গ্যাস নিয়ে ঠাণ্ডা যুদ্ধ ইউরোপ ও রাশিয়ার

আগের সংবাদ

প্রশ্নবিদ্ধ দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি!

পরের সংবাদ

নিপোর্টের গবেষণা

৩০ জেলার ২৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই মেডিকেল অফিসার

প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২২ , ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২২ , ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ

দেশে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্যেকটা জেলা ও উপজেলায় একটি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে এসব কেন্দ্রে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। দেশের ৩০ জেলার ২৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই মেডিকেল অফিসার। দুটি জেলায় থাকলেও প্রস্থান করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এছাড়া পাঁচটি উপজেলায় কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে না। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, গবেষণাটি ৩০টি জেলা নিয়ে করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আব্দুল হামিদ এই গবেষণা উপস্থাপন করেন। গবেষণাটি করতে দেশের ১২৮টি সংস্থা ও তিন হাজার ৪২০ জনের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বাদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রতিষ্ঠানের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে তেমন কোনো অবদান নেই। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অবকাঠামো থাকলেও চরম জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পরিসংখ্যান বলছে, ৩০টি জেলা-উপজেলার মধ্যে পাঁচটি উপজেলায় কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে না। এমনকি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিও বাস্তবায়ন হয় না। এসব উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নে স্ট্যান্ডিং কমিটির কোনো মিটিংও হয় না। যদিও নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে একবার এই মিটিং হওয়ার কথা। এসব এলাকায় গরিব, খেটে খাওয়া মানুষ ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে (প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি) তাদের কোনো কার্যক্রম নেই।

এছাড়া গবেষণায় দেখা যায়, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বরত কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত নয়। এই সমস্যা উত্তরণে গবেষণাপত্রে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। দুই মন্ত্রণালয়ে সমন্বিত উদ্যোগ এই পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য মানেই শুধু রোগ আর হাসপাতাল নয়। এটি অনেক বড় একটি বিষয়। করোনায় অসংখ্য মানুষ ডিপ্রেশনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। সেক্ষেত্রে শুধু করোনার চিকিৎসাতেই স্বাস্থ্যসেবা সীমাবদ্ধ নয়। মেন্টাল হেলথের বিষয়টাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। করোনা পরবর্তী নানা জটিলতাকেও সামনে নিয়ে আসতে হবে। এটিও কিন্তু স্বাস্থ্য সেবার অন্তর্ভুক্ত।

তিনি আরো বলেন, আমরা শুধু স্থাপনা করে দিলাম আর কিছু জনবল দিয়ে দিলাম, তাহলেই কিন্তু শেষ নয়। দক্ষ জনবলের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবস্থাটাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ নিউট্রিশন সার্ভিসে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আগে অসংখ্য মানুষ রাতকানা রোগে ভুগতো কিন্তু এখন সেই হার অনেক কমে এসেছে। পুষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়