শেষ সংলাপে রবিবার ইসির সঙ্গে বসছে আ.লীগ

আগের সংবাদ

ক্ষমতাবানদের জন্য পাল্টে যাচ্ছে বিধি

পরের সংবাদ

মিরসরাইয়ে ১১ তরুণের মৃত্যু : অরক্ষিত রেলক্রসিং দেখার কেউ নেই!

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২২ , ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৩১, ২০২২ , ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

অরক্ষিত ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটে চলেছে। অথচ এগুলো সুরক্ষিত করার কোনো তাগিদ নেই। সর্বশেষ গত শুক্রবার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঝরনা দেখে ফেরার পথে ১১ তরুণের প্রাণ গেল। দুপুরের দিকে স্থানীয় খৈয়াছড়া গ্রামের ঝরনা এলাকার রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রেন থামার পর দেখা যায়, ১৬ জন যাত্রীর ১১ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গেটম্যান না থাকার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের রেলপথগুলো কতটা অরক্ষিত এবং এর নিরাপত্তাব্যবস্থা যে কত ঠুনকো, তা?র এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত হলো এ দুর্ঘটনা। জানা গেছে, ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেল দুর্ঘটনায় হাজার জন মারা গেলেও তার মধ্যে শুধু লেভেল ক্রসিংয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৩৬ জনের। কী ভয়াবহ পরিসংখ্যান। এমন মৃত্যু কখনো কাম্য নয়। তারপর নিয়তির কাছে আমাদের হার মানতে হচ্ছে। রেলসূত্র বলছে, সারাদেশে রেল নেটওয়ার্কে সর্বমোট ২ হাজার ৮৫৬টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ১ হাজার ৭৬১টিই অনুমোদনহীন। এর মধ্যে মাত্র ২৪২টিতে রেলের স্থায়ী রক্ষী রয়েছে, আর ৮২০টিতে রয়েছে চুক্তিভিত্তিক রেলরক্ষী, যা মাত্র ৩১ শতাংশ। রক্ষীবিহীন ক্রসিং আছে ১ হাজার ৭৯৪টি অর্থাৎ ৬৯ শতাংশ ক্রসিংয়ে রক্ষী নেই, আর অনুমোদনহীন ক্রসিং ৬২ শতাংশ। এই অবৈধ ক্রসিংগুলো পুরোপুরিই অরক্ষিত। এগুলো দিয়ে পারাপার, রেললাইনের ওপর দিয়ে অবাধে চলাচলসহ নানা কারণে প্রতি বছর গড়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। এটাই যখন বাস্তবতা, তখন রেল কর্তৃপক্ষের করণীয় কী? দেশে রেলপথে রেলক্রসিং স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধ করার দায় আইনত কোন কর্তৃপক্ষের? বর্তমান বাস্তবতায় তাদের ভূমিকা কী। রেল সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বহু প্রকল্প গ্রহণের কথা আমরা শুনে আসছি। কিন্তু রেলের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা রেলক্রসিং সুরক্ষিত করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। বৈধ রেলক্রসিংগুলোতে গেটম্যান নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা কেন? আর অবৈধ রেলক্রসিংগুলোর ব্যাপারে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা এগুলো স্থাপিত হয়। কিন্তু এগুলোতে অরক্ষিত মৃত্যুফাঁদ হয়ে তো থাকতে পারে না। অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধের ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার কথাও শোনা যায়। অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের ব্যাপারে আইন কী বলছে তা আমরা জানি না। তবে না জেনেও আমরা বলতে পারি, এসব ক্রসিংকে ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে। রেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে রেলক্রসিংগুলোকে অবশ্যই সুরক্ষিত করতে হবে। বৈধ রেলক্রসিংগুলোতে অবশ্যই গেটম্যান থাকা নিশ্চিত করতে, যেখানে নেই সেখানে দ্রুত নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করতে হবে। অবৈধ রেলক্রসিংগুলো আইনানুগভাবে বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে, নেহাত বন্ধ করা না গেলে যথাযথ অবকাঠামো ও গেটম্যান দিয়ে এগুলো সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে রেলগেট মরণফাঁদ হয়েই থাকবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়