বিকেলে ঢাকায় আসছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আগের সংবাদ

জিম্বাবুয়ে সফরে ছিটকে গেলেন লিটন

পরের সংবাদ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি

রাজধানীতে গণপরিবহন সংকট, যাত্রীদের ভোগান্তি

প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২২ , ১১:২২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২২ , ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর পরিবহন বিভাগে। তীব্র গণপরিবহন সংকটে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

শনিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে শত শত মানুষের ভিড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছেন না।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর একটি বাস এলেই হুড়োহুড়ি লেগে যায়। রাজধানীর সবগুলো রুটে একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, গুলিস্তান, রায়েরবাগ, শনির আখড়া, কাজলা, যাত্রাবাড়ি, রামপুরা ব্রিজ এলাকায় একি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সব জায়গাতেই যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রাজধানীতে এভাবেই কালেভদ্রে পাওয়া যাচ্ছে গণপরিবহন। রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে তোলা। ছবি: ভোরের কাগজ

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা মুস্তাফিজ জানান, শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় এইদিন সাধারণত রাস্তায় কিছুটা কমসংখ্যক গাড়ি থাকে। তবে আজকের মতো এমন অবস্থা আগে সাপ্তাহিক ছুটির এই দিনে কখনও দেখা যায়নি, মানুষকে ভোগান্তিতেও পড়তে হয়নি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গণপরিবহনের এমন সংকট। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাসে উঠতে পারছি না।

মালঞ্চ পরিবহন বাসের চালক পানির জানিয়েছেন, ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আজ রাস্তায় অনেকেই বাস নামাননি। অনেকেই পেট্রোল পাম্পে গিয়ে তেল দিতে পারেনি। আবার কোনো কোনো পাম থেকে কম তেল দেয়া হয়েছে। এ কারণে গণপরিবহন একেবারে কম। শত শত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারছে না।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গণপরিবহন না থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী। রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে তোলা। ছবি: ভোরের কাগজ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বলেন, মহাখালী যাওয়ার জন্য বাস পাচ্ছি না। অন্যান্য সময় শনিবারে বাস ফাঁকাই থাকে। কিন্তু আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে কোনো বাস পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। কয়েকদিন পরে পরিবহনগুলো বাসের ভাড়া ইচ্ছামতো বাড়াবে। তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এদিকে, শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় ছিল খুবই কম। তেলের বাকি দামের কারণেই পেট্রোল পাম্পগুলোর তেল বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে। শুক্রবার রাত থেকে পেট্রোল পাম্পগুলো তেল বিক্রি কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখে। নির্ধারিত সময়ের দাম বাড়ানোর পর আবার তেল বিক্রি শুরু করে কিন্তু আজ সেই তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম। দাম বাড়ার কারণে অনেকেই আগের তুলনায় অর্ধেক পরিমাণ তেল নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১০টায় সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রোলের দাম ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা ও অকটেনের দাম ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়