পদ্মা সেতুর জাজিরা-মাওয়া প্রান্তে বসেছে অত্যাধুনিক ক্যামেরা

আগের সংবাদ

ডলারে বেসামাল অর্থনীতি

পরের সংবাদ

অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে ভাটা

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২২ , ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২২ , ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

মনোযোগ আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাইয়ে

অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে গত ২৫ মে আকস্মিক ঘোষণা দিয়ে অভিযান শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রথম ১০ দিন সাঁড়াশি অভিযান চললেও পরবর্তীতে এ অভিযানের গতি অনেকটা কমে আসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এই অভিযান চলমান একটি প্রক্রিয়া। তবে অভিযোগ আছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে এই কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে অভিযান ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না বলেও জানা গেছে। এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্ধ করে দেয়া অনেক হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নতুন নামে আবেদন করছে। এসব কাজে অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীও গোপনে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ আছে।

এদিকে, অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এখন তাদের কাছে অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আবেদন করলেই কাউকে নিবন্ধন দিয়ে দেয়া হচ্ছে না। সঠিকভাবে ইন্সপেকশন হবে তারপর অনুমোদন। একটি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাসপাতাল চালাতে যে ধরনের স্থাপনা-যন্ত্রপাতি ও লোকবল থাকা প্রয়োজন সেটা না থাকলে অনুমোদন দেয়া হবে না।

হাসপাতাল শাখা জানায়, অভিযান চলার সময়ে ১৭ হাজার ১৮১ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের আওতায় আসার আবেদন করে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৩টি হাসপাতাল, ৭ হাজার ৭৮৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ১৬৬টি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। সেই হিসাবে ৫ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। জানা যায়, গত ২৬ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩৯টি প্রতিষ্ঠান নতুন করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে ১ হাজার ১০৩টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া এই সময়ে নবায়নের জন্য ৪ হাজার ৫৯৮টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। যার মধ্যে ২ হাজার ১৮১ প্রতিষ্ঠানের নবায়ন সম্পন্ন হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভোরের কাগজকে জানান, নতুন করে আর কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযান চলবে না। যেসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তারা নতুন করে আবেদন করছে। তাদের কাগজ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এমনকি কর্মকর্তারাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইন্সপেকশন করছেন। কাগজপত্র ঠিক থাকলে বন্ধ করে দেয়া অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে বৈধ বলে ধরে নিয়ে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি খাতে ১৭ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এই শাখায় লোকবল একেবারেই নামমাত্র। ২ জন উপপরিচালক, ৪ জন সহকারী পরিচালক এবং ২ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান মনিটর করা অসম্ভব।

কিছুদিন আগে এক অনুষ্ঠানেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, যেসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভালো করছে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে যারা যারা অন্যায় করবে, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে, তাদের সঙ্গে আমরা নেই। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কাউকেই হেনস্থা করা হবে না।

উপর মহলের চাপে আপাতত অভিযান বন্ধ আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, কোনো চাপ আমাদের ওপর নেই। অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চিকিৎসক ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি চাকরিতে থাকা অবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নজরদারির আওতায় রয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অপতৎপরতায় যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে চাকরি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যাবে। আর অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক যদি রোগী দেখেন তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ অবৈধ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা রোগী দেখা মানে সেই চিকিৎসকও অবৈধ বলেও গণ্য হবে। তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

অভিযান চলাকালীন যেসব হাসপাতাল-ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল সেগুলোর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত কী জানতে চাইলে অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. বেলাল হোসেন বলেন, আমরা কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পক্ষে নই। তবে বেসরকারি পর্যায়ে হাসপাতাল-ক্লিনিক চালাতে হলে অবশ্যই নিয়ম মেনেই চালাতে হবে। সেসব প্রতিষ্ঠানের যেসব বিষয়ে ঘাটতি ছিল, সেগুলো সম্পন্ন করার শর্ত ছিল। যারা শর্ত পূরণ করতে পেরেছে, তাদের কার্যক্রম চলানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়ন সম্পন্ন করেছে। আরো প্রায় ৫ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ মে অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর সারাদেশে শুরু হয় অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়