চবিতে যৌন হেনস্তা : ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

আগের সংবাদ

সংরক্ষিত বনে বাফুফেকে জমি বরাদ্দে বিক্ষুব্ধ পরিবেশবাদীরা

পরের সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে কৃষক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২২ , ৮:২১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২২ , ৮:২১ পূর্বাহ্ণ

উত্তরাঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে গেছে > লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ ব্যবস্থা বিঘ্নিত

দেশে বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সরকার দিনে ১ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা বললেও অনেক এলাকায় তা ৮ ঘণ্টার বেশি হচ্ছে। ফলে প্রয়োজন মতো সেচযন্ত্র চালানো যাচ্ছে না। এতে ফসল বোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সারাদেশেই লোডশেডিং ব্যবস্থাপনায় হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে থেকে নিয়ম মেনে লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দেয়া হলেও বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। খোদ রাজধানী ঢাকাতেই কোনো কোনো এলাকায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের নাটোর, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ এলাকায় হিমাগারের রাখা পণ্যের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেসকো ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন সব এলাকাতেই লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-

কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জে বর্ষাকালেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া এবং বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে আমন আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমনের বীজতলায় অনেক আগেই বীজ ছড়ানো হয়েছে। এখন সে বীজতলা থেকে ধানের চারা জমিতে রোপণ করার কথা। কিন্তু বর্ষাকালেও এদিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ের কারণে আমনের জমি চাষাবাদ বিঘিœত হচ্ছে। কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের হাত্রাপাড়া গ্রামের শিক্ষক আবুল বাসেদ জানান, গ্রামাঞ্চলে রাত-দিন ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। করিমগঞ্জের জয়কা ইউনিয়নের জয়কা গ্রামের কৃষক নুরুল গণি ভুঁইয়া, মধুরাপাড়া গ্রামের কৃষক আলাল উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের জমিতে সেচ দেয়া যাচ্ছে না। এতে সময় মতো আমন আবাদ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন।

কুড়িগ্রাম : সরকার ঘোষিত জ¦ালানি সাশ্রয়ে সারাদেশের মতো কুড়িগ্রামেও বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ২ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা সদরের তুলনায় গ্রাম পর্যায়ে লোডশেডিংয়ের অবস্থা ভয়াবহ বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় অস্বাভাবিক গরমে মানুষজন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানার মালিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলে খরা পরিস্থিতি বিরাজ করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আসন্ন আমন মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়া এবং একেক সময় একেক রকম বরাদ্দ দেয়ায় লোডশেডিংয়ের রুটিন মেনে চলা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন তাদের গড়ে ফিডারপ্রতি ২ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পল্লী অঞ্চলের গ্রামীণ লাইনের ফিডারগুলোয় এর পরিমাণ আরো অনেক বেশি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের বিদ্যুৎ গ্রাহক শাহিনুর রহমান বলেন, এমনিতেই আগে থেকে আমরা গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ কম পেয়ে থাকি। গড়ে ৩-৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো। এখন আমরা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।

ওই ইউনিয়নের শামসুল আলম বলেন, এবার বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এর ওপর তীব্র খরায় জমি শুকিয়ে গেছে। শ্রাবণ মাস চলছে, আমন ধান রোপণ করার সময়। বৃষ্টি না হলে সেচ দিয়ে আমন ধান রোপণ করতে হবে। এ সময় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক না হলে আমন চাষ ব্যাহত হবে। একই অবস্থা বিরাজ করছে, জেলার নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী, উলিপুর, চিলমারি, রাজারহাট ও ভূরুঙ্গামারীতে।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬৭ মেগাওয়াট কিন্তু এর বিপরীতে মিলছে মাত্র ৪৫ মেগাওয়াট। তাও আবার একেক সময় একেক পরিমাণে। তার ভাষায়, কখনো ৪৫ কখনো ৩৫ কখনো ৩০ মেগাওয়াট।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ভরা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির অভাবে আমন রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা। খরার কারণে জমি ফেটে চৌচির হয়েছে। বীজতলাও ফেটে গেছে। কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কৃষক জমিতে পানি সেচ দিয়ে আমন রোপণ করতেও পারছেন না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত মাত্র ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমন চাষের উপযুক্ত সময়।

কৃষকরা বলছেন, এ সময়ে চারা রোপণ করলে ফলন ভালো হয়। কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না। চারদিকে খাখা করছে। খরার কারণে জমি ফেটে চৌচির হয়েছে। বীজতলাও ফেটে গেছে। মরে যাচ্ছে আমনের চারা। কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কৃষক জমিতে পানি সেচ দিয়ে আমন রোপণ করতেও পারছেন না। নেসকো লিমিটেডের আওতাধীন গাইবান্ধা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ ও ২ কার্যালয় সূত্র জানায়, দুই বিভাগের আওতায় প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। ২৫ লাখের বেশি লোক অধ্যুষিত গাইবান্ধা জেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ২৪ মেগাওয়াট। আগে দৈনিক সরবরাহ হতো ১৩-১৪ মেগাওয়াট। গত ১৬ জুলাই থেকে দৈনিক মাত্র ৭-৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। আগে তেমন একটা লোডশেডিং হতো না। বর্তমানে দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি গ্রামের স্কুল শিক্ষক ও কৃষক মিজানুর রহামান বলেন, ১০ শতক জমিতে বীজতলা করেছি। খরার কারণে সেই বীজতলা পুড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে জমিতে রোপা লাগানো সম্ভব হবে না। গভীর নলকূপগুলো চালু করে জমিতে সেচ দিয়ে রোপা লাগানো ছাড়া উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ পাম্পগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

একই গ্রামের ইতিশ চন্দ্র বলেন, পানির অভাবে বিলের জমি ফেটে গেছে। সেচ পাম্প চালু করে জমিতে সেচ দিয়ে আমনের রোপা লাগানোর চেষ্টা করছি। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ পাম্পগুলো চালু করে জমিতে পানি দিতে পারছেন না সেচ পাম্প মালিকরা। বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের কৃষক আতোয়ার মিয়া (৫৮) বলেন, ‘তিন বিঘে জমিত আমোন চাস করি। এ ব্যারক্যা পানির জন্নে ধান নাগব্যার পাচ্চিনে। এ্যাক হাজার ট্যাকা দেনা করি এক বিগেত পানি নিচি। বেশি অদের (রোদ) জন্নে সেই পানিও শুকি গেচে। ট্যাকা খরোচ করি ধান নাগব্যার পাচ্চিনে। তিন বিগে জমি পড়ি আচে।’

কৃষক মিজানুর ও আতোয়ার মিয়ার মতো শতাধিক কৃষক এভাবেই খরার কারণে আমন রোপণ করতে না পারার কথা জানালেন। গতকাল বিকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, আমন ধান রোপণের সময় আছে। কিন্তু আমন রোপণে বিলম্ব হলে বোরো চাষ বিলম্ব হবে। তাই কৃষকদের নিজ উদ্যোগে জমিতে পানি সেচ দিয়ে আমন রোপণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনা জেলায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হতে পারে আগামী ফসল উৎপাদন- বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের অবস্থা দেখে কৃষকের মনে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলার ১০টি উপজেলার কৃষিপ্রধান এলাকাগুলো (সদর উপজেলার আংশিক অঞ্চল বাদে) পল্লী বিদ্যুৎ অঞ্চলের আওতাধীন। বর্তমানে যে হারে লোডশেডিং দৃশ্যমান, তাতে এখন থেকেই কৃষকরা ইরি-বোরো ফসলের সেচ ব্যবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। জেলার সব অঞ্চলেই এখন সেচযন্ত্র চলে বিদ্যুতে। যে কারণে লোডশেডিংয়ের মাত্রা যদি বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে কৃষকদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে চরমভাবে। আমন ও ইরি-বোরো ফসল উৎপাদনে নেত্রকোনা এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার এবং জাতীয়ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেচ ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার সরকার জানান, নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলা ছাড়াও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলাও নেত্রকোনা অঞ্চলের আওতাধীন।

রাজবাড়ী : ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দেয়া লোডশেডিং ঘোষিত রুটিন মেনে হচ্ছে না। ইচ্ছামতো যখন তখন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে কোথাও কোথাও। এ অবস্থায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো ডিপ টিউবওয়েলগুলো চালাতে পারছেন না তারা।

ঠাকুরগাঁও : দিনে-রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে জেলায়। এতে সেচ বিঘিœত হচ্ছে। কৃষকরা জমিতে পানি দিতে পারছেন না। চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঠাকুরগাঁও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অফিসের সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় ১ হাজার ৪৩১টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্য থেকে পানি ওঠানো হচ্ছে ১ হাজার ২৭১টি থেকে। অন্যদিকে এলএলপি পাম্প রয়েছে ৫১টি। এর মধ্যে ৩৯টি থেকে পানি ওঠানো হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও গ্রিড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যমতে, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট। এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ পাচ্ছি অর্ধেকের সামান্য বেশি, তাহলে শিডিউল কীভাবে মেনে চলা যাবে?

নাটোর : নাটোরের বিভিন্ন উপজেলায় লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছে মানুষ। বিশেষ করে বর্ষাকাল হলেও বৃষ্টি না থাকার কারণে উঠতি ফসল পাটের ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না থাকায় একদিকে অনেক জমিতে পাট মরে যাচ্ছে; তেমনি পাট কেটে জাগ দেয়ার মতো পানি না থাকায় কৃষকরা বেশ সমস্যায় পড়েছেন। তারা সেচ যন্ত্রের সাহায্যে আশেপাশের ডোবা বা সড়কের পাশে গর্তে পানি দিয়ে সেখানে পাট জাগ দিচ্ছেন। কিন্তু দ্রুত সে পানি মাটিতে শুষে নেয়ায় বারবার সেচ দিতে হচ্ছে। কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও বেশির ভাগ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় দিনে-রাতে ৩-৪ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে তারা সমস্যায় পড়েছেন। এছাড়া কোনো কোনো উপজেলায় উঁচু জমিতে সেচ না দিতে পারায় রোপা আমন ধানের বেশ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ ইয়াসিন আলীর জানান, এখন সেচনির্ভর ফসল বেশ কম। তবে যদি রবি মৌসুমে বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিকমতো না থাকে বা লোডশেডিং হয়, সেক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা : একদিকে তাপদাহ, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ে ধুঁকছে চুয়াডাঙ্গার কৃষি। বীজতলায় আমনের চারা তৈরি থাকলেও পানির অভাবে থমকে আছে। আউশ ধান মাঠে রয়েছে। সেচ দিতে না পারায় স্বাভাবিক ফলন হুমকির মুখে। মাঠ ফেটে চৌচির। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় গভীর নলকূপ থেকে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পাট, সবজিসহ অন্য ফসলের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোকসানের মুখে পড়তে হবে কৃষকদের। মাঠের পর মাঠ পতিত রয়েছে পানির অভাবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় জমি প্রস্তুত করা যাচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতের কারণে কৃষকদের বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ফসলের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। মাটিতে রস না থাকায় শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠের ফসল।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়