মানবাধিকার পরিস্থিতি জাতিসংঘকে জানালেন ১৫ বিশিষ্ট জন

আগের সংবাদ

কেমিক্যালের গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নিতে গাফিলতি কেন?

পরের সংবাদ

মায়ের দুঃখ আর দূর করা হলো না শরীফের

প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২২ , ১২:২২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২২ , ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

# ৬ জনের মরদেহ শনাক্ত

কুমিল্লার চান্দিনার বাসিন্দা বাবা মিজান মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন অনেকদিন ধরেই। তাই কাজকর্ম তেমন করেন না বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে কোনরকম দিনিপাত করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন মা ফাহিমা। তাই মায়ের দুঃখ দুর করতে মাত্র ২০০ টাকা রোজে বরিশাল হোটেলে গ্লাস বয়ের চাকরি নেয় ১৬ বছর বয়সী মো. শরীফ। তবে মায়ের দুঃখ আর দুর করা হলো না তার। রাজধানীর চকবাজারের দেবী ঘাটে বরিশাল হোটেলে আগুনের ঘটনায় মৃত্যুর সঙ্গে অলিঙ্গন করে এখন শুধুই স্মৃতি মো. শরীফ।

শুধু শরীফই নয় গতকাল মর্মান্তিক এ আগুনের ঘটনায় ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। নিহত বাকিরা হলেন- বিল্লাল সরদার (৩৫), উসমান সরদার (২৫), স্বপন সরকার (১৮), রুবেল (২৮) ও মোতালেব (১৬)। দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া সবাই হোটেলটিতে কাজ করতেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) মর্গে রাখা হয়েছে। সেখানেই নিহত শরীফের নানা আবুল কাসেমের সঙ্গে কথা হয় ভোরের কাগজের। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, পরিবারের কষ্টের কথা শুনে আমি ছেলেটিকে হোটেলে কাজ ঠিক করে দেই। সেখানে খেতে আসা ব্যক্তিদের পানি দেয়া ও ধোয়া-মোচার কাজ করতো শরীফ। এখন ছেলের এ খবর শুনে মা-বাবা পাগল প্রায়। কেন আমি ছেলেটিকে এখানে আনলাম বলে ডুকরে কেদে ওঠেন তিনি।

আগুনে নিহত বরিশালের মুলাদি বিল্লাল সরদারের চাচাতো ভাই ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, গত রবিবার রাতেও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয় তার। সে সময় পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তাদের। কে জানতো এই কথাই শেষ কথা হবে তার ভাইয়ের সঙ্গে বলে কেদে ওঠেন তিনি। কাদতে-কাদতে বলেন, স্ত্রী তানিয়াসহ তানভীর, সুমাইয়া ও তালহা নামে তিন সন্তান রয়েছে তার। পুরো সংসারই নির্ভর করতো ভাইয়ের আয়-রোজগারের ওপর। এখন তার সন্তানদের কী হবে। আগুনে নিহত হোটেল মেসিয়ার রুবেলের বড় ভাই মো. আলী বলেন, গাজীপুরের একটি গামেন্টসে কাজ করতো রুবেল। তবে সেখান থেকে চাকরি চলে যাওয়ায় সাময়িক হোটেলের কাজে ঢুকে সে। স্ত্রী কনকসহ আরিয়ান নামে তিনবছর বয়সী ছেলে রয়েছে তার। এখন তাদের কী হবে? হোটেলটির পরোটার কারিগর স্বপন সরকার পৌনে ১২টার দিকে ফোন করে খালাতো ভাই বাদশা সরকারকে আগুন লাগার খবর জানান। তবে খবর পাওয়ার পরই তার মোবাইল ফোনের লাইন কেটে যায়। অনেক চেষ্টা করেও লাইন পাওয়া যায়নি।

গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালের মর্গে এসে ভাইয়ের লাশের সন্ধান পান তারা। এ সময় দগ্ধদের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সিআইডির ফরেনসিক টিম হাসপাতালে নিহতদের লাশ পরিদর্শন শেষে জানান, নিহতের মরদেহ খুব বিকৃত আকারে পুড়ে যায়নি। চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ছয়জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়