প্রাথমিক শিক্ষা এখন শক্ত অবস্থানে

আগের সংবাদ

ফতেহপুর কে. জি. হাই স্কুলের স্মৃতি

পরের সংবাদ

পাট খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

আশরাফ আহমেদ

প্রভাষক, হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২২ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২২ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বেড়েছে পাট রপ্তানি। তবে মাঠ পর্যায়ে পাটচাষিদের পাট চাষের অনাগ্রহ। এক সময়কার এদেশের প্রধান ফসল ছিল পাট। তবে পাট চাষ কেন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে কিংবা পাট চাষের প্রতি কৃষকের অনীহা ও বিমুখতা বৃদ্ধি পাচ্ছে?
ইপিবির তথ্যানুযায়ী, বিগত ১২ বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে চারবার। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১৬.১৪ কোটি ডলার। কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে ১৩.৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৫ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৭৯.৯০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬.৫৪ শতাংশ বেশি। পাটের ব্যাগ ও থলে রপ্তানি বেড়েছে ৩০ শতাংশ, অন্যান্য পণ্য ৫ শতাংশ এবং হাতে বাছাই করা পাটের আঁশ ও স্ট্যাপল ফাইবার রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের অন্যতম খাত পাট। তবে সোনালি আঁশের দেশেই সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাঁচাপাট রপ্তানি, কালোবাজারিদের কাঁচাপাট পাচার বন্ধ ও ফড়িয়াদের কারণে পাটের সংকট। বিগত কয়েক বছর ধরে পাট উৎপাদন কমছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি দামের কারণে লাভ হওয়ার পরও পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষি। এর কারণ- পাটের উন্নতমানের বীজ সরবরাহ না থাকা, দাম অস্বাভাবিকভাবে ওঠা-নামা, অন্যান্য ফসল লাভজনক হওয়া, বন্যা, শিলাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব, পাটচাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, পাট চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ না করা, পাটের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর পাট চাষে খরচের তুলনায় দাম পাননি চাষিরা, যাতে পাটচাষ কমেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিরূপ আবহাওয়াও এর অন্যতম কারণ। তবে বিশ্ব বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় এবার পাটের ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। বর্তমানে সারা বিশ্বই সবুজায়নে জোর দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো পলিথিন ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে ইইউতে বিপুল পরিমাণ পাটের ব্যাগের চাহিদা সৃষ্টি হবে। বর্তমানে বিশ্বে বছরে ৫ হাজার কোটি পিস শপিং ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া পাটের শপিং ব্যাগ, শৌখিন ও আসবাবসামগ্রী তৈরির কাঁচামাল উৎপাদনেরও সুযোগ রয়েছে। ফলে রপ্তানির অন্যতম খাত হতে পারে পাট। সেজন্য এখনই এ খাতকে ঘিরে পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ দরকার। রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলোতে নতুন নতুন প্রযুক্তি না আসা, পণ্যের বহুমুখিতা না থাকা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি এবং অবকাঠামোগত ভঙ্গুরতার কারণে শীর্ষ রপ্তানি খাতের মর্যাদা হারায় পাট। পাটের সুদিন ফিরে আসলে বহু মানুষ উপকৃত হবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে যুগোপযোগী এবং বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা।

আশরাফ আহমেদ
প্রভাষক, হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়