আগামীকাল ১৫ আগস্ট : বাঙালির স্তব্ধ শোকের দিন

আগের সংবাদ

সিন্ডিকেটে চড়ছে চালের বাজার

পরের সংবাদ

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে আসুন

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২২ , ১:৪১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০২২ , ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

ব্রিটিশ উপনিবেশ, পাকিস্তান আমল ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আজো চা শ্রমিকরা নিম্ন মজুরি আর মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের জীবন আজো দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি। এ থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন তারা। চা শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি দাবিতে ধর্মঘট করছেন। এ আন্দোলনের প্রতি আমরাও সংহতি জানাই। জানা গেছে, চা শ্রমিকরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করে ১২০ টাকা মজুরি পান। বর্তমান বাজারে এ টাকায় সংসার চালানো কঠিন। শ্রমিকরা ৩০০ টাকা মজুরি দাবি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। মালিকপক্ষ তাতে সাড়া দিচ্ছে না। পাঁচ দিন ধরে দেশের ৫টি জেলায় ২৪১টি চা বাগানে কয়েক ঘণ্টা করে চলছে ধর্মঘট। এ অবস্থায় চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চা শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের বড় ১০টি চা বাগান আছে আমাদের দেশে। চা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে নবম। প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চীন এবং ভারত। বাংলাদেশে নিবন্ধিত চা বাগান ও টি-স্টেট রয়েছে ১৬৭টি, এর মধ্যে সিলেট বিভাগে রয়েছে ১২৯টি। সুদীর্ঘ ১৮০ বছর ধরে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে চা শিল্প গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। দেশের সাধারণ মানুষের সামাজিকতা, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে চা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশে চায়ের চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে উৎপাদনও। ২০২১ সালে দেশে মোট চা উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি। চা-এর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চা-এর চাহিদা প্রায় ১০ কোটি কেজি। দুই দশক আগেও বাংলাদেশ থেকে কম বেশি ১ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা রপ্তানি হতো। আর এখন সেখানে খুবই সীমিত আকারে ৬-২০ লাখ কেজি রপ্তানি করা হয়। ২০২৫ সাল নাগাদ সরকার চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১৪ কোটি কেজি। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার ইতোমধ্যে নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। চা বোর্ড বলছে, ইতোমধ্যে নতুন ও উন্নত জাত উদ্ভাবনে গবেষণা বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদেরও চা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এতদিন শুধু পাহাড়ি অঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও সিলেটে চা উৎপাদিত হতো। এখন দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটের সমতল ভূমিতেও চা উৎপাদিত হচ্ছে। সরকারের এমন উদ্যোগ ভালো। তবে শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্যের বিষয় বারবার সামনে আসছে। মজুরি বৈষম্যসহ বিভিন্ন ধরনের বঞ্চনার কারণে চা জনগোষ্ঠীর মানুষ অন্যান্য নাগরিকদের চেয়ে অনেক পেছনে পড়ে আছে। তাদের গড় পারিবারিক আয় বাংলাদেশের জাতীয় বা গ্রামীণ দারিদ্র্যসীমা ও পারিবারিক আয়ের চেয়ে অনেক কম। চা শ্রমিকের আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা- এসবই যেন দুর্ভাগ্যের আয়না। তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব বাগান মালিকের। চা শ্রমিকদের প্রতি সুবিচার করতে হলে প্রথমেই শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা তাকে যেসব অধিকার দেয়, সেসব নিশ্চিত করতে হবে। এরপর সামাজিক নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্র তাদের জন্য যে বরাদ্দ রেখেছে, তা আরো বাড়াতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়