অভিযানে ভাটা : অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ন্ত্রণ করুন

আগের সংবাদ

পরিবহনে গণধর্ষণ ও ডাকাতি : ব্যর্থতার দায় কার কতটুকু

পরের সংবাদ

যুবসমাজ উন্নয়নে উদ্যোগ প্রয়োজন

হীরেন পণ্ডিত

লেখক ও গবেষক

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২২ , ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২২ , ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব যুব দিবস আজ। দিবসটি উদযাপনের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় সরকারি ও বেসরকারিভাবে। কিন্তু সবাইকেই এখন যুব কর্মসংস্থান, যুব প্রশিক্ষণ, যুবদের জন্য আইসিটির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও যুব উদ্যোক্তা তৈরি করে যুবদের ক্ষমতায়নের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। এটি করাই এখন জরুরি বিষয়। গত বছর থেকেই জীবনযুদ্ধের এক কঠিন সময় যাচ্ছে আমাদের। করোনা সংকটে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই বিপদগ্রস্ত আছে এখনো। কোভিড-১৯ এর কারণে নতুন করে দারিদ্র্য বাড়ছে। নতুন ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কাতারে যুক্ত হয়েছেন (বিআইডিএস, ২০২০)।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শ্রমবাজারের জন্য দক্ষ এবং প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মীদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ দক্ষতার অভাবে পড়াশোনা সম্পন্ন তরুণ-তরুণীদের চাকরির বাজারের চাহিদা মেটাতে পারছে না। কলেজের স্নাতকদের মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশই পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কর্মরত, প্রায় অর্ধেক বেকার রয়েছে। অধিকন্তু যুব নারী গ্র্যাজুয়েটদের বেকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং স্নাতকোত্তর হওয়ার দুই বছর পরে দেখা গেছে নারী স্নাতকদের ৩৩ শতাংশ পুরুষ স্নাতকের বিপরীতে বেকার রয়েছেন বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক খাত এত বড় তবে উচ্চশিক্ষায় এর কোনো গুরুত্ব নেই। একই কথা চামড়া সেক্টরের জন্যও বলা যায়। ফলস্বরূপ, এই খাতগুলো বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। বিশেষায়িত কাজের জন্য দেশে সর্বনিম্ন পর্যায়েও যোগ্য শ্রমিক না থাকায় উদ্যোক্তারা বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষাব্যবস্থার ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশে বেকারত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ এবং পছন্দসই বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেয়া একটি বাধ্যতামূলক বিষয়, সেখানে অনেক সময় পছন্দের বিষয় ভাগ্যে জোটে না। আবার কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা প্রয়োজন যেখানেই সুযোগ আসবে সেখানে আপনাকে যোগদান করতে হবে এবং কাজের দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। যুবকদের বেকারত্বকে অর্থনীতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি আমাদের বিভিন্ন নীতিমালাগুলোতে। জাতীয় যুবনীতি ২০১৭-এ যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দেয়া হয়নি। নীতিমালায় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও কোনো দৃশ্যমান পরিকল্পনা নেই। অবশ্যই অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান বেশি হওয়ার কারণে, কর্মসংস্থানের বড় উৎস হতে হবে বেসরকারি খাতকে। সরকারকে সেখানে আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা প্রদান করতে হবে।
এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে, শিক্ষায় কঠোর মানের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুমোদনের কাঠামো, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ সঠিকভাবে করতে হবে। উচ্চশিক্ষার পাঠ্যক্রম তৈরি করতে পাঠ্যক্রমটি বাজার চাহিদা অনুযায়ী আপডেট করা দরকার। আইনপ্রণেতা, বিনিয়োগকারী, নিয়োগপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সরকারকে কিছু প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কেবলমাত্র সুশিক্ষা নয়, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও স্বউদ্যোগে কাজ করার আগ্রহও প্রয়োজনীয়। আমরা বেকারত্বের অভিশাপ দেখতে চাই না, যুবকদের হতাশ দেখতে চাই না। তাদের উদ্যোগী হিসেবে দেখতে চাই। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য নতুন চাকরি সৃষ্টি করা বা কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখা এখন সময়ের দাবি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার আকাক্সক্ষার বাস্তবায়নও তরুণদের সম্ভাব্যতা এবং তাদের শ্রমশক্তি, মেধার বিকাশ ও কার্যকর ব্যবহারের ওপর নির্ভর করবে, কারণ মানবসম্পদ হলো আমাদের উন্নয়নের মূল সম্পদ। তাই বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করাই এখন সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

হীরেন পণ্ডিত : লেখক ও গবেষক, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়