সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা নিয়ে লুকোচুরি

আগের সংবাদ

ডলারের পরিবর্তে রুশ মুদ্রা রুবলে গ্যাস কিনবে তুরস্ক

পরের সংবাদ

দেশে ডলার আসছে কম, যাচ্ছে বেশি

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২২ , ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১২, ২০২২ , ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বর্তমানে চিকিৎসা, শিক্ষা বা ভ্রমণ থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই ডলারের আউটফ্লো (বহির্গমন) বেড়ে গেছে। এর ফলে এখন যে পরিমাণ ডলার দেশে আসছে তার চেয়ে বেশি চলে যাচ্ছে বাইরে। মার্কিন ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কমে যাচ্ছে স্থানীয় মুদ্রা টাকার মান, বাড়ছে ডলারের দাম। খোলাবাজার বা কার্ব মাকের্টে নগদ এক ডলার কিন?তে গ্রাহক?কে গুণতে হ?চ্ছে ১১৮ থে?কে ১২০ টাকা। একদিকে ডলারের রিজার্ভ কমছে, অন্যদিকে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পর্যাপ্ত ডলার দেশে আসছে না। এ কারণে খোলাবাজারে ডলারের মূল্য হু হু করে বাড়ছে। সবমিলিয়ে বর্তমানে এ সংকট মোকাবিলায় বিদেশে যাওয়ার সময় ক্যাশ ডলার বহনে নিরুৎসাহিত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে ডলার আসার তুলনায় যাচ্ছে বেশি। তাই বিদেশে যাওয়ার সময় ক্যাশ ডলার বহনে নিরুৎসাহিত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চিকিৎসা, শিক্ষা বা ভ্রমণ থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই ডলারের আউট-ফ্লো বেড়ে গেছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সে পরিমাণ ডলার দেশে আসছে না।

তিনি বলেন, এখন বাজারে ডলার সংকট ও রিজার্ভ কমার মূল কারণ আমদানি বৃদ্ধি। রপ্তানির তুলনায় দেশের আমদানি বেশি। আমাদের আমদানি-রপ্তানির মধ্যে শূন্যস্থান পূরণ করতে হলে রপ্তানি বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজার স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটা অব্যাহত থাকবে। রেমিট্যান্স বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে।

এর আগে গত সোমবার ডলার কারসাজির সঙ্গে জড়িত ৬ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি দেশি এবং একটি বিদেশি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, যারা খোলাবাজারে ডলারের অবৈধ ব্যবসা করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত পাঁচটি মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫টিকে কারণ দর্শাতে (শোকজ) বলা হয়েছে।

শোকজের পাশাপাশি আরো ৯টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে। এসময় সুইস ব্যাংকের কাছে একাধিকবার অর্থ পাচারের তথ্য চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের যেখানে যেখানে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হয়, তারা সব জায়গাতেই তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। বিএফআইইউ আন্তর্জাতিকভাবে এগমন্ড গ্রুপের সদস্য হওয়ায় এই গ্রুপের অন্য যে কোনো সদস্য দেশের কাছেই যে কোনো বিষয়ে বিএফআইইউ তথ্য চাইতে পারে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে যদি আন্ডার ইনভয়েসিং এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশের অর্থ অন্য দেশে চলে যায়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা নজরদারি করতে পারে। এবং কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে গেছে সেটাও বাংলাদেশ ব্যাংক জানতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। কিন্তু সেটা যদি অন্য কোনো মাধ্যমে যায় তাহলে বিএফআইইউ সেই তথ্য সংগ্রহ করবে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়