‘মানিয়ে নাও’- আর কতদিন নারী শুনবে?

আগের সংবাদ

শ্রমিক ধর্মঘটে ‘অচল’ চা শিল্প

পরের সংবাদ

চেস্টার বাউলেসের আগস্ট ১৯৭১ প্রস্তাব

ড. এম এ মোমেন

সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২২ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২২ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

চেস্টার ব্লিস বাউলেস ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশ প্রশ্নে তিনি ছিলেন নিক্সন প্রশাসনের কট্টর সমালোচক। ১৯৭১-এর জুনে যখন পাকিস্তানের সমুদ্রগামী কার্গোতে নিউইয়র্ক ডকইয়ার্ড থেকে সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই করা হচ্ছে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনী ‘প্রমিজেস টু কিপ : মাই ইয়ার্স ইন পাবলিক লাইফ’-এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। একাত্তরে তিনি একাধিকবার নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের পক্ষে এবং ভারতে অবস্থানরত এক লাখ শরণার্থীর পক্ষে কলম ধরেছেন। স্মর্তব্য ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন সত্তর বয়সি একজন এক্টিভিস্ট।
তার লেখা থেকে উদ্ধৃত হচ্ছে :
আমাদের পুরনো ভুলের খেসারত কমিয়ে আনতে কী করা যায় এবং নতুন গ্রহণযোগ্য কোন নীতি অবলম্বন করা যায় তা-ই বিবেচ্য।
যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থাৎ আমাদের বুঝতে হবে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্ব›দ্ব থেকে উদ্ভূত কোনো বিষয় নয়; এটা বরং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং তার পশ্চিম পাকিস্তানি সরকার এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দ্ব›দ্ব।
লড়াইয়ের তিক্ততা ও অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের (সংখ্যা এক লাখ থেকে দশ লাখ হতে পারে) পর রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সুদূরপরাহত। এখন বিকল্প দুই প্রধানের মধ্যে সরাসরি দরকষাকষির মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছা। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান এখন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগার; সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে পাকিস্তানের সামরিক আদালতে গোপনে তার বিচার শুরু হয়েছে। এটিই অনেক বড় বিস্ফোরক হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয়ত, পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানিবিরোধী শক্তিকে নির্মূল করার অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে যদি তারা বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক ও সামরিক সহায়তা পায়- স্মরণ রাখতে হবে পূর্ব পাকিস্তানের গেরিলা বাহিনীর আকার ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে এবং তারা পূর্ব পাকিস্তানের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতার নিরঙ্কুশ সমর্থনও উপভোগ করছে। পূর্ব পাকিস্তানে নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাবার জন্য পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সামরিক সহায়তা দিয়ে সক্ষম করে তোলা হচ্ছে একটি দায়িত্বহীন ও অনৈতিক কাজ। বিশ্বব্যাংক ও সাহায্যদাতা কনসোর্টিয়াম শক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দিয়ে যতক্ষণ না পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে পরস্পরের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান অর্জিত হচ্ছে, অর্থনৈতিক সহায়তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে খাদ্য সহায়তা ও ওষুধপত্র এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।
তৃতীয়ত, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সাধারণ স্বার্থ নিহিত রয়েছে। তারা উভয়েই সম্মত হয়ে কি নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে বলতে পারে না যে আসন্ন যুদ্ধে কোনো পক্ষেরই বিজয় ঘটবে না তা বন্ধ করার প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে না? ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মৌন সমর্থনে সোভিয়েত ইউনিয়ন সফলতার সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অব্যাহত থাকা বন্ধ করতে পেরেছিল। এখন প্রয়োজন তাদের উদ্যোগ কিংবা উভয়ের। কূটনৈতিক ট্রফি শিকারিরা যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে চীনকে লেলিয়ে দেয়ার কার্ডটি খেলতে চান তা আকর্ষণীয় মনে হলে বাস্তবে তা হবে ভয়ংকর দায়িত্বহীনতা।
চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে পারবে না যদি না এখানকার বাস্তব অবস্থা তাদের বোধগম্য হয়। ভারতের বর্তমান আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটই কেবল নয় একই সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে এশিয়া মহাদেশে ভারতের কৌশলগত ও আদর্শগত অবস্থান ও তার গুরুত্ব।
পৃথিবীর এক-সপ্তমাংশ মানুষের বসবাস ভারতে- এশিয়া কিংবা আফ্রিকায় টিকে থাকা হাতেগোনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি ভারত। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতে বাধ্য হওয়া সত্তর লাখ শরণার্থীর আবাসন প্রদান ও লালন-পালনে ভারতকে তার অর্থনৈতিক শক্তির একটি একটি বড় অংশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে আনতে হয়েছে। জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য টেনে আনা অর্থ ও সম্পদ ভারতে এমনিতেই অপর্যাপ্ত রিজার্ভে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। অনুমিত হিসাব হচ্ছে শরণার্থী পরিস্থিতি বর্তমান অবস্থায় থাকলে তাদের জন্য ভারতের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে এক বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে ভারতকে এই দায় থেকে মুক্তি দেয়া। এখনো সময় থাকতে যুক্তরাষ্ট্র এবং সেখানকার জনগণ কি সেই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোকে বুঝতে পারছে, যা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে?
আমরা যদি এই শক্তিগুলো উপেক্ষা করা অব্যাহত রেখে সামরিক শক্তির ওপর আমাদের মৌলিক বিশ্বাস স্থাপন করি তাহলে আমরা শিগগিরই মানব সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ততায় ভরে যাবে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-পরবর্তী এশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম মঙ্গলের নিশ্চয়তা দেয় না।
১৯৪০-এর দশকে ‘চীনকে কমিউনিজমের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য’ যুক্তরাষ্ট্র মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিয়ে চিয়াঙ্গ কাই শেক সরকারকে শক্তিশালী করে তোলার চেষ্টা করেছে- আর তা ব্যর্থ হয়েছে এবং জনগণের সমর্থন হারিয়েছে। কোরিয়াতে উত্তর কোরিয়ানদের হটাতে আমাদের মিশন সফল হয়েছে- জেনারেল ম্যাকআর্থার চীন সীমান্ত পর্যন্ত হামলে পড়েছেন। এতে চীনকে টেনে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে এবং চীন জাতিসংঘের সেনাবাহিনীকে ৩৮ প্যারালাল পর্যন্ত ঠেলে সরিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তখন যে অবস্থানে ছিল সেখানে ফিরে যেতে ২ বছর ১০ মাস লড়াই করতে হয়েছে আর তাতে জীবন দিয়েছে ২৫ হাজার আমেরিকান। এতে কী লাভ হয়েছে? যুক্তরাষ্ট্রের কোন মিশন তাতে হাসিল হয়েছে?
১৯৫০ সালে ন্যাটোতে ১২ ফ্রেঞ্চ ডিভিশন মোতায়েনের বদলে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোচীনে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে ২.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। ১৯৫৪ সালে ফ্রান্সের পরাজয়ের পর আমাদের দায় নিতে হয়, এমনকি ৪৫ হাজার আমেরিকান সৈনিকের জীবনের বিনিময়েও আমরা যে যুদ্ধ জিততে পারিনি। পরিণতিতে যে দেশকে আমরা বাঁচাতে চেয়েছি তা প্রায় ধ্বংস করে ছেড়েছি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক একটি রেকর্ড। এখন সময় এসেছে আমেরিকার জনগণ এসবের পরিণতি কী বুঝুক।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রান্তির বড় কারণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করে সামরিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ধন্যবান্ধব-জেনারেল, প্রেসিডেন্ট এবং ফিল্ড মার্শালরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হাসিলে শুধু ব্যর্থ হননি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবেরও বারোটা বাজিয়েছেন।
এখন হোয়াইট হাউসে, পেন্টাগনে, স্টেট ডিপার্টমেন্টে, কংগ্রেসে বিপদের ঘণ্টাধ্বনি বাজতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার কি তার বৈদেশিক নীতিমালা ১৯৭০-এর দশকের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বদলাতে পারবে? হয়তো দক্ষিণ এশিয়াই হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা।
চেস্টার ব্লিস বাউলেসের জন্ম ৫ এপ্রিল ১৯০১ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের স্প্রিঙ্গফিল্ড শহরে। তার পিতামহ স্যামুয়েল বাউলেস ছিলেন একজন রিপাবলিকান মুখপাত্র এবং স্প্রিঙ্গফিল্ড রিপাবলিকান পত্রিকার সম্পাদক। পিতামহ রাজনৈতিকভাবে তার পিতাকে ‘প্রভাবিত ও সম্মত’ রিপাবলিকান হিসেবে দীক্ষিত করতে পারেননি। তার পিতা-মাতা দুজনই ডেমোক্র্যাটিক মতাদর্শ গ্রহণ করেন এবং সক্রিয় সমর্থন জানান, তারা সিভিল রাইট মুভমেন্টে শরিক হন।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেফিল্ড সায়েন্টিফিক স্কুল থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক, সংবাদপত্রেই কর্মজীবনের শুরু, তারপর বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। তারপর তিনি অপর একজন বেন্টন এন্ড বাউলেস নামের বিজ্ঞাপনী সংস্থা গঠন করেন, যা ১৯৩০-এর দশকে মহামন্দার পরবর্তী বছরগুলোতে মাল্টিমিলিয়ন ডলার মূল্যের কোম্পানিতে পরিণত হয়। আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আসার পর তিনি ব্যবসা ছেড়ে দেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় শারীরিক অসুস্থতার জন্য সশস্ত্র বাহিনীতে প্রত্যাখ্যাত হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের পরিচালক হন। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ এই দুই বছর প্রেসিডেন্ট ট্রুমানের শাসনামলে ভারত ও নেপালের রাষ্ট্রদূত হন। তিনি তখন থেকেই আমেরিকার ভারত নীতির দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সঙ্গে তার সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট সন্দেহের চোখে দেখত। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে তিনি পুনরায় ১৯৬৩ সালে ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং ২১ এপ্রিল ১৯৬৯ পর্যন্ত এ পদে বহাল থাকেন। এর আগে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ পর্যন্ত তিনি কানেক্টিকাট থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য ছিলেন। তবে রাজনীতি তাকে ধরে রাখতে পারেনি।
ভারতে থাকা অবস্থায় তার পার্কিনসন রোগ ধরা পড়ে এবং প্রায় ২২ বছর পর ২৫ মে ১৯৮৬ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পার্কিনসন নিয়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন। স্মৃতিকথাসহ তার গ্রন্থসংখ্যা ৮টি। তার প্রত্যাশা ছিল বিপুলসংখ্যক মানুষের দেশ ভারত একটি মানবিক বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হবে কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। তার দ্য প্রমিজেম টু কিপ : মাই ইয়ার্স ইন পাবলিক লাইফ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এপিসোড অনূদিত হলো। ৮৫ বছর বয়সে ২৫ মে ১৯৮৬ চেস্টার বাউলেস কানেক্টিকাটে মৃত্যুবরণ করেন। জন কেনেথ গলব্রেইথ বলেছেন, জাগ্রত বিবেক এবং সাহস দুটি দুর্লভ গুণেই তিনি ছিলেন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

টীকা :
# সেইভ চায়না ফ্রম কমিউনিজম : যুক্তরাষ্ট্র ও ধনতান্ত্রিক বিশ্বের জুজুর বয় সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্র। চীনকে সাম্যবাদী হওয়া থেকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের পেছনে টাকা ঢালতে শুরু করে। বহু অপচয়ের পর সাম্যবাদী চীনকে মেনে নিয়ে স্বীকৃতি দিতেও বাধ্য হয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীন হচ্ছে একটি বাস্তবিক হুমকি।
# ন্যাটোতে ১২ ডিভিশন (ফ্রেঞ্চ সৈন্য) : ৩০ জুলাই ১৯৪৯ ফ্রান্স ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির দলিল সই করে। ভিন্ন ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার আশ্বাস পেয়ে ফ্রান্স ন্যাটোতে ১২ ডিভিশনে সৈন্য মোতায়েন করে।
# ৩৮তম প্যারালাল : থার্টি এইট প্যারালাল নর্থ হচ্ছে বিষুবরেখার ৩৮ ডিগ্রি উত্তরে। কোরীয় যুদ্ধের আগে এটাই ছিল উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত। ১৯৪৫-এ জাপানের আত্মসমর্পণের পর ৩৮ প্যারালাল ফলক প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৭ জুলাই ১৯৫৩ কোরীয় যুদ্ধ শেষ হলে এই সীমান্তরেখা ঠেলে নতুন সীমান্তরেখা স্থাপন করা হয়।
# যুদ্ধে নিহত আমেরিকান সৈন্য : দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৫৭; ভিয়েতনাম যুদ্ধ ৫৩ হাজার ২০০; কোরিয়ান যুদ্ধ ৩৩ হাজার ৬৮৬।

ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়