ফতেহপুর কে. জি. হাই স্কুলের স্মৃতি

আগের সংবাদ

রেলক্রসিংগুলো নিরাপদ হবে কবে?

পরের সংবাদ

পণ্য বিনিময় প্রথা অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের উপায়

আনোয়ার ফারুক তালুকদার শামীম

ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২২ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৪, ২০২২ , ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘমেয়াদি করোনার ধাক্কা আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। দেশে দেশে স্থানীয় মুদ্রার ব্যাপক দর পতন, মুদ্রাস্ফীতির উস্ফলন মানুষের জীবনযাত্রাকে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। খাদ্যপণ্য, জ¦ালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিভিন্ন দেশ। সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে শ্রীলঙ্কা। আমাদের কাছের এবং দক্ষিণ এশিয়ার সবদিক থেকে স্থিতিশীল এক অর্থনীতির দেশ ছিল শ্রীলঙ্কা। সে দেশের এত দুরবস্থায় পড়তে হবে সেটা অনেক বিশেষজ্ঞই ভাবেননি। কোভিড-১৯ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও এদের অভ্যন্তরীণ রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতি দেশটিকে আজকের এই অবস্থায় নিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আরো কিছু কিছু দেশ পড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা আশঙ্কা করছে।
২-৩ বছর আগে শ্রীলঙ্কা যে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল, বিশ্বের কিছু কিছু দেশ এখন সেই সমস্যায় পড়েছে। সুতরাং এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আরো অনেক দেশকে শ্রীলঙ্কার মতো পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোনোভাবেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনীয় নয়। শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণ জিডিপি অনুপাত হচ্ছে ১০৪ শতাংশ আর বাংলাদেশের হচ্ছে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২১ শতাংশ। তথাপি যেহেতু টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন হচ্ছে এবং রিজার্ভ কমে যাচ্ছে তাই আমাদের এখনই সাবধান হতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এগুলোর কার্যকারিতা শিগগিরই দেখা যাবে। সঠিকভাবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এসব সমস্যায় নিপতিত দেশগুলোকে উদ্ধার করতে পারে। প্রথমত খাদ্যপণ্য উৎপাদনের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মানুষ যেন প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। অপচয় আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশীয় সম্পদ আহরণ এবং ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের দিকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের দেশের কথা যদি বলি তাহলে প্রথমেই আসে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে; কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে রসদ দরকার তার ঘাটতি আছে। অথচ আমাদের মাটির নিচে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস আছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গ্যাস জরিপকারী সংস্থার দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়। বিদ্যুৎ সব শক্তির চাবিকাঠি। বিদ্যুৎ না থাকলে কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এতে উৎপাদন কমে যায়। আমাদের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো একই সমস্যায় পতিত হবে। উৎপাদন ব্যাহত হলে মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা সংকুচিত হবে। তখন আবার বেকারত্ব বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ রেশনিং করে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে- যেটি আশার কথা। সমস্যা চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নিলে সংকট উত্তরণ সহজ হবে।
যেহেতু ডলার সমস্যার কারণে আমদানি কমাতে হচ্ছে তাই আমি একটি বিষয় এখানে আলোকপাত করতে চাচ্ছি, যা হলো বার্টার (পণ্য বিনিময়) প্রথা চালু করা নিয়ে। বার্টার বাণিজ্যের একটি পদ্ধতি, যা এক পক্ষ পণ্য এবং পরিষেবাগুলোর বিনিময়ে প্রয়োজনীয় পণ্য এবং পরিষেবা অন্যের কাছে বিনিময় করে। এই পদ্ধতিতে, ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে একটি পণ্য অন্য পণ্যের বিপরীতে বিনিময় হয়। পণ্য বিনিময় প্রথা বিশ্বের মুদ্রা ধারণা বিকশিত হওয়ার আগে ব্যবহৃত হত। তবুও আজ রাষ্ট্রীয়, করপোরেশন, কোম্পানি, ব্যক্তি এবং ব্যবসাগুলোর মধ্যে এই বিনিময় ব্যবস্থা এখনো প্রচলিত। যেহেতু সরাসরি বিনিময়ে অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হয় না, তাই এটি ব্যবহার করা যেতে পারে যখন অর্থের সরবরাহ কম থাকে। কমপক্ষে কিছু কিছু দেশের সঙ্গে আমদানি বা রপ্তানি যেটি কম সেই পরিমাণ পণ্য অন্ততপক্ষে বার্টার প্রথায় চালু করা যেতে পারে। এতে বিশেষ একটি মুদ্রার ওপর চাপ কমে আসবে। ফলস্বরূপ সেই মুদ্রার মান কমতে থাকবে এবং একসময় একটা স্থিতিশীল অবস্থায় উপনীত হবে। তাই সংকটে ভীত না হয়ে সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিলে সংকট থেকে তো উদ্ধার হওয়া যাবেই; উপরন্তু লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা যায়।

আনোয়ার ফারুক তালুকদার শামীম
ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়