জলবায়ু পরিবর্তন : প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

আগের সংবাদ

পরিবেশ, প্রাণ, প্রকৃতি রক্ষা করতে হবে

পরের সংবাদ

অপ্রতিরোধ্য সড়ক দুর্ঘটনা

রতন কুমার তুরী

লেখক ও শিক্ষক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২২ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২২ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

দিন দিন যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে সড়ক দুর্ঘটনা। পরিস্থিতি যদি এমন হয় তাহলে সড়কে এবং যানবাহনগুলোয় নির্ভয়ে চলাফেরা করাই কঠিন হয়ে যাবে। প্রায় প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে পরিবারের একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে কারো কারো পরিবার আবার একেবারে নিঃস্ব এবং অসহায় হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ আবার সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এমন দুঃসহ পরিস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টানার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ ইদানীং এমন কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে যা মেনে নেয়া কষ্টকর। প্রকৃতপক্ষে সড়ক দুর্ঘটনার বহুবিধ কারণ থাকলেও সড়কে যানবাহন চালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে পালন না করাকেই সড়কগুলোয় দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত দায়ী বলা চলে। মূলত বেপরোয়াভাবে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা যানবাহনগুলোই প্রতিনিয়তই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। যানবাহন চালকদের মধ্যে অনেকেই আছে একেবারে খামখেয়ালি ধরনের। তাদের কাছে কত দ্রুত পৌঁছে আবার ভাড়া নিয়ে ফিরে আসা যায় সেটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়, ফলে তারা গাড়ির চালকের আসনে বসে মানুষের জীবন নিয়ে খেলতেও দ্বিধাবোধ করে না।
আমরা এ ধরনের চালকদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাদের অন্তত ৬ মাসের জন্য একটি বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যানবাহন পরিচালনার নিয়মগুলো হাতে কলমে শিখিয়ে দেয়ার পর তাদের সড়কে যানবাহন চালনার অনুমতি দেয়ার পক্ষপাতি। যদিও এ বিষয়ে আইন রয়েছে কিন্তু এসব আইন বেশিরভাগ চালকরা মেনে চলে না ফলে এ বিষয়ে কর্মশালার প্রয়োজন রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি সেফটি ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন তাদের গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, ২০২১ সালে দেশব্যাপী ৫ হাজার ৩৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রাণ হারিয়েছে ৬ হাজার ৪৮৪ জন। আর আহত হয়েছে ৭ হাজারেরও অধিক মানুষ। ২০২১ সালে চট্টগ্রামের চকোরিয়ায় বাবার শ্রাদ্ধকর্ম থেকে ফেরার পথে ৫ ভাইয়ের একসঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বহু মানুষকে কাঁদিয়েছে। এর পরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ওই সড়কে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে; কিন্তু এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কোনো চালকের বিচার হয়নি। সাম্প্রতিক দক্ষিণ চট্টগ্রামের মিরসরাই নামক স্থানে একটি রেল ক্রসিংয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন ছাত্র এবং শিক্ষকের মৃত্যু হলে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি দুর্ঘটনা বিশ্লেষকরা আবারো ভাবতে শুরু করেছেন। এতদিন বড় বাস, ট্রাক, লরি, কার ইত্যাদি যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হতো বেশি, বর্তমানে দুর্ঘটনায় যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেলের মতো যান। ইদানীং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়ও ব্যাপকসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু একেবারে অনাক্সিক্ষত। একজন সুস্থ-সবল মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে গাড়ি করে কোনো জরুরি কাজে গিয়ে আর কখনোই তার স্বজনদের মাঝে ফিরে আসলেন না, এটা বড়ই বেদনাদায়ক এবং এটা মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর। অনেক সময় এই বেদনার ভার অনেককেই সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। চালকরা যদি একটু সচেতন হয় এবং তারা যদি চালকের আসনে বসে নিজেদের সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো থেকে নিজেদের বিরত রাখে তাহলে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এর বাইরে চালকদের প্রত্যেককে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা থাকতে হবে এবং চালকরা গাড়ি চালানোর সময় কোনো অবস্থাতেই নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করতে পারবে না। অযথা গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিয়ে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছানোর মনমানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। এ ধরনের গাড়ি চালানো দেখলে রাস্তার যে কোনো জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ওই গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চালককে বাধ্য করতে হবে।
আমরা শুধু চালকদের কিছু খামখেয়ালির কারণে সড়কে প্রতিদিন তাজা প্রাণ ঝরে যাক তা কখনো প্রত্যাশা করি না। আমরা চাই সড়ক পথে শৃঙ্খলা। আমরা চাই সড়কগুলোয় চালক, যাত্রীসাধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সমন্বয়, যে সমন্বয়ের মাধ্যম সড়কপথে দুর্ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

রতন কুমার তুরী : লেখক ও শিক্ষক, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়