অটোরিকশায় বিদ্যুতের বড় অপচয়

আগের সংবাদ

আসিফের সঙ্গে গান করবেন না ন্যান্সি

পরের সংবাদ

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড : দুই সিটিতে নাগরিক সেবায় মেলেনি স্বস্তি

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২২ , ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২২ , ৮:২১ পূর্বাহ্ণ

রাজস্ব আদায়ে এবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোগান্তি বেড়েছে নাগরিক সেবায়। বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন খাত থেকে ১ হাজার ৬৯০ কোটি ৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। কোভিড-১৯, কনফ্লিক্ট এবং ক্লাইমেট চেইঞ্জ এই তিন সংকটকে মোকাবিলা করে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায় করা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ, এমন দাবি কর্পোরেশনগুলোর। অন্যদিকে নগবাসীর অভিযোগ- সময়মতো কর দিয়েও নাগরিক সেবা পেতে পদে পদে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্স, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর, বাজার ভাড়া, রিকশার লাইসেন্স, কুরবানির পশুহাট ইজারা, রাস্তা খনন ফি, কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া, শৌচাগার, পার্কিংয়ের জন্য ইজারা, জন্মনিবন্ধনসহ বেশ কয়েকটি খাতে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বেশি রাজস্ব আদায় করে সিটি কর্পোরেশনগুলো। ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই সিটি করপোরেশন বিভিন্ন খাত থেকে আদায়কৃত রাজস্ব ১ হাজার ৬৯০ কোটি ৭ লাখ টাকার মধ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশন ২৫টি খাতে ৮২০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আদায় করেছে। উত্তরের তুলনায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কিছুটা বেশি।

অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৩৩টি খাত থেকে রাজস্ব আদায় করেছে ৮৭৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আয় বাড়াতে ২০২০-২১ অর্থবছরে নতুন করে ১৯টি খাতকে করের আওতায় আনার কারণেই দক্ষিণ সিটির রাজস্বের পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি সংস্থাটির। এর আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) ঢাকার দুই সিটি আয় করেছিল ১ হাজার ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। সে বছর দুই সিটি কর্পোরেশন আয়ের মধ্যে দক্ষিণ সিটির আয় হয়েছিল ৭০৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা, আর উত্তর সিটির আয় হয়েছিল ৮১১ কোটি ৩ লাখ টাকা।

দুই সিটি কর্পোরেশন সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করেছে গৃহকর খাতে থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে উত্তর সিটির আয় হয়েছে ৩৬৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর আগের বছর ছিল ৩৪২ কোটি টাকা। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই খাতে আয় করেছে ৩২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের বছর আয় ছিল ২৫৪ কোটি টাকা। এরই মধ্যে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বাজেট অনুমোদন দিয়েছে করপোরেশন দুটি। গত ২৫ জুলাই ৫ হাজার ৪৮ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। গত ২৬ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) অনুমোদন দিয়েছে ৬ হাজার ৭৪১.২৮ কোটি টাকার বাজেট।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, কোভিড, কনফ্লিক্ট এবং ক্লাইমেট চেইঞ্জ, এই তিন সংকট মোকাবিলা করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন গত ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি মনে করি, আমরা সফল হয়েছি। সেবা পেতে নাগরিকদের বিভিন্ন ভোগান্তির প্রতিকার সম্পর্কে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ভোগান্তি কমাতে আঞ্চলিক অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

২০২২-২৩ সালের জন্য বাজেট অনুমোদন সভায় ডিএসসিসি মেয়র তাপস বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আমাদের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের নিরলস পরিশ্রমে গত ২ বছরে আমরা ঢাকাবাসীর প্রত্যাশাপূরণে উন্নত ঢাকার ভিত রচনা করতে পেরেছি। সর্বকালের ইতিহাস ভঙ্গ করে বিগত অর্থবছরে আমরা ৮৭৯ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আহরণ করেছি। আমরা মাত্র দুই বছরের মধ্যে একটি ভঙ্গুর করপোরেশনকে ঢাকাবাসীর আস্থার করপোরেশনে পরিণত করেছি।

রাজস্ব আদায়ে দুই সিটির মেয়র স্বস্তি প্রকাশ করলেও বছরজুড়ে সেবা পেতে নানা ভোগান্তির অভিযোগ নগরবাসীর। তারা বলছেন, সেবার বিপরীতে জনগণের কাজ থেকে টাকা সময়মতো টাকা আদায় করলেও সেবা দিতে সিটি কর্পোরেশন পিছিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে রাস্তা খনন ফি খাতে রাজস্ব আদায় করলেও ঠিক সময়ে এসব কাজ শেষ না হওয়ায় সড়কে ভোগান্তিতে পড়ে পথচারী ও যাত্রীরা। এখানো ঢাকার বেশির ভাগ সড়কে কাজ চলছে। এছাড়া জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে নগরবাসীর। বিশেষ করে সার্ভারের ত্রুটির কারণে রাজধানীর জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
সার্ভার পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ নিবন্ধিত ব্যক্তির প্রোফাইল ছিল উধাও। ফলে ঢাকার দুই সিটির ২০টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে জন্মনিবন্ধন শাখায় আবেদনের স্তূপ জমা ছিল। স্কুলে ভর্তি, বিদেশ গমনসহ নানা জরুরি প্রয়োজনে জন্মনিবন্ধন করতে দিয়ে আঞ্চলিক অফিসে প্রতিকার না পেয়ে অনেকেই ছুটে আসেন নগর ভবনে। দুই সিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন-সংক্রান্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়কে অভিহিত করা হলেও প্রতিকার মিলছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম কাউন্সিলরদের দায়িত্বে বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএনসিসি।

অন্যদিকে ট্রেড লাইসেন্স করতে কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা-পয়সা নেয়ারও অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। গত মে মাসে অঞ্চল-৪ (মিরপুর-১০) এ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ডিএনসিসি। অন্যদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী সরদার, লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল আহমেদসহ বেশ কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করে ডিএসসিসি।

রাজস্ব আদায়ে নগরবাসীকে জোর তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি জনগণের নাগরিক সেবা বাড়ানোর প্রতি কর্পোরেশনকে আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উত্তরার বাসিন্দা হাসনাত শাহীন। তিনি বলেন, মায়ের জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধন করাতে গিয়ে আমাকে নগর ভবন পর্যন্ত যেতে হয়েছে। আঞ্চলিক অফিস থেকে বলা হলো- নিবন্ধনে নামের বানানে ভুল আছে। তাই আগে ভোটার আইডির বানান ঠিক করতে হবে। ভোটার আইডি ঠিক করে নিয়ে যাওয়ার পর বলা হলো- সার্ভার কাজ করছে না। ১ সপ্তাহ ঘুরে নগর ভবন পর্যন্ত গিয়েও আমি কোনো সমাধান পাইনি।

নগরবাসীর ভোগান্তিহীন সেবা পেতে সিটি কপোরেশনের পদক্ষেপ সম্পর্কে ডিএসসিসির মুখপাত্র মো. আবু নাছের জানান, জনগণের ভোগান্তি কমাতে তারা দুই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। একটি হলো বিভিন্ন ফি নেয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ওয়ান-স্টপ সেন্টার চালু করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো- যেসব কর্মকর্তা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়