এনআইডি তথ্য সেবা নিচ্ছে ১৬০ প্রতিষ্ঠান

আগের সংবাদ

‘চাঁনমুখর মধুর হাসি’ বঙ্গবন্ধু টানেল

পরের সংবাদ

সেন্টার হোক কিন্তু বন নষ্ট করে কেন?

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২২ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২২ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম হলেও তা সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেই বললে চলে। বরং বনের জমিতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে পরিবেশ ও বন ধ্বংস করা হচ্ছে। অতিসম্প্রতি সরকার ‘টেকনিক্যাল সেন্টার’ নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) কক্সবাজারের জঙ্গল খুনিয়াপালং সংরক্ষিত বনের ২০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। বন বিভাগের আপত্তির পরও এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। জানা যায়, বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে জমি চেয়ে আবেদন করে। ভূমি মন্ত্রণালয় সেই আবেদন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে তারা সরেজমিন তদন্ত করে এ বিষয়ে মতামত জানানোর জন্য বন বিভাগকে নির্দেশ দেয়। এর জবাবে বন বিভাগ জানায়, প্রস্তাবিত স্থান বরাদ্দ দেয়া সমীচীন হবে না। কেননা টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মিত হলে ওই এলাকার বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়াসহ পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ আপত্তির পর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আবেদনটি নাকচ করে দেয়া। সেটি না করে তারা সংরক্ষিত বনভূমিতে বাফুফের সেন্টার করার অনুমতি দিয়েছে। তাদের এ সিদ্ধান্ত বন আইন ও সংবিধানের পরিপন্থি। ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট আর কোনো বনভূমির প্রকৃতির পরিবর্তন করার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন। তাই খুনিয়াপালং মৌজার ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হওয়ায় সেখানকার বন ও গাছপালা কর্তন বা আহরণ এবং ভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন হতে পারে এমন সব কাজ আইনত নিষিদ্ধ। বাফুফের উল্লিখিত ‘টেকনিক্যাল সেন্টার’ করতে গেলে ৩০ হাজার গাছ কাটতে হবে। অন্যদিকে ওই এলাকা এশীয় বন্যহাতি, বানর, শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির বিচরণস্থল। উন্নয়নের নামে যদি আমরা এ প্রাকৃতিক ঢাল দুর্বল করে ফেলি, তাহলে সেখানকার গাছপালা তো বটেই, পশুপাখিও মরে যাবে। এক জরিপে বলছে, তিন বছরে কক্সবাজারে ২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ বন উজাড় হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের হাতে হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ, বাকি ৯০ শতাংশ হয়েছে স্থানীয়দের মাধ্যমে। কক্সবাজার ছাড়া আর কোনো জায়গা নেই যেখানে এ সেন্টার করা যাবে না। কক্সবাজারেই খাসজমি আছে। বন ও পরিবেশ রক্ষা সরকারের দায়িত্ব। আমাদের অনুরোধ থাকবে, এ বরাদ্দ বাতিল করা হোক। অন্যত্র টেকনিক্যাল সেন্টার করা হোক। বাংলাদেশের বন, বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈচিত্র্য, বৈশ্বিক উন্নয়ন অভীষ্টের ১৫তম সূচক বন আচ্ছাদন তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাহাড়ি বনের গুরুত্ব অপরিসীম। অতএব বনভূমি রক্ষায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়