বাড়ছে ট্রেনের লেভেল ক্রসিংয়ে মৃত্যু, থামার উপায় কি

আগের সংবাদ

পান্না কায়সারকে সংবর্ধনা দিল কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর

পরের সংবাদ

ধ্রুপদী নৃত্যে শ্রাবণের সন্ধ্যা মাতালেন আমেরিকা প্রবাসী মার্জিয়া স্মৃতি

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২২ , ৯:৩৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৩০, ২০২২ , ৯:৫০ অপরাহ্ণ

আমেরিকায় থেকেও নিজ দেশের সংস্কৃতিকে হৃদয়ের গহীনে লালন করেছেন নৃত্যশিল্পী মারজিয়া স্মৃতি। আর লালিত সেই সংস্কৃতির ধ্রুপদী নৃত্যকে তুলে ধরলেন এদেশের নৃত্যানুরাগি দর্শকদের সামনে। ভরতনাট্টম, কত্থক, মনিপুরি ও ওড়িশী নৃত্যের শাস্ত্রীয় ছন্দে মুগ্ধ করলেন এদেশের দর্শকদের।

শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আমেরিকা প্রবাসী নৃত্যশিল্পী মারজিয়া স্মৃতি ‘কালারস অব রিদম’ শীর্ষক ধ্রæপদী নৃত্যের মায়াজালে মুগ্ধ করলেন দর্শকদের। বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস বাফার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বল ও সার্বিক তত্বাবধানে ছিল সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার। অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, পরিচালনা এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন শিল্পী নিজেই।

ছবি: ভোরের কাগজ

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে নাট্যজন আতাউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা, নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরো, বাফার সহ প্রতিষ্ঠাতা ফরিদা ইয়াসমিন, নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বলের সাধারণ সম্পাদক ড. চঞ্চল সৈকত প্রমুখ।

কত্থক নাচ দিয়েই আসরের উদ্বোধন ঘটে। এ পর্বে শিল্পী ‘বন্দনা’ ও ‘তারানা’ পরিবেশন করে মিলনায়তনে সৃষ্টি করেন শাস্ত্রীয় মায়াজাল। অনুষ্ঠানে শিল্পী আরো পরিবেশন করেন ‘আমি বীরাঙ্গনা আমি রজনীগন্ধ্যা’ শিরোনামের একক পরিবেশনা। এছাড়া আরো ছিল দেশাত্মবোধক দলীয় নৃত্য বাংলার কথা।
নিজের একক পরিবেশনা ছাড়াও সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের শিল্পীদের নিয়ে তিনি বিভিন্ন ঘরানার বেশ কয়েকটি নাচ পরিবেশন করেন।

ধ্রæপদী নাচের এই আসরে বড় পর্দায় দেখানো হয় নৃত্যশিল্পী স্মৃতিকে নিয়ে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল।

এরপর রবীন্দ্রনৃত্যনাট্য মায়ার খেলার দলীয় পরিবেশনায় ‘মোরা জলে স্থলে কত চলে’ গানের সাথে অডিও-ভিজ্যুয়ালে দেখানো হয় মায়ার খেলার কিছুটা অংশ। পরে দর্শক আবারও সরাসরি উপভোগ করেন মায়ার খেলার ‘সখি সে গেল কোথায়, দে লো সখি দে, মন দিতে এসেছি, বলো সখি বলো গানগুলোর নৃত্যাংশ।

এই পরিবেশনা শেষে রবীন্দ্রনৃত্যনাট্য চণ্ডালিকার দলীয় পরিবেশনায় ছিল ‘নব বসন্ত, যে আমারে, কি যে ভাবিস তুই, জল দাওসহ কয়েকটি গানের অংশ। রবীন্দ্র নৃত্যনাট্যের শেষ পরিবেশনায় বড় পর্দায় দেখানো হয় ‘চিত্রাঙ্গদা’।

ছবি: ভোরের কাগজ

মাত্র ১৪ মাস বয়সে পরিবারের সাথে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন তিনি। প্রায় ১৮ বছর আগে বাংলাদেশে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কত্থক, রবীন্দ্রনৃত্য এবং বাংলাদেশী লোকনৃত্যের পাশাপাশি ওড়িসি, ভরতনাট্যমেও পারদর্শী মারজিয়া স্মৃতি ২০১৬ সালে বাফা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যনাট্য ‘চণ্ডালিকা’, একই বছর বাংলাদেশ মিশন এবং বাংলাদেশ কনসুলেট অব নিউইয়র্কের যৌথ আয়োজনে ‘চণ্ডালিকা’ মঞ্চস্থ হয় ম্যানহাটনের বারুক কলেজে, ২০১৭ সালে নিউইয়র্কের কুইন্স থিয়েটারে রবীন্দ্রনৃত্যনাট্য ‘মায়ার খেলা’, ২০১৮ সালে নিউইয়র্কের কুইনস থিয়েটারে রবীন্দ্রনৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’, ২০১৯ সালে বাফা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযোজনায় নৃত্যনাট্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’, ২০২০ সালে ‘আমি বীরাঙ্গনা’, ২০২২ সালে নিউইয়র্কে শেকড়সন্ধানী ভাবনা নিয়ে ‘আমাদের পরিচয়’ পরিবেশন করেন। নাচে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নিউইয়র্ক সিনেট, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল, স্টেট অ্যাসেম্বলি, ব্রঙ্কস বরোহ অফিস এবং ব্রঙ্কস কাউন্সিল অন দ্য আর্টস তাকে দিয়েছে একাডেমিক স্বীকৃতি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়