অনন্যা নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব

আগের সংবাদ

ভাড়া নিয়ে দিনভর নৈরাজ্য

পরের সংবাদ

জননী সাহসিকা- বঙ্গমাতা

তোফায়েল আহমেদ

আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য, সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় সংসদ

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২২ , ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২২ , ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯৩তম শুভ জন্মদিনে তার অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। জাতির পিতার নাম স্বদেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী পরম শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হওয়ার নেপথ্যে ছিলেন তার প্রিয় সহধর্মিণী। আমৃত্যু নেপথ্যে থেকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পরম মমতায় বঙ্গবন্ধুকে আগলে রেখেছিলেন এই মহীয়সী নারী। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোতে জাতির জনককে বাস্তবোচিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দিয়ে তিনি বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ায় অনন্য ও ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন।
১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জন্মগ্রহণ করেন। আজ তিনি বেঁচে থাকলে ৯৩ বছরে পদার্পণ করতেন। বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের ১২টি বছর বঙ্গমাতা অপরিসীম দুঃখ-কষ্টে সংসার জীবন অতিবাহিত করেছেন। ’৫৪-তে তিনি ঢাকায় আসেন এবং গেন্ডারিয়ায় রজনী চৌধুরী লেনে বাসা ভাড়া নেন। ’৫৪-তে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু বন ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তখন গেন্ডারিয়ার বাসা ছেড়ে ৩নং মিন্টু রোডের সরকারি বাড়িতে ওঠেন। অল্প দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ৯২-ক ধারা জারি করে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয় এবং বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে। মাত্র দুই সপ্তাহের নোটিসে বঙ্গমাতাকে বাসা খুঁজতে হয় ও নাজিরা বাজারে বাসা নেন। ’৫৫-তে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দপ্তরের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু পরিবার ১৫ আবদুল গণি রোডের বাসায় ছিলেন। এর কিছুকাল পর মন্ত্রিত্ব অথবা দলের দায়িত্ব গ্রহণের প্রশ্ন সামনে এলে বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করে দলীয় সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বঙ্গমাতাকে বাসা বদল করতে হয়। এবার বাসা নেন সেগুনবাগিচায়। এ সময় বঙ্গবন্ধু টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন। ’৫৮-এর ৭ অক্টোবর আইয়ুবের সামরিক শাসন জারি হলে ১২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবারো বঙ্গমাতা পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় অবস্থায় বাসা খুঁজতে থাকেন এবং সেগুনবাগিচায় নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে বাসা নেন। পরে সেটি পাল্টে ৭৬ সেগুনবাগিচায় অপর একটি বাড়ির দোতলায় ওঠেন। তখন বঙ্গবন্ধুর নামে ১৪টি মামলা। ’৬১-তে বঙ্গবন্ধু কারামুক্ত হয়ে আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নেন। বঙ্গবন্ধু পরিবার ’৬১-এর ১ অক্টোবর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করেন। এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে ধানমন্ডি ৩২ নং-এর বাড়িটি হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ঠিকানা। বঙ্গবন্ধু দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যেককে দেখতেন নিজ পরিবারের সদস্যের মতো। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরাও তাই মনে করতেন। নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা তাদের পাশে দাঁড়াতেন পরম হিতৈষীর মতো। মমতা মাখানো সাংগঠনিক প্রয়াস নিয়ে কর্মীদের হৃদয় জয় করে নেয়ার ব্যতিক্রমী যে ক্ষমতা বঙ্গবন্ধুর ছিল, সেই চেতনার আলোয় আলোকিত ছিলেন বঙ্গমাতা।
স্মৃতির পাতায় সযতনে সঞ্চিত কিছু ঘটনা আজো আমার মানসপটে ভেসে ওঠে। ’৬৯-এর গণআন্দোলনে বঙ্গমাতার অবদান সবসময় কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। একটা সময় ছাত্রলীগ এবং আমাদের খুব কঠিন অবস্থা গেছে। এমন দিনও গেছে আমরা ছাত্রলীগের অফিস ভাড়া দিতে পারিনি। ১৯৬৬-৬৭ সালের একটি ঘটনা মনে পড়ে। শ্রদ্ধেয় নেতা প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক তখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, মজহারুল হক বাকী সভাপতি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকবাল হলের (শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ভিপি। আমি মোটরসাইকেল চালাচ্ছি, রাজ্জাক ভাই পেছনে বসা। গন্তব্য আগামসি লেনে অবস্থিত ছাত্রলীগের অফিস। সেখানে যাওয়ার পর বাড়িওয়ালা আমাদের ডেকে বললেন, ‘আপনারা এখান থেকে চলে যান। তিন মাসের ভাড়া বকেয়া। আপনারা অফিস ভাড়া দিতে পারেন না। এখানে ছাত্রলীগ অফিস রাখা যাবে না।’ আমরা বাড়িওয়ালাকে সবিনয়ে অনুরোধ করলাম দয়া করে আমাদের কয়েক ঘণ্টা সময় দেন। তিনি আমাদের অনুরোধ রাখলেন। তখন বঙ্গবন্ধুসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কারারুদ্ধ। আমরা সেখান থেকে ধানমন্ডি ৩২ নং-এ বঙ্গমাতার কাছে গিয়ে আমাদের দুরবস্থার কথা বললে তিনি রাজ্জাক ভাইয়ের হাতে ২০০ টাকা দিলেন। এই ২০০ টাকা থেকে বাড়িওয়ালার ৩ মাসের ভাড়া বাবদ (মাসিক ৬০ টাকা করে) ১৮০ টাকা পরিশোধ করলাম। বাকি ২০ টাকা দিয়ে আমরা একটি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেলাম।
একটি কথা বারবার মনে হয়- একজন নেতা কত দূরদর্শী যে, তিনি সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে জানতেন। কোন সময় কোন কথা বলতে হবে এটা তার মতো ভালো জানতেন এমন মানুষ এই ক্ষুদ্র জীবনে দেখিনি। লক্ষ্য করেছি, বঙ্গবন্ধু জীবনে স্ববিরোধী বক্তব্য দেননি। একটি বক্তব্য দিয়ে পরে সেই বক্তব্য অস্বীকার করা বা বক্তব্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা তাঁর কোনোদিন হয়নি। যা তিনি বিশ্বাস করেছেন, ভেবেছেন, মনে করেছেন যে এটিই বাস্তবসম্মত, সেটিই বলেছেন সুচিন্তিতভাবে। একবার যা বলেছেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও আপসহীন থেকেছেন। শ্রদ্ধেয়া বঙ্গমাতার কাছে শুনেছি, ’৭১-এর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক বক্তৃতার আগে ৬ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু অস্থিরভাবে পায়চারী করেছেন এবং ভেবেছেন কী বলবেন! বঙ্গমাতা বলেছিলেন, ‘তুমি এত চিন্তা কর কেন? সারা জীবন একটা লক্ষ্য নিয়ে সংগ্রাম করেছো, কারাগারে গিয়েছো, জেল খেটেছো, ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছো। তোমার বিশ্বাসী অন্তর থেকে যা ভালো মনে করো এই মিটিংয়ে তুমি তাই বলবা। দেখবা মানুষ সেটাই গ্রহণ করবে। তুমি এখন ঘুমাও।’ বঙ্গবন্ধু তাঁর হৃদয়ে ধারিত গভীর বিশ্বাস থেকেই সেদিন বক্তৃতা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা দিয়ে তিনি ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর নিত্যসঙ্গী ছিলেন। ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই দুটি লেখার পেছনেও রয়েছে বঙ্গমাতার অবদান। উনি বঙ্গবন্ধুকে বারবার অনুরোধ করেছেন, খাতাপত্র সরবরাহ করে বলেছেন যে, কারাগারে বসে তুমি এসব লেখো। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠার শুরুতেই বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, ‘বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনী।’” ‘আমার স্ত্রী যার ডাক নাম রেণু- আমাকে কয়েকটা খাতাও কিনে জেলগেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। রেণু আরো একদিন জেলগেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।’ বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণায় তিনি লিখেছেন। সেদিনের সেই পাণ্ডুলিপি আজ বই আকারে দেশবাসীর হাতে তুলে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু কখনো জন্মদিন পালন করতেন না। এ সম্পর্কে ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থের ২০৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘আজ আমার ৪৭তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনে ১৯২০ সালে পূর্ব বাংলার এক ছোট্ট পল্লীতে জন্মগ্রহণ করি। আমার জন্মবার্ষিকী আমি কোনোদিন নিজে পালন করি নাই- বেশি হলে আমার স্ত্রী এই দিনটাতে আমাকে ছোট্ট একটি উপহার দিয়ে থাকত। এই দিনটাতে আমি চেষ্টা করতাম বাড়িতে থাকতে।’ বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতাকে খুব ভালোবাসতেন, ভালো জানতেন ও সম্মানের চোখে দেখতেন। বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর জীবনে সুখ-দুঃখের সঙ্গী। জাতির পিতার জীবনের কঠিন দিনগুলোতে বঙ্গমাতাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ধরে রেখেছেন। তখন দুটি সংগঠন ছিল। একটি আওয়ামী লীগ, অপরটি ছাত্রলীগ। কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সংগঠন পরে হয়েছে। আমরা যারা ছাত্রলীগ করতাম কোনো কাজে বঙ্গমাতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আমাদের বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছেন। কঠিন দুঃসময়ের মধ্যেও আর্থিক সাহায্য করেছেন। আমরা ৫ টাকা, ১০ টাকা, ১০০ টাকার কুপন নিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতাম। এমন দিনও গেছে কেউ ১০০ টাকা দিলে আমরা তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ওই সময়েও বঙ্গমাতা সংগঠনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আমাদের কর্মকাণ্ড সচল রেখেছেন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর যেদিন দেশ শত্রæমুক্ত হলো সেদিন আমরা বিজয়ীর বেশে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এলাম। ১৮ ডিসেম্বর আমি এবং আব্দুর রাজ্জাক- আমরা দু’ভাই হেলিকপ্টারে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পদার্পণ করি। চারদিকে ‘জয় বাংলা’ জয়ধ্বনির আনন্দ, ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না! প্রথমেই ছুটে গিয়েছিলাম- শ্রদ্ধেয়া বঙ্গমাতা, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধু পরিবার যেখানে বন্দি ছিলেন সেখানে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন এবং শেখ জামাল দেরাদুনে ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বঙ্গমাতাকে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায়নি। শেখ মুজিবের স্ত্রীকে বাসা ভাড়া দিলে বাড়িওয়ালাকে পাকিস্তান আর্মি ধরে নিয়ে যাবে। যদি-বা কষ্টে-সৃষ্টে পরিচয় গোপন করে বাসা ভাড়া পাওয়া গেছে, তা-ও আবার পরিচয় পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার নোটিসে সেই বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বঙ্গমাতাকে ধানমন্ডিস্থ ১৮ নং-এর একটি বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখে। মহান মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে বঙ্গমাতা কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন।
দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী; তবু বঙ্গমাতা সরকারি বাসভবনে না, থেকেছেন ধানমন্ডির ৩২ নং-এর অনাড়ম্বর বাসভবনে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দরজা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। সর্বস্তরের মানুষ যাতায়াত করত। বঙ্গমাতা সবাইকেই হাসিমুখে গ্রহণ ও বরণ করতেন। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর খোঁজ নিতেন, সাধ্যমতো সহায়তা করতেন। স্বাধীনতার পর যখন আমি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব প্রতিদিন সকাল ৯টায় ৩২ নং-এ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যেতাম, সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণভবনে। এরপর রাত ৯টায় বঙ্গবন্ধুকে ৩২ নং-এর বাসভবনে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরতাম। যখন বঙ্গমাতার বাসায় যেতাম তখন তিনি আমাদের নিজ সন্তানের মতো যতœ করতেন। বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুর জন্য স্বহস্তে রান্না করতেন। বঙ্গবন্ধুর সবকিছু গুছিয়ে রাখতেন। বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতাকে ‘রেণু’ বলে ডাকতেন। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ছিলেন আদর্শ দম্পতি, আদর্শ যুগল। ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রাপ্তির ঐতিহাসিক জনসভায় জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘তোমরা যারা রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে কারাগার থেকে আমাকে মুক্ত করেছো, যদি কোনোদিন পারি নিজের বুকের রক্ত দিয়ে তোমাদের রক্তের ঋণ শোধ করে যাব।’ তিনি একা রক্ত দেননি, সপরিবারে রক্ত দিয়ে সেই রক্তের ঋণ শোধ করে গেছেন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকের বুলেট যখন জাতির পিতার বক্ষ বিদীর্ণ করেছিল, সে সময় চিৎকার করে ঘাতকের দলকে বঙ্গমাতা বলেছিলেন তাকেও মেরে ফেলতে। জীবনসঙ্গীর মরণকালে চিরকালের জন্য তাঁর সহযাত্রী হয়েছেন। জাতির পিতা ও বঙ্গমাতা বাংলার মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে তাদের এই অকৃত্রিম সৃষ্টিশীল ভালোবাসা অমøান হয়ে ইতিহাসের পৃষ্ঠায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তোফায়েল আহমেদ : আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য, সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় সংসদ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়