দুই দিনব্যাপী ডি-৮ সম্মেলন শুরু

আগের সংবাদ

‘আমাদের অর্থে আমাদের পদ্মা সেতু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন'

পরের সংবাদ

নতুন সাজে চবির শাটল ট্রেন, যেখানে আনন্দের সঙ্গে শঙ্কাও

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২২ , ২:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২২ , ২:১৫ অপরাহ্ণ

শাটল ট্রেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আবেগের নাম। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে আগেই উঠে আসে এই শাটল ট্রেনের নাম। এবার সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন মাত্রা জুড়ে দিয়েছেন জার্মান তরুণ লুকাস জিলেঞ্জার। যিনি রঙিন সাজে সাজিয়েছেন শাটল ট্রেনকে। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন তার সহধর্মিণী লিভিয়া।

গত ২১ জুলাই থেকে রঙের কাজ শুরু করেন লুকাস ও লিভিয়া। বৃষ্টির মধ্যেও থেমে থাকেনি তাদের কাজ। প্রতিদিন গড়ে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করে পাঁচ দিনে রাঙিয়ে তুলেন শাটল। যেখানে স্থান পেয়েছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন, সংসদ ভবন, সিআরবি, সূর্যাস্তের দৃশ্য, সমুদ্রসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্যের শিল্পকর্ম। তাদের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকে ট্রেনের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছেন, রেখে দিচ্ছেন স্মৃতি।

জানা গেছে, প্রথমবার ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে লুকাসের পরিচয় হয় চবির নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক অরুপ বড়ুয়ার সঙ্গে। পরিচয়ের সূত্র ধরে শাটলে চিত্রকর্ম করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন লুকাস। শুধু আগ্রহই নয়, এই কাজ করতে কয়েকবার বাংলাদেশেও আসেন তিনি। প্রশাসন আর রেলওয়ের অনুমতি নিয়েই শুরু করেন কাজ। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ কাজটি করেছেন লুকাস।

রঙিন সাজে সেজেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শার্টল ট্রেন। ছবি: ভোরের কাগজ

তিনি বলেন, আমার কাছে ট্রেন হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ ক্যানভাস। তাই গ্রাফিতির জন্য ট্রেন একটা আদর্শ জায়গা। এজন্য শাটল ট্রেন বেছে নিয়েছি। আমরা কিছু শিক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আমরা চাই, মানুষ যাতে এখান থেকে শিখতে পারে। তরুণেরা সব সময় নতুন কিছু শিখতে চায়। তারা গ্রাফিতি দেখবে, চিন্তা করবে ও এটা নিয়ে গবেষণা করবে। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এ বাহনে কাজ করতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি। বাংলাদেশ খুবই সুন্দর একটা দেশ, সুযোগ পেলে আমি এখানে আরও কাজ করতে চাই।

তবে লুকাসের রঙ শাটলের বাহ্যিক পরিবর্তন আনলেও ভেতরের সমস্যাগুলো সমাধানের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি পর্যাপ্ত বগি বৃদ্ধি, লাইটিং বাড়ানো, ফ্যানগুলো সচল করাসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, নতুন রূপে ফিরেছে শাটল। এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। যিনি এই মহৎ করেছেন তিনি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু হাজারো শিক্ষার্থীর আবেগ-গর্বের শাটল কতটুকু স্বস্তির জায়গা? যৌন হয়রানী থেকে শুরু করে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।

তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা রঙিন শাটল নয় বরং নিরাপদ শাটল চায়। শাটলের বগি বাড়ানোর আন্দোলন চলছে বহুদিন ধরে। কিন্তু প্রশাসন থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের স্বদিচ্ছা পারে এসব সমস্যার সমাধান করতে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়