প্রধানমন্ত্রীর উপহৃত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিদর্শন জাদুঘরে হস্তান্তর

আগের সংবাদ

ট্রাম্পের বাড়ি থেকে অত্যন্ত গোপন ও স্পর্শকাতর নথি জব্দ

পরের সংবাদ

তহশিলদার-ইউপি সচিবরা ক্ষমতাধর ও দুর্নীতিবাজ: পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২২ , ৯:০০ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২২ , ৯:০০ অপরাহ্ণ

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের, কৃষি কর্মকর্তা, তহশিলদার ও ইউপি সচিবদের দুনীর্তি বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, তহশিলদার ও ইউপি সচিবরা মোস্ট পাওয়ারফুল অ্যান্ড করাপটেড।

শনিবার নগরীর লেকশোর হোটেলে ‘জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকার: শিক্ষা, মানসম্মত কর্মসংস্থান, জেন্ডার সমতা শীর্ষক এক নাগরিক সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। নাগরিক সম্মেলনে অংশ নেন সংসদ সদস্য অ্যারমা দত্ত, স্থানীয় শাসন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির প্রমুখ। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পর্যায় থেকে এদিকে নজর দিতে হবে। এরা অনেক বেশি ক্ষমতাবান, যার কারণে প্রান্তিক মানুষজন নায্যতা পায় না। এরা প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে কাজ করে। অথচ দেখবেন এই তহশিলদার ও ইউপি সদস্য আশপাশে ভালো পরিবেশে থাকে। সকালে ভালো যানবাহনে চড়ে অফিসে যায়।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক সংকট চলছে। বিশ্ব এখন টালমাটাল অবস্থায়। সেই ঢেউ কিন্তু আমাদের তরীতেও লেগেছে। আমাদের সরকারপ্রধান সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। তাই আমরা ব্যয় সংকোচন করছি, মৃতব্যয়িতা অবলম্বন করছি। আওয়ামী লীগ সরকার ইশতেহার বাস্তবায়ন কাজ শক্তিশালী করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ইশতেহার বাস্তবায়ন করছে। তবে গ্রাম ও শহরের মানুষের চাওয়া-পাওয়া এক নয়। গ্রামের মানুষ নানা ভাতার কার্ড, পানি, স্যানিটেশন, সেতু ও সড়ক চায়। উন্নয়নের জন্য দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন, এজন্য শোভন রাজনীতি প্রয়োজন আছে কেবল শোভন কর্মসংস্থান নয়। দেশের ভোটাররা স্থিতিশীল পরিবেশ, কর্মসংস্থান চায়, এ সরকার তাই করছে। তিনি আরও বলেন, আমি কিন্তু পিছিয়ে পড়া পরিবারের মানুষ। সুতরাং তাদের দুঃখ-কষ্ট আমি বুঝি। তাই সময় পেলে নাড়ির টানে গ্রামে যাই। গ্রামের মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করি। আওয়ামী লীগের কিছু জাতীয় ইশতেহার থাকে, আমরা যারা ভোটে দাঁড়াই তাদেরও কিছু ইশতেহার থাকে। গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন অবস্থা দেখেই আমরা নিজস্ব কিছু ইশতেহার দিয়ে থাকি।

অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক ৩.১২ ধারায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পাঁচটি অঙ্গীকারের মধ্যে অন্যতম ছিল শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র তৈরি করা। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করা।

প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৭৭ শতাংশ কর্মস্থলে এখনো নারী কর্মীদের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র নেই। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৫০টি শিশু যত্নকেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৩৭১টি শিশু কক্ষ স্থাপন করেছে।

সিপিডির প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, প্রতিশ্রুতির ইশতেহার এখনও বাস্তবায়ন হয়নি এমন বিষয়গুলো হলো- ২০২০ সাল নাগাদ উচ্চ শিক্ষায় নারীপুরুষ শিক্ষার্থীর অনুপাত বর্তমানের ৭০ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করা। প্রশাসন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে অধিকসংখ্যক নারী নিয়োগের নীতি আরও জোরালোভাবে অনুসরণ করা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়