শোকের আগস্ট বাঙালির দহনকাল

আগের সংবাদ

মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায় কে নেবে?

পরের সংবাদ

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২২ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১, ২০২২ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

মোটরসাইকেল চালকরা আইন-কানুন ও ট্রাফিক আইন কিছুই মানতে নারাজ। এতে বাড়ছে প্রাণহানি, অঙ্গহানি। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। কুরবানির ঈদযাত্রায় ১১৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। এই সংখ্যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৪২ শতাংশ ও নিহতের ৩২ দশমিক ৯১ শতাংশ। সড়কে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় ৪৮ শতাংশই মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। রাজধানীসহ সড়ক-মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চালিত মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা এখন জরুরি। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। জানা গেছে, সারাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের ২৫ শতাংশই ঢাকায়। প্রতিদিন মোটরসাইকেল নিবন্ধিত হচ্ছে গড়ে ৪১৫টি। বিআরটির তথ্যমতে, সারাদেশে ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮৮টি মোটরসাইকেল রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকায় রয়েছে ৯ লাখ ১৪ হাজার ৮১৭টি মোটরসাইকেল। রাজধানীর যানজট এড়িয়ে কর্মক্ষেত্রে মানুষকে দ্রুত পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রায় ৪-৫ বছর ধরে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালু রয়েছে। কর্মজীবীরাও দ্রুত কর্মস্থলে পৌঁছতে এসব ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল বেছে নেন। ফলে যানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তবে এসব মোটরসাইকেল যারা চালায়, তারা যাত্রীকে সময় বাঁচিয়ে দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শুধু ভাড়াভিত্তিক মোটরসাইকেলই নয়, এর বাইরে যারা মোটরসাইকেল চালায়, তাদের মধ্যেও বেপরোয়া ভাব রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মহাসড়কে প্রায় ৩৮ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে বৃষ্টির মৌসুমে রাতের বেলা। অন্য গাড়ি তাদের ধাক্কা দিয়েছে কিংবা রাস্তায় বাইক পিছলে গেছে। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়াও দুর্ঘটনার একটি কারণ। অদক্ষ চালক, অবৈধ ওভারটেকিং, পুরনো যন্ত্রাংশ, মোবাইলে কথা বলতে বলতে ড্রাইভ করতে থাকা ইত্যাদি কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালকদের একটা বড় অংশ টিনএজার। এরা নিয়ম-নীতি ও ট্রাফিক আইনের ধার ধারে না। এক মোটরসাইকেলে দুজন-তিনজন পর্যন্ত চলাচল করে। হেলমেট পর্যন্ত ব্যবহার করে না। উদ্ধত, বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল টিনএজারদের মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া তাই এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা তুলনামূলক কম। তারা সুযোগ পেলেই আইন ভেঙে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অবস্থায়ই হাঁটার পথে মোটরবাইক চালানো যাবে না। এছাড়া ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-তে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, আইনগুলো বাস্তবায়ন হলে ফুটপাতে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য অনেকাংশেই কমে যাবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিড রাডার বসানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সীমার তুলনায় অধিক গতিতে মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহন চালানো নিরুৎসাহিত করা জরুরি। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়