মায়ের দুঃখ আর দূর করা হলো না শরীফের

আগের সংবাদ

ইমরান খানের স্বীকারোক্তি

পরের সংবাদ

কেমিক্যালের গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নিতে গাফিলতি কেন?

প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২২ , ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২২ , ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর চকবাজারে কারখানায় আবারো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে চকবাজারের দেবীদ্বার ঘাটে একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। রাসায়নিক দাহ্য থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরান ঢাকায় রাসায়নিক থেকে কারখানায় অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে যেসব সুপারিশ করেছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ঢাকার রাসায়নিকের কারখানা আর গুদামগুলো সরিয়ে নেয়া। ২০১০ সালের ১৫ জুন ওই কমিটির প্রতিবেদনে যে ১৭টি সুপারিশ করা হয়েছিল কিছু কিছু বাস্তবায়ন হলেও আসল কাজটিই করা সম্ভব হয়নি গত ১১ বছরে। ঢাকাবাসীর এখন একটা প্রশ্ন, আর কত মানুষ মারা গেলে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন সরবে? ২০১০ সালে ৩ জুন নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ মানুষের প্রাণহানির জন্য কেমিক্যালের গুদামগুলোকে দায়ী করা হয়। এছাড়া ২০১৯ সালের চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ৭০ জন নিহত হন। কেমিক্যালের গোডাউন, প্লাস্টিক দ্রব্যসহ দাহ্যপদার্থের বিশাল ভাণ্ডার হয়ে রয়েছে পুরান ঢাকা। বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই এলাকাটিকে বোমা সদৃশ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন। কিছুদিন পর পর এলাকাটিতে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। অসংখ্য মানুষ জ্বলেপুড়ে মৃত্যুবরণ করছে। নিমতলী ও চকবাজার অগ্নিকাণ্ডকে মানবসৃষ্ট বিপর্যয় বললে অত্যুক্তি হবে না। আমরা জানি, রাসায়নিক পদার্থ অত্যন্ত দাহ্য। তা আগুনের সংস্পর্শে এলে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, নিমতলী ও চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে সে অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। আমরা মনে করি, আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনগুলো স্থানান্তরের কোনো বিকল্প নেই। ২০১০ সালের ১৫ জুন কমিটি সুপারিশে উঠে এসেছিল এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার তথ্য। কীভাবে অনুমোদন ছাড়াই বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ আমদানি, উৎপাদন, মজুত, পরিবহন ও বিক্রি হচ্ছে সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ এসব গুদাম সরাতে তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় এ উদ্যোগ থেমে যায়। রাসায়নিকের কারখানা ও গুদামগুলো সরানোর দায়িত্বে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২০১৭ সালের মার্চে একবার অভিযান শুরু করলেও কয়েক দিনের মাথায় তা থেমে যায়। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের (সংশোধিত ২০১০) ৬ ধারায় অবৈধভাবে গুদামজাত, বাজারজাতকরণের সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। অথচ আইনের তোয়াক্কা করে না ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন গুদামে রাসায়নিকসহ দ্রব্য সংরক্ষণ করে। এটা দেখভাল করার দায়িত্ব কার? স্থায়ী সমাধান একটাই- কেমিক্যালের কারখানা স্থানান্তর করা। কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল পল্লীর দ্রুত কাজ শেষ করে রাসায়নিক পদার্থের সব কারখানা স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে এখনই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়