চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে আসুন

আগের সংবাদ

পরিবেশ বিপর্যয়ে সৈকতে ভাঙন

পরের সংবাদ

সিন্ডিকেটে চড়ছে চালের বাজার

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২২ , ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২২ , ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

প্রতি কেজিতে পরিবহন খরচ বেড়েছে ৫৮ পয়সা, বিপরীতে দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা

নওগাঁ থেকে ২৮০ বস্তা চাল রাজধানীতে নিয়ে আসতে ট্রাক ভাড়া লাগে ১২ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে বস্তাপ্রতি লেবার খরচ ও আড়তদারি বাবদ গুনতে হয় আরো ১৪ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি বস্তা চালের পরিবহন খরচ ৫৬ টাকা। সবমিলে এক ট্রাক চালের পরিবহন খরচ ১৫ হাজার ৯২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজি চাল নওগাঁ থেকে ঢাকায় আনতে খরচ হয় ১ টাকা ১২ পয়সা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এখন পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ৮ হাজার টাকা। সবমিলে খরচ হয় ২৩ হাজার ৯২০ টাকা। বর্তমান হিসাবে প্রতি কেজি চাল পরিবহনে খরচ বেড়েছে মাত্র ৫৮ পয়সা। কিন্তু অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে দেশের বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চালের মোকামগুলোতে অতিরিক্ত দাম হাঁকানো হচ্ছে। এজন্য অনেকে চাল আনা আপাতত বন্ধ রেখেছেন।

সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়। আর মাঝারি মানের মোটা চাল অর্থাৎ স্বর্ণা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়, বিআর ২৮ ও ২৯ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়। মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৪ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়। তবে জ¦ালানির দাম বাড়ার আগেও বিআর ২৮ চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৬৮ থেকে ৭২ টাকা ও নাজিরশাইলের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। তবে এই দাম বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। শুধু রাজধানীতেই নয়, সারাদেশে হু হু করে বাড়ছে চালের দাম। দেশের খাদ্যভাণ্ডার বলে খ্যাত উত্তরাঞ্চলের জেলা নওগাঁ ও দিনাজপুরের মোকামগুলোতে চালের দাম অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী। কুষ্টিয়ার মোকামে তা আরো বেশি। সেখানে প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

রাজধানীর কৃষি মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী মো. সাহাদতের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয় গতকাল শনিবার। তিনি বলেন, মোকামগুলোতে চালের দাম অনেক বাড়তি। জ্বালানির দাম বাড়ার পর প্রতি বস্তা চালের দাম দেড়শ থেকে আড়াইশ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে এই ব্যবসায়ী বলেন, আগে বিআর-২৮ চালের প্রতি বস্তার দাম ছিল ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এখন সেই চাল মোকামে কিনতে খরচ হবে ২ হাজার ৭০০ টাকা। সেই হিসাবে খরচসহ প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৫৮ টাকা। অথচ এই চাল গত সপ্তাহেও আমরা ৫২ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি করেছি। এই সংকটের কারণ কী- এমন প্রশ্নের জবাবে এই ব্যবসায়ী বলেন- প্রাণ, আকিজ, ফ্রেশ থেকে শুরু করে দেশে বেশ কয়েকটি বড় শিল্পগ্রুপ চালের বাজারে প্রবেশ করেছে। আর দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে শত শত বস্তা চাল কেনার কারণে মোকামের মালিকরাও চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর অতিরিক্ত দাম বাড়ার কারণে আপাতত চাল কেনা বন্ধ রেখেছেন বলেও জানান এই ব্যবসায়ী।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে চালের উৎপাদন চাহিদার চেয়েও বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন হয় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন। চাহিদা ছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার টন। সেই হিসাবে দেশে প্রায় ৮৬ লাখ টন চাল বেশি উৎপাদন হয়েছে। তবুও বিভিন্ন অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সংগ্রহ করতে না পারায় শুল্ক কমিয়ে বেসরকারিভাবে ১০ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। এতে খুব একটা সুফল মেলেনি। ১০ লাখ টনের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ১৯ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। আর নির্ধারিত সময়ে চাল আমদানি না হওয়ায় সময়ও বাড়িয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত চাল আমদানির এলসি খোলার সময় বাড়িয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া আমদানির লক্ষ্য অর্জনে আরো ১৫ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে আরো শুল্ক ছাড়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে জ¦ালানির দাম বাড়ায় অসাধু সিন্ডিকেট বাজারকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় হচ্ছে। মিল মালিকরা বলছেন, কৃষকরা ধান বিক্রি না করায় চালের সংকট সৃষ্টি হয়েছে; এ কারণে দাম বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের এ দাবির যথার্থতা মেলেনি। এ সময়ে কৃষকের গোলায় ধান থাকার কথা নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান কৃষকরা অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন যা ধান রয়েছে- তার পুরোটাই মিল মালিকদের কাছে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ করতে না পারায় বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গতকাল খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেনের সেল ফোনে বারবার যোগাযোগ করে এবং এসএমএস করেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, যারা অবৈধ মজুত করে চালের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মিলাররা ধান ৩০ দিন ও চাল ১৫ দিনের বেশি মজুত করে রাখতে পারবে না। যারা অবৈধভাবে মজুত করে রাখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পর্যাপ্ত উৎপাদন আছে, সরবরাহ আছে অথচ চালের দাম বাড়ছে। ধানের যদি ঘাটতি থাকত, তাহলে আমদানি করে তা পুষিয়ে নেয়া হতো। কিন্তু আমদানির লাইসেন্স দেয়ার পরও তো আমদানি করেননি। প্রতি সপ্তাহে চালের দাম বাড়ানো কোনোভাবে মেনে নেয়া হবে না বলেও জানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা উচ্চমূল্য নেয়ার জন্য এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী সময়ে চালের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরো বাড়বে। আর মোটা চালের দাম বাড়লে বেশি সমস্যায় পড়েন স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়ে সরকারের কড়া নজরদারি দরকার বলেও মনে করেন সরকারের সাবেক এই সচিব।
সারাদেশের চালের বাজার বাড়তি

কুষ্টিয়া : সপ্তাহের ব্যবধানে কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে চালের কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। মিলগেটে সবচেয়ে ভালো মানের সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত দেড় মাসে মিলগেটেই সব ধরনের চালের দাম ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। চালকল মালিকরা বলছেন, ধান ও ডিজেলের দাম বাড়ায় চালের বাজারে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। বাধ্য হয়ে চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। কুষ্টিয়ার পৌরবাজারের খুচরা ও পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট সকালেও খাজানগর মোকামে সরু চালের পাইকারি দর ছিল ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে গতকাল শনিবার সেই চাল বিক্রি হয়েছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি। কুষ্টিয়া পৌরবাজারে একই চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৩ টাকায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও ফ্রেশ এগ্রোফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক জানান, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মোকাম থেকে এক ট্রাক ধান খাজানগর পৌঁছতে আগে ভাড়া ছিল ১৬ হাজার টাকা। এখন সেই ট্রাক ভাড়া ২১ হাজার টাকা। একইভাবে ঢাকায় এক ট্রাক চাল পৌঁছাতে সমপরিমাণ টাকা লাগছে। এতে চালের দাম বেড়েছে। এছাড়া এক মাস আগেও যে ধান ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ ছিল, সেই ধান এখন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা। কৃষক ও ফড়িয়ারা কম দামে আর ধান বিক্রি করছেন না। এ অবস্থায় চালের বাজার বাড়াটাই স্বাভাবিক বলেও অভিমত এই ব্যবসায়ীর।

নওগাঁ : ধান-চালের অন্যতম বড় মোকাম নওগাঁয় পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি তিন থেকে চার টাকা বেড়েছে। নতুুন দাম অনুযায়ী মোটা চাল বলে খ্যাত স্বর্ণা-৫ প্রতি কেজি ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বাড়তি পরিবহন খরচ সমন্বয় করে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল আমদানি করা না গেলে আগামী তিন মাস চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে নওগাঁ শহরের পুরান চালপট্টি এলাকার কিরণ ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মোহন সরকার বলেন, জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিলগেটে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মিনিকেট চাল মিলগেটেই ৩ হাজার ৩০০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। আগে যেটার দাম ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা। এভাবে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছে মিল মালিকরা। আবার মিল থেকে দোকানে চাল আনা পর্যন্ত পথেও ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, মৌসুমের শেষ দিকে হওয়ায় বাজারে বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং মিলারদের মধ্যে ধান কেনার প্রতিযোগিতা থাকায় ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। জ¦ালানি এবং ধানের দাম বাড়ার কারণে বাজারে চালের দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে চালের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও অভিমত তার। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক চালকল মালিক বলেছেন, চলতি মৌসুমে ঢাকা থেকে এসে বিভিন্ন কোম্পানি ধানের বাজারে গিয়ে ধান কিনেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে চাহিদার তুলনায় বেশি ধান কিনে গুদামজাত করে রেখেছেন। যে কারণে চালের দাম বাড়লেও উৎপাদনে যাচ্ছেন না তারা।

দিনাজপুর : উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডার খ্যাত আরেক জেলা দিনাজপুরে চালের বাজারে অস্বস্তি বাড়ছেই। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৪ টাকা। জেলার বাহাদুর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহখানেক ধরে প্রতিদিনই চালের দাম বাড়ছে। আবার চাহিদা অনুযায়ী চাল দিচ্ছেন না মিলাররা। পাইকারি বাজারে গুটি স্বর্ণা-৫ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি দরে, মিনিকেট ৬৮ থেকে ৭০ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাহাদুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী এরশাদ জানান, প্রতিদিনই চালের দাম বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা। খুচরা বাজারেও বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিনাজপুরের এক মিল মালিক বলেন, চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মিল চালু রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আবার বাজারে ধানের সংকট থাকায় ঠিকমতো মিল চালানো যাচ্ছে না। এজন্য বাজারে চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।

চট্টগ্রাম : দীর্ঘদিন ধরে স্বস্তি মিলছে না দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের চালের বাজারে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর চালের দাম এখন আকাশচুম্বী। সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া চালে। প্রতি বস্তায় ৯০০ টাকা বেড়ে দাম গড়িয়েছে ৬ হাজার টাকায়। চট্টগ্রামের বৃহত্তর পাইকারি চালের বাজার পাহাড়তলীতে দেখা গেছে, মিনিকেট (চিকন চাল) ৫০ কেজির বস্তায় ৪০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, নাজিরশাইল ৪ হাজার টাকা, পাইজাম ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়ে জিরাশাইল সাড়ে তিন হাজার টাকা, চিকন মিনিকেট ২ হাজার ৭০০ টাকা, চিকন আতপ ৩ হাজার ৮০০ টাকা ও বিআর-২৮ জাতের চাল ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন বলেন, চালের বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। দিন দিন দাম বাড়ছে এবং তা ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চালের দাম বাড়ার কারণে আমাদের বেচাবিক্রিও কমে গেছে। জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে আমাদের এখন প্রতি ট্রাকে ৫ হাজার টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ বলেন, জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে আমরাও খুব বিপাকে পড়েছি। পণ্য আমদানি করতে গিয়ে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। আগে একটা ট্রাক ২১ হাজার টাকায় ভাড়া করলে এখন ২৭ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে পণ্যের দর স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে বলেও মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়