বঙ্গমাতার সাহায্য চেয়ে কেউ কখনও খালি হাতে ফিরে যেত না: নানক

আগের সংবাদ

চীনকে রুখতে ’সজারু কাঁটা’ নীতিতে তাইপে

পরের সংবাদ

তেলে দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা জাতীয় পার্টির

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২২ , ৯:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২২ , ৯:০৯ অপরাহ্ণ

তেলে দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। ১০ আগস্ট দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার ( ৮ আগস্ট) জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় পার্টি কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এ কমসূচি ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)।

তিনি বলেছেন, সরকার নাকি আইএমএফের পরামর্শে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আইএমএফ যদি মানুষ হত্যা করতে বলে, তাহলে কী সরকার মানুষ হত্যা করবে? সরকার নজিরবিহীনভাবে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটাকে আমরা বলেছি নির্দয় সিদ্ধান্ত। মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে সরকার এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো যেনো মরার উপর খারাপ ঘা।

জিএম কাদের আরোও বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দেশ পরিচালনার সময় পেট্রোল অকটেন, ডিজেলের দাম কমিয়ে ছিলেন। এরশাদ তেলের উপর ট্যাক্স নিতেন না। তেল এমন জিনিসের দাম বাড়লে জনগণের হৃদয়ে আঘাত করে। আমরা মানুষের হৃদয়ে আঘাত সহ্য করতে পারি না। তেলের দাম যখন নিম্নমূখী তখন হঠাৎ করে দাম বাড়াতে হলো? বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানী তেলের মূল্য ১০৯ ডলার থেকে কমিয়ে ৮৯ ডলার হয়েছে, তখন কেন দেশে তেলের মূল্য বাড়াতে হবে? তিনি বলেন যখন তেলের মূল্য কম ছিল, তখন হাজার কোটি টাকা লাভ হয়েছে, সে টাকা গেলো কোথায়? লুটপাট হয়েছে? করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এমন অবস্থায় জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবনকে দুর্বল ও দুর্বিসহ করে তোলা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, গত বাজেট অধিবেশনে সরকারের পক্ষ যেতে ফলা হলো, সব ঠিক আছে। ২ মাসের মধ্যে কি হলো? আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে কেনো? বিনিয়োগকারীরা জানেন না, তাদের কি হবে? কানাডার বেগমপাড়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার মানুষের কথা চিন্তা করছে না, কৃষকের কথা চিন্তা করছে না। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের খরচ কমান, মানুষের কথা ভাবুন। পার্টির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো, চলুন আমরা রাজপথে থাকি, যতক্ষণ দাবী আদায় না হয়।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, মানুষের আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো বেশি তেলের দাম আর কখনো বাড়েনি। আমরা সরকারের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করেছিলাম। তারা এতো লুটপাট, দুর্নীতি করবে এটা ভাবতেও পারিনি।

কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, আমার মনে হয় দেশে সরকার নেই, সরকার থাকলে এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে পারতো না। সরকার জনগণের কথা ভাবে না। সরকারকে ঘিরে রেখেছে কিছু আমলা ব্যবসায়ী। তাদের কথায় চলে সরকার। সমস্ত ব্যাংক লুটপাট করে বিদেশে টাকার পাহাড় গড়ছে।

কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, পল্লীবন্ধু জ্বালানী তেলের মূল্য কমিয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখেয়েছে। জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারনে দেশের মানুষে আবস্থা চরম অবনতি হয়েছে। জ্বালানী তেলের মূল্য না কমালে আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়