চীনকে রুখতে ’সজারু কাঁটা’ নীতিতে তাইপে

আগের সংবাদ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে গণশুনানি হলে সহনীয় হতো

পরের সংবাদ

যে নারীর চির মমতা আমার অঙ্গে মাখা

আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী

লেখক ও শিশুসাহিত্যিক

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২২ , ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২২ , ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধে নারীরা যে অবদান রেখেছিলেন তা নিয়ে লেখালেখি অনেক কম হয়েছে বলে আমি মনে করি। মহান ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় নারীরা সেই অবরুদ্ধ সমাজ ব্যবস্থাতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। আজ যার কথা বলব তিনি এমন একজন মহীয়সী কন্যা, জায়া ও জননী- যার আত্মত্যাগ, সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে বঙ্গবন্ধু এগিয়ে গেছেন, আমাদের দিয়েছেন একটি স্বাধীন দেশ। তাঁর জীবনের সফলতার নেপথ্যে যার নিরলস ত্যাগ, পরিশ্রম, সাধনা তিনি বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব।
বেগম ফজিলাতুন নেছাকে বলা যায় স্বশিক্ষিত। জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার শ্রদ্ধেয় মাতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন- ‘মনে-প্রাণে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ বাঙালি নারী। অত্যন্ত বুদ্ধিমতি এই রমণী অসীম ধৈর্য ও সাহস নিয়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেন। জীবনে তার কোনো চাহিদা বা মোহ ছিল না।’ ছয় দফা আন্দোলনের সময় তিনি নিজের অলংকার বিক্রি করে সংগঠনের জন্য আর্থিক সাহায্য করেন। নেপথ্যে থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের সার্বক্ষণিক সহযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামালকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠান। এই মহীয়সী নারী তার প্রিয়তম স্বামীর আদর্শ ও স্বপ্নপূরণে যে ক্লান্তিহীন প্রয়াস চালিয়ে গেছেন সারাটি জীবনভর তা ইতিহাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তিনি কৌতুক করে বলতেন তার সংগ্রহে ছিল ছোট-বড়-মাঝারি অসংখ্য টিফিন ক্যারিয়ার। এসব টিফিন ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অসংখ্য ভালোবাসার স্মৃতি। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে থাকতেন তখন এসব টিফিন ক্যারিয়ারে তাঁর জন্য পছন্দের খাবার যতœসহকারে নিজ হাতে রান্না করে থরে থরে সাজিয়ে নিজেই বহন করে কারাগারে নিয়ে যেতেন। কারাবন্দি নেতা ও কর্মীদের সংসার অর্থকষ্টে পতিত হলে তিনি তাদের যথাসাধ্য সাহায্য করতেন। হঠাৎ কেউ এসে পড়লে ঘরে ভাত না থাকলে তিনি মুড়ি-মুড়কি পরিবেশন করতেন। অর্থাৎ কাউকেই তিনি খালি মুখে, শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। সর্বোপরি, তিনি আওয়ামী লীগের সবাইকে অভয় দিতেন, সাহস দিতেন, জোগাতেন প্রেরণা।
বেগম ফজিলাতুন নেছা অনেক সময় বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও দৃঢ় এবং তেজস্বী ভূমিকা পালন করতেন ও প্রভাবিত করতেন। এই প্রসঙ্গে একটি স্মরণীয় ঘটনার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হয়। ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে যখন গণঅভ্যুত্থান ক্রমেই দানা বেঁধে উঠছে তখন স্বৈরশাসক আইয়ুব খান কূটচালের মাধ্যমে গোলটেবিল বৈঠকে যোগদানের শর্তে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিদানের প্রস্তাব দেয়। বেগম মুজিব কারাবন্দি স্বামীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সতর্ক করে দেন যেন তিনি আইয়ুব খানের ফাঁদে পা না দেন, শর্ত মেনে সহবন্দিদের ফেলে একা মুক্তি নিয়ে যেন ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে না আসেন। (যদিও বঙ্গবন্ধু এই কাজ কোনোদিনই করতেন না) এমনই নির্ভীক ও তেজস্বী ছিলেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বেগম মুজিব ছিলেন গৃহবন্দি। পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পাঁয়তারা করছিল। সেই সংবাদ তিনিও শুনেছিলেন। কিন্তু মুষড়ে পড়েননি। আমরা ইতিহাস জানি। কিন্তু পেছনের খবর রাখি না। আমরা একজন ব্যক্তিত্বকে জানি। কিন্তু সেই ব্যক্তিত্ব সৃষ্টির পেছনে আরেক জন ব্যক্তির নিরলস শ্রম ও সাধনার কথা জানি না। আর জানি না বলেই আমরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে জানি, কিন্তু একজন শেখ মুজিবের বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পেছনে যার অবদান অপরিসীম, তিনি বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। স্মরণ করি বঙ্গবন্ধুকে, স্মরণ করি প্রেরণাদাত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে।

আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী
লেখক ও শিশুসাহিত্যিক, চট্টগ্রাম।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়