের জন্য ওসব ব্যাপার হাস্যরসের বিষয় বটে, খেলাধুলাই এক প্রকারের; কিন্তু পীড়িত বিশ্বের উলুখাগড়াদের জন্য তা প্রাণঘাতী।
আমরা আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলছিলাম। সাভারে আত্মহত্যা করেছেন অটোরিকশা চালক কাজী নাজমুল। হাইওয়ে পুলিশ তার অটোরিকশাটি কেড়ে নিয়েছিল। সেটি তার নিজের নয়, মালিকের। মালিক তাকে জানিয়েছে তিন হাজার টাকা লাগবে অটোরিকশা ছাড়িয়ে আনতে। ভাড়া করা ঘরে ফিরে নাজমুল তার স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘আমি শেষ।’ নাজমুলের স্ত্রী গার্মেন্টসে কাজ করেন। বোঝেননি যে স্বামী সত্যি সত্যি নিজেকে শেষ করে দেবেন। কারখানায় কাজে গিয়েছিলেন, ঘরে ফিরে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন আড়ের সঙ্গে স্বামীর দেহ ঝুলছে। মৃত।
অটোরিকশার চালকদের ওপর পুলিশি জুলুম অভিনব কোনো ঘটনা নয়। আমাদের দেশে যখন থেকে ওই বাহনটি চালু হয় ঠিক তখন থেকেই এর চালকরা অভিযোগ করে আসছেন যে তারা নিরাপদে নেই; পুলিশ তাদের ওপর জুলুম চালাচ্ছে। পাকিস্তান আমলে, ১৯৬৮-তে অটোরিকশা চালকরা সংঘবদ্ধ ছিলেন, তাদের সংগঠন ছিল। সেই সংগঠন মওলানা ভাসানীকে তাদের অভিযোগ জানিয়ে হরতাল ডাকার অনুরোধ করে। মওলানা সাড়া দিয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালের ৭ ডিসেম্বরের সেই হরতাল অপ্রত্যাশিত ও অভূতপূর্ব রূপে সফল হয়েছিল। কারণ মানুষ তখন ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে। বস্তুত ওই হরতাল থেকেই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সূচনা ঘটে। তারপর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, যুদ্ধে পাকিস্তানের বিদায় ঘটেছে, কিন্তু পুলিশের জুলুম এখনো বহাল আছে, শুধু আছেই না, বৃদ্ধিও পেয়েছে। যা নেই সেটা হলো তাদের সংগঠন, নেই মওলানা ভাসানীও। আজ তাই সত্য হচ্ছে ব্যক্তিগত হতাশা এবং পরিণতিতে ভাড়া-ঘরের আড়ে ঝুলে নাজমুলদের আত্মহত্যা। মানুষ যাতে ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে তার চেষ্টা সমানে চলছে। অন্য কেউ নয় স্বয়ং রাষ্ট্রই তা করছে; পাকিস্তানি রাষ্ট্র যতটা না পেরেছে বাংলাদেশি রাষ্ট্র পারছে তার চেয়ে বেশি। মানুষকে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে নিজ নিজ সমস্যা নিয়ে এবং সংগঠন গঠনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার কাজে কোনো বিরাম নেই।
আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে অহরহ। সম্পূর্ণরূপে হতাশ হয়ে ক্ষমতাহীন নিরুপায় মানুষ আত্মহত্যা করলে তবু বলা যাবে সেটা স্বইচ্ছায় ঘটানো হয়েছে। কিন্তু বাঁচার ইচ্ছা রাখে, এমন মানুষ তো অহরহ এবং ক্রমবর্ধমান হারেই প্রাণ হারাচ্ছে। যেখানে সেখানে। স্বামী স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন, এমন ঘটনা কাগজে পড়ছি; পাশাপাশি এই খবরও পাওয়া যায় যে, স্বামীকে হত্যা করে স্ত্রীও থানাতে গেছেন চলে, আত্মসমর্পণের জন্যই। ভেবেছেন যে থানাতে গেলে আপাতত পুলিশের হয়রানির হাত থেকে বাঁচবেন, পরে কী ঘটে সেটা পরে দেখা যাবে।
চট্টগ্রাম শহরে উন্নয়ন চলছে, আর তারই নিচে খোলা নর্দমায় পড়ে বেমালুম নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে মানুষ, পত্রিকায় সে খবর আমরা পাই। আমরা মন্তব্যও করে থাকি। কিন্তু উন্নতির মরণাঘাত তো ঢাকা-চট্টগ্রাম মানে না। ঢাকার মিরপুরে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক পথচারী, ওপর থেকে মাথায় এসে পড়েছে উন্নতির বার্তাবহ নিরেট একটি ইট। মেট্রোরেলের। এবং ঘটনাস্থলেই পথচারীর মৃত্যু ঘটেছে। হত্যা ও আত্মহত্যার করুণ এই দিনপঞ্জি লেখা থামবে কবে কে জানে?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়