আগস্ট যাক দেখি কেমন ব্যাটা তোমরা, বিএনপিকে মায়া

আগের সংবাদ

মানবাধিকার পরিস্থিতি জাতিসংঘকে জানালেন ১৫ বিশিষ্ট জন

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুময় সাংস্কৃতিক অঙ্গন

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২২ , ৯:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২২ , ৯:১৫ অপরাহ্ণ

চিত্রকর্ম প্রদর্শনী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত বইয়ের পাঠ ও পর্যালোচনা, কারাগারের রোজনামচা ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে পাঠ, কবিতায় বঙ্গবন্ধু শ্রাবণের শোকগাঁথা, নৃত্যনাট্য, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সবই ছিল বঙ্গবন্ধুময়। নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাজানো ছিলো সাংস্কৃতিক অঙ্গণের শোক দিবসের কর্মসূচি।

সোমবার (১৫ আগস্ট) স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস জাতীয়ভাবে পালনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরাও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করেছে।

বাংলা একাডেমি
সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন (অর্ধনমিত) করার মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস স্মরণে দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলা একাডেমি। একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার নেতৃত্বে সকালে ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে এবং বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে স্থাপিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় একাডেমির সচিব এ. এইচ. এম. লোকমান, পরিচালক, উপপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ই আগস্টের শহিদ স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সাড়ে ১২টায় বাংলা একাডেমির প্রধান ফটক থেকে জাতীয় শোক দিবস স্মরণে অসচ্ছ¡ল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

বিকেলে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের জাতীয় পুরাণ নির্মাণে শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর অবদান’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু-সহ ১৫ই আগস্টের শহিদ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফ্রান্সের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড সিভিলাইজেশনস-এর ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জেরেমি কদ্রন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রাক্তন প্রধান সমন্বয়ক কবি কামাল চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

অধ্যাপক জেরেমি কদ্রন বলেন, বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের জাতিপুরাণ নির্মাণে বাংলাদেশের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের ভূমিকা অসামান্য। শেখ মুজিবুর রহমান সঙ্গতই উপলব্ধি করেছিলেন জাতীয় পুরাণ নির্মাণে ঐতিহ্য ও সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। তার আত্মজীবনীতে তিনি নিজ বংশ এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের সুদীর্ঘ পরম্পরা সন্ধান করেছেন এবং তার উপর ভিত্তি করেই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তির মহাপুরাণ নির্মাণ করেছেন।

কামাল চৌধুরী বলেন, বাঙালির শুদ্ধতম নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঐতিহাসিক এক মহাজীবনে তাঁর সংগ্রাম, অর্জন ও আত্মত্যাগ কখনও বিস্মৃত হবার নয়। ঘৃণ্য ঘাতকেরা তাঁকে হত্যা করে বাঙালির ইতিহাসকে ভিন্ন খাতে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করতে চেয়েছিল কিন্তু বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও সমাধিস্থল টুঙ্গিপাড়া থেকে প্রতিনিয়ত নিয়ে চলেছে সাহস ও সংকল্প।

সেলিনা হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে সফল করার পাশাপাশি স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে আমাদের সামগ্রিক মুক্তির পথ সুগম করেছেন কিন্তু ঘাতকের দল তাঁকে হত্যা করে জাতি হিসেবে আমাদের অগ্রগতিকে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছে। আজ আমরা আবার বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পথে বাংলাদেশকে আলোকযাত্রায় এগিয়ে নিতে সংকল্পবদ্ধ হয়েছি।

শিল্পকলা একাডেমি
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সকল স্তরের কর্মকর্তা, শিল্পী ও কর্মচারীদের পুস্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এ দিনটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীর ৫টি স্থানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় ঢাকার ৫টি স্থান যথাক্রমে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা প্লাজা, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ভিআইপি লাউঞ্জ চত্বর, গেন্ডারিয়ার জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, গুলশান-২ এর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্ক এবং উত্তরার ৭ নং সেক্টরের ১ ও ২৭ নম্বর রোডে।

প্রতিযোগিতায় প্লে থেকে ৩য় শ্রেণি, ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি এবং ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিশুকিশোররা অংশগ্রহণ করে।

সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনয় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং নাট্যজন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান।

এরপর বাঁশি বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে কবি মহাদেব সাহার ‘কফিন কাহিন’ কবিতা আবৃত্তি করেন প্রজ্ঞা লাবনী। এরপর পরিবেশন করা হয় একক সংগীত, সমবেত সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, একক শিশু সংগীত ও নৃত্যালেখ্য। ইয়াসমীন আলীর কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘মুজিব আছে বাংলার ঘরে ঘরে’; কিশোর দাস এর কন্ঠে পরিবেশিত হয় একক সংগীত ‘হে বন্ধু বঙ্গবন্ধু তোমার কালো ফ্রেমের চশমাটা আমায় দাও’। ছাড়াও একক সংগীত, সমবেত সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, একক শিশু সংগীত ও নৃত্যালেখ্য ইত্যাদি পরিবেশনায় অংশ নিয়ে দর্শকমুগ্ধ করেন একাডেমির শিল্পীসহ বিভিন্ন শিল্পীবৃন্দ।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদদের স্মরণে সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জলনের আয়োজন করেছে। এ সময় সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, অভিনয় শিল্পী অরুণা বিশ্বাসসহ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

লাল জমিন
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একক নাটক মঞ্চায়ন করেছে শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটার। সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় নাটকটি। মান্নান হীরা রচিত ও নির্দেশিত এই নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মোমেনা চৌধুরী।

এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করেছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়