শাসকেরা একপক্ষ, জনগণের পক্ষ নয়

আগের সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে কৃষক

পরের সংবাদ

চবিতে যৌন হেনস্তা : ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২২ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৫, ২০২২ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

গত রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়ার পথে এক ছাত্রী যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী বলে গণমাধ্যমে খবর আসছে এবং তারা একই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। ক্যাম্পাসেই যদি ছাত্রদের হাতে ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন বিষয়টি উদ্বেগের। আমরা বিস্মিত, স্তম্ভিত। জানা গেছে, হল সংলগ্ন এলাকায় বন্ধুর সঙ্গে হাঁটছিলেন ওই ছাত্রী। এ সময় ৫ তরুণ তাদের পথ আটকে জেরা করতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দুই তরুণ ওই ছাত্রী ও তার বন্ধুকে মারধর শুরু করে। এ সময় তারা ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে। গাছের সঙ্গে বেঁধে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে। ঘটনার শিকার ছাত্রী হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৫ আসামির বিরুদ্ধে মামলা করার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এরপর র‌্যাব ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে গ্রেপ্তার দুই ছাত্রকে গত শনিবার আজীবন বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী হেনস্তার ঘটনা নতুন নয়। বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। গত জুন ও এপ্রিলে শাটল ট্রেনে বহিরাগতদের দ্বারা দুই ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তাছাড়া গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই ছাত্রলীগের ৪ কর্মীর বিরুদ্ধে দুই ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা ছাত্রীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন, বাস, ক্যাম্পাসের ভেতরে এমনকি ছাত্রীদের হলের সামনেই যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন ছাত্রীরা। কিন্তু এসবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেল থাকলেও সেটির কার্যক্রম অনেকটা স্থবিরই বলা চলে। ২০১৮ সালে গঠিত এই সেলের আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। এই সেলে এখন পর্যন্ত যৌন নিপীড়নের ৪টি অভিযোগ জমা হলেও সেগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। প্রশাসনের নির্লিপ্ততা তাদের আরো বেশি শঙ্কিত করে তুলেছে। যৌন নিপীড়নের ঘটনার কোনোটার বিচার হয়নি। অপরাধী বুক ফুলিয়ে দাপট দেখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে অন্যরা এ ধরনের কাজে ভয় না পেয়ে বরং উৎসাহিত হচ্ছে। বলা যায়, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি যেভাবেই হোক তাদের নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রী যৌন হয়রানির ঘটনায় মামলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি হয়েছে। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। পাহাড় ও প্রকৃতিঘেরা এ ক্যাম্পাসে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই ভূমিকা পালন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়