পাট খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

আগের সংবাদ

পণ্য বিনিময় প্রথা অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের উপায়

পরের সংবাদ

ফতেহপুর কে. জি. হাই স্কুলের স্মৃতি

মো. রুহুল আমীন

প্রশিক্ষণ কনসালটেন্ট, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২২ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২২ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

ঐতিহ্যবাহী ফতেহপুর কে. জি. হাইস্কুলের ১১০ বছর পূর্তি এবং পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ জুলাই। ১৯১৩ সালে ফতেহপুর গ্রামের সূর্যসন্তান বাবু কমলাকান্ত ও গুরুচরণ রায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপীঠটি যাত্রা শুরু করেছিল। অবিভক্ত ভারতের ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মহকুমার নবীনগর থানা সদর থেকে ছয় মাইল দক্ষিণে নবীনগর কোম্পানীগঞ্জ সড়কের অর্ধমাইল পূর্বদিকে স্কুলটির অবস্থান। সে সময় অত্র অঞ্চলে মুসলমান সম্প্রদায় এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় পিছিয়ে ছিল। তারপরও মানবদরদী হিন্দু সম্প্রদায়ের হয়ে গুরুচরণ রায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন।
এই স্কুলটি জন্মলগ্ন থেকেই লেখাপড়া, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় কুমিল্লা জেলার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ছিল। এই স্কুলে আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৬৬ সালে। আজ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। আমার বয়স্কাউট জীবনের শিক্ষাগুরু ক্রীড়া শিক্ষক শফিক স্যার আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, প্রেরণা দিয়েছেন। কর্মজীবনে প্রবেশ করেও স্কুলকে ভুলতে পারিনি। আজ স্মৃতিচারণ করছি আমার শিক্ষক প্রয়াত অখিল স্যার, খালেক স্যার, মতিউর স্যার, সোবহান স্যার, সামসুদ্দিন স্যার, রশিদ স্যার, জসিম উদ্দিন স্যার, হক স্যার, মান্নান স্যার, আমজাদ স্যার ও রহিম হুজুরকে। রশিদ স্যার আমাকে বারবার বলতেন এমনকি আমার বাবাকেও বলতেন আমি যেন খেলাধুলা ছেড়ে লেখাপড়ায় মনোযোগী হই।
প্রতি বছর স্কুলে অনুষ্ঠিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হতো এবং আমার অধ্যয়ন সময়কালে যতবার অনুষ্ঠান হয়েছে ততবারই ক্রীড়ায়, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এবং বয়স্কাউটে অবদান রাখার জন্য পুরস্কার পেতাম। মনে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত হাসান স্যারের কথা। ১৯৬৯ সালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হাসান স্যারের পরিচালনায় একটি নাটক অনুষ্ঠিত হয়। আমার সহপাঠী করিম, শফিক, মিজান, কবির এবং আরো কয়েকজন অভিনয় করেন। হাসান স্যার, তারই চাচাত ভাই ফজলু কাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার রাজমিস্ত্রী অনিল গানের তালে তালে অপূর্ব এক নাচ উপহার দিয়েছিলেন।
ফতেহপুর কে. জি. হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন দেশের অনেক কৃতী সন্তান। যাদের আমি চিনি এবং নাম শুনেছি। তাদের মধ্যে আছে অধ্যাপক আমিরুজ্জামান খান, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, আহম্মদপুরের মতিউর রহমান, ইসলামপুরের আবদুল গনি, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন, আবদুল খালেক যিনি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে প্রথম হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেন। নুরুল ইসলাম (জাফরপুর) পরিচালক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মজীবন শেষ করেন। কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন, সামরিক কর্মকর্তা আনিসুল হক মৃধা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ওমর ফারুক, যুগ্মসচিব আব্দুর নুর, ডিসি হরি মানিক্য, আরো অনেক নাম না জানা জ্ঞানীগুণী। এছাড়াও স্কুলের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন যারা তাদের মধ্যে যাদের নাম মনে পড়ে তারা হলেন : বনমালী বাবু, নিহার বাবু, অমল বাবু, নুরুজ্জামান মাস্টার, আলি আহম্মদ, সুলতান খন্দকার, হান্নান ভূঁইয়া রফিকুল হক (দাগু মিয়া), মোতালেব ডাক্তার, সামসুল হক চৌধুরী, হাজীপুরের রুপমিয়া চাচা, ইব্রাহিমপুরের সুদন মিয়া, বাসারুকের মতি ভাই।
কৈশোরের স্মৃতি মনে করার মাধ্যমেই পরিণত বয়স্করা আনন্দ পেতে পারেন- সেই আনন্দের প্রতিফলন ঘটতে পারে তাদের বর্তমান কর্মজীবনে। স্কুলের সুবিস্তৃত মাঠ, স্মৃতিবিজড়িত পুকুর, পুরনো ভবন, লাইব্রেরি, শিক্ষকদের ভালোবাসা সহপাঠীদের সঙ্গে দুরন্তপনা- এসবের কারণে সুখস্মৃতি যেন বিশাল ভাণ্ডার গড়ে ওঠে, সেই স্মৃতিকে লালন করার প্রয়োজন পড়ে প্রতিদিনের ক্লান্ত-ক্লিষ্ট জীবনে পুনর্মিলনী আমাদের সেই সুখস্মৃতিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় আমাদের শৈশবে। আমাদের সন্তানরা যারা গ্রামে বসবাস করেনি তারাও দেখেছে তাদের বাবা-মার বাল্য স্মৃতিগুলো।
অনেক কিছু লেখা হয়ে গেল। এবার আবার ফিরে যাই অনুষ্ঠানে। এমনতর আয়োজনের মধ্যে আমরা নিজেদের সমৃদ্ধ অতীতকে খুঁজে পাই। আর তাই প্রতি বছরই প্রতিটি বিদ্যালয়েই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান একান্ত কাম্য, যেখানে পুরনো ছাত্রদের পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে- সেকাল একালের।

মো. রুহুল আমীন
প্রশিক্ষণ কনসালটেন্ট, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার; সাবেক শিক্ষার্থী, ফতেহপুর কে. জি. হাই স্কুল, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়