সব ধরনের জ্বালানির তেলের দাম বাড়ল

আগের সংবাদ

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়ে কিছু কথা

পরের সংবাদ

আবারো চালের দাম বৃদ্ধি : নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে হবে

প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২২ , ১২:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২২ , ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম ২ থেকে ৪ টাকা বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মোটা চালের দাম পাইকারি পর্যায়ে ২ টাকা বাড়িয়ে প্রতি কেজি স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৯ টাকায়। আর একটু ভালো মানের অর্থাৎ মধ্যম মানের চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫৫ টাকা পর্যন্ত। সরকারি গুদামে যথেষ্ট পরিমাণ চাল মজুত আছে। বেসরকারি খাতেও চালের সংকট নেই। এরপরও কেন চালের দাম বাড়বে? বাজারে অন্যান্য পণ্যের দামও ঊর্ধ্বগতি। চালের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনই জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে খুচরা, পাইকারি ও মিলারদের একে অপরকে দোষারোপ করার একটা প্রবণতা আমরা লক্ষ করি। চালের বেলায়ও তা দেখছি। আড়তদাররা বলছেন, মোটা চালের সরবরাহ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। যার কারণে মিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া মোটা চাল আমদানি কম হওয়ার কারণেও বাজারে মোটা চালের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন তারা। রাশিয়া, ইউক্রেন ও ভারত থেকে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গমের দাম বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে চালের বাজারেও। শুধু চাল নয়, গত ১ মাসে বাজারে ডাল, আটা, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়েছে। এমনকি সরকারের অনুরোধও কানে তুলছেন না ব্যবসায়ীরা। পণ্য যথেষ্ট মজুত থাকলেও সরবরাহ নেই, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা অজুহাত তারা দাঁড় করাচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েন নিম্নবিত্তের মানুষ এবং যাদের আয় সুনির্দিষ্ট। যাদের নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা নেই এবং যারা নির্দিষ্ট বেতন পান তারাই বেশি নাজুক অবস্থায় পড়েন। জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর চাল, গম ও ভুট্টার উৎপাদন ৩ কোটি ৯০ লাখ টনেরও বেশি। এ পরিমাণ ঘাটতিতে বাজারে তেমন প্রভাব পড়ার কথা নয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন হয় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন। চাহিদা ছিল ২ কোটি ৯৬ লাখ টন। সেই হিসাবে দেশে প্রায় ৮৬ লাখ টন চাল বেশি উৎপাদন হয়েছে। তবুও বিভিন্ন অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চাল; বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষকে প্রচুর পরিমাণে ভাত খেতে হয় শুধু শর্করার চাহিদা পূরণের জন্য নয়, তাদের আমিষেরও একটা বড় অংশ আসে ভাত থেকে। তাই চালের দাম যেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়সাধ্যের সীমা অতিক্রম না করে, সরকারকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়। কিন্তু সরকার দক্ষভাবে ব্যবসায়ীদের তদারকি করতে পারছে কিনা সে প্রশ্ন সামনে আসছে। সরকারকে চালের বাজার স্বাভাবিক রাখায় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। ভাঙতে হবে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়