কত রংবেরঙের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

আগের সংবাদ

জ্বালানি তেলের প্রভাব বাজারে

পরের সংবাদ

চলন্ত বাসে ধর্ষণ : এ পাশবিকতার শেষ কোথায়?

প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২২ , ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৯, ২০২২ , ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনা থামছে না। এবার কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি নৈশকোচে সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ ডাকাতি ও গণধর্ষণ। গত ২ আগস্ট রাতে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের বাস টাঙ্গাইল অতিক্রম করার সময় ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। চলন্ত বাসে ধর্ষণ এক কঠিন ও কুৎসিত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। চলন্ত বাসে নারী ধর্ষণের ঘটনা নতুন নয়। তবে নারী ধর্ষণের সঙ্গে ডাকাতিও যুক্ত হয়েছে। একটি ডাকাত দল এভাবে ৩ ঘণ্টা ধরে বাসের যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতি ও নারী ধর্ষণ শেষে নির্বিঘেœ পালিয়ে যাবে, ভাবা যায় না। গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোডে একটি বাসের সব যাত্রী নেমে গেলে দরজা বন্ধ করে বাসটির সুপারভাইজার ও হেলপার এক তরুণীকে ধর্ষণ করেছিল। এ সময় বাসচালকও উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে এই পাশবিক নির্যাতন চালায়। গত বছরেরই ২৬ জুন চট্টগ্রামের মিরসরাই, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুর, ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াসহ চলন্ত বাসে গণধর্ষণের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার ও ময়মনসিংহে বাস-মাইক্রোবাসে পোশাক শ্রমিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় যানবাহন যে নারীদের জন্য অনিরাপদ, এ কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এসব ঘটনা। হঠাৎ করে বাসে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে নারী লাঞ্ছনা-ধর্ষণের ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা আমাদের সামাজিক সুস্থতা এবং নারীর নিরাপত্তা দুটোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাধারণত শ্রমিক, দরিদ্র ও দুর্বল ঘরের মেয়েরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে মামলা চালানোর মতো অর্থ ও সময় তাদের পরিবার দিতে পারে না। সামাজিকভাবেও তাদের অবস্থান শক্তিশালী নয়। বিপরীত দিকে অর্থবিত্ত বা সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা বা তাদের মদদপুষ্টরাই ধর্ষণের মতো অপরাধ করে। ফলে এসব ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা নিতে গরিমসি করে, মামলা নিলেও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা করে, অপরাধীদের বাঁচিয়ে প্রতিবেদন দেয় কিংবা অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের দেখতে পায় না। এরকম অভিযোগ অজস্র। তানিয়া হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় বাসটির চালক নুরুজ্জামান ও হেলপার লালন মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই জঘন্য অপরাধ যে মাত্রায় বেড়েছে, লাগাম টেনে না ধরা গেলে তা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেবে। গণপরিবহনে মেয়েদের চলাচল নিরাপদ করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধে অপরাধীর যথার্থ শাস্তি নিশ্চিত করা, দুর্বল ভিকটিমদের পক্ষে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের বিচারাধীন করায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে ব্যক্তি-সংগঠনকে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়