খেলাপি ঋণে রেকর্ড : ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জরুরি

আগের সংবাদ

‘মানিয়ে নাও’- আর কতদিন নারী শুনবে?

পরের সংবাদ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি : শুধু জাতীয় নয় বৈশ্বিক সংকটও বটে সামিনা আক্তার

সামিনা আক্তার

লেখক ও মানবাধিকার কর্মী

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২২ , ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২২ , ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশে এক প্রকার প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, ইতোপূর্বে যখনই তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে, একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বিশাল রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে যায়। তবুও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বাস্তবসম্মতভাবে এ ধরনের সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ার বিকল্প নেই। এর আগেও আমরা দেখেছি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করে। সবার হয়তো মনে আছে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছিল। আবার ২০২১ সালে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তা বাড়াতে হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বা কমানো কোনোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, পুরোটাই নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।
উল্লেখ্য, বিশ্বের এই সংকটময় পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশকেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মূল্য সমন্বয় করতে হবে। বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এই সমন্বয়ের একটি অংশ। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করিয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দেশের আর্থিক উন্নয়ন সূচক অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যেমন মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে আমরা প্রতিবেশী ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছি। রপ্তানি আয় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে করোনা মহামারিতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে বৈশ্বিক সংকটকালেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বাজারের অন্যান্য খাতেও। মানুষ কষ্ট পেতে পারে। এটা জেনেও দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় সাধারণভাবে মূল্যস্ফীতির কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেলে এবং মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল হলে সরকার অবিলম্বে আবার তেলের দাম সমন্বয় করবে। বাংলাদেশে তেল সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ভয়াবহ সংকট না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কেউ কেউ বলছেন, দেশে গ্যাসোলিন ও অকটেন উৎপাদিত হলে এগুলোর দাম বাড়ার কারণ কী? হ্যাঁ, বাংলাদেশ পেট্রোলের চাহিদার ১০০ শতাংশ এবং বেশিরভাগ অকটেন উৎপাদন করে। তবে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাংলাদেশে বিদ্যমান দামের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এই পার্থক্যগুলোর কারণে, পাচারবিরোধী এবং আন্তর্জাতিক নীতিগুলো বিবেচনায় রেখে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আমাদের বুঝতে হবে পরিস্থিতি এমন যে বিশ্বের ধনী দেশগুলোও প্রতিনিয়ত জ্বালানির দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। তাই বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের সবাইকে শক্তি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং ধৈর্যের সঙ্গে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জ¦ালানি ব্যবহারে মিতব্যায়ী হওয়ার নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেছে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো গ্যাসের ব্যবহার ১৫ শতাংশ কমিয়েছে। এমনকি বর্তমানে ইইউর জিডিপি কমেছে ১.৫ শতাংশ। গুজবে কান দেবেন না, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখুন।

সামিনা আক্তার : লেখক ও মানবাধিকার কর্মী।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়