ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার আগে যাচাই-বাছাই করতে হবে

আগের সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকট: আইসিজের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক

পরের সংবাদ

টালমাটাল বিশ্বেও শেখ হাসিনার ব্যয় সংকোচন নীতির সুফল আসবেই

আহমেদ আমিনুল ইসলাম

অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২২ , ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২২ , ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের পরিণতি যদি শ্রীলঙ্কার মতো হয় তবে সে সংকট আওয়ামী লীগ বা সরকারের যেমন তেমনি বিরোধী সব পক্ষেরই- দেশের আমজনতাও সেই সংকটের ভাগিদার হবেন। বাংলাদেশ যাতে শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে সে চেষ্টাই এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে বেশি- অন্তত মানসিকভাবে তো বটেই! তাদের প্রচার-প্রচারণার মূল লক্ষ্যই যেন বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বানানো! বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হলে এই শ্রেণির মানুষের লাভ আসলে কী? তারা ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন, রাষ্ট্রপতি পালিয়ে যাবেন আর গণভবন বা বঙ্গভবনে গিয়ে সোফায় বসে টেবিলে পা তুলে বিড়ি-সিগারেট ফুঁকবেন, ফ্রিজ খুলে ঠাণ্ডা পানি খাবেন, রান্নাঘরের যাবতীয় খাবার তছনছ করবেন, নরম বিছানায় গা এলাবেন, সুইমিংপুলে সাঁতার কাটবেন আর এসব বীরত্বসূচক (!) কাণ্ডের সেলফি তুলে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করবেন এই তো? নাকি এর চেয়েও আরো বেশি কিছু করার সাধ্য তাদের আছে? বিরোধীরা সবসময়ই বিশ্বের নানা প্রান্তের ঘটনা-দুর্ঘটনা থেকে প্রেরণা গ্রহণের চেষ্টা করে থাকে- লঙ্কাকাণ্ডও তাদের জন্য সে রকমই কিছু একটা! এ রকম ঘটনা অতীতেও তারা ঘটিয়েছেন। থাইল্যান্ডের কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে শাপলা চত্বরের বলে চালিয়ে দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে নিজেদের ‘আখের’ গোছানোর চেষ্টা করেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়েও কত কিছুই তো করেছেন! সুতরাং সাধারণ মানুষকে আমরা বলি এসবই একটি পক্ষের ষড়যন্ত্র! নীল-নকশার গভীর ষড়যন্ত্র! এই ষড়যন্ত্রের মূল কারণও সাধারণের অজানা নয়। সাধারণ মানুষও জানেন, বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলঙ্কা হবে না, কারণ আমাদের বৈদেশিক ঋণখেলাপি হওয়ার কোনো রকমেরই ঝুঁকি নেই।
জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবেন? শুধু রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবেন তাই নয়- এত দীর্ঘদিন কেন থাকবেন? শেখ হাসিনা কেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করবেন? কেন বিচার করবেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের? কেনই বা শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন? এত সাহস তার? তাই তখন থেকেই দেশের ভেতরে যতটা নয় দেশের বাইরে থেকে শুরু হয় ততধিক ষড়যন্ত্র! তার যে কোনো কাজের সমালোচনা- সব সাফল্যেরই তির্যক বিশ্লেষণ, বিরূপ টীকা-টিপ্পনি! কেন তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন করবেন? পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করেছেন ভালো কথা, কিন্তু কেন তিনি সেসব ষড়যন্ত্রকারীর মুখোশ উন্মোচন করবেন, তাও আবার প্রকাশ্য জনসভায়? শেখ হাসিনার এসব অন্যায় (!), অগণতান্ত্রিক (!) আচরণের কথা বাদ দিলেও বিরাট এক প্রশ্ন সামনে চলে আসে- আর তা হলো বারবার হত্যাচেষ্টার পরও তিনি জাতির পিতার মতো এখনো কেন নিহত হননি? আমরা জানি, এ পর্যন্ত বিশবারেরও অধিক ঘাতকেরা জননেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেছে! এ দেশের মানুষের ভালোবাসা আর সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার কৃপা তাকে সুরক্ষা দিয়েছে সবসময়।
স্বাধীনতা লাভের পর ৫০টি বছর আমরা অতিক্রম করেছি। দেখেছি ‘রাজা আসে রাজা যায়’- সাধারণ মানুষের ভাগ্য আর বাদলায় না! কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এ দেশের একেবারে খেটেখাওয়া মানুষ থেকে সর্বস্তরের মানুষেরই ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। আজ আমাদের মাথাপিছু আয়ের ঊর্ধ্বগতি অনেক দেশের কাছেই ঈর্ষণীয়! দেশের কল্যাণের জন্য, সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করছেন তিনি। গ্রহণ করছেন নানারূপ নীতি ও পরিকল্পনা। বর্তমানে আমরা জননেত্রীর নির্দেশনায় ব্যয় সংকোচন নীতির আলোকে পথচলায় অঙ্গীকারাবদ্ধ।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক হালহকিকত দেখে সতর্ক হওয়ার কথা ভাবতে হবে, হতাশ হওয়ার মতো কোনো কারণ আছে বলে আপাতত মনে হয় না। বরং আমরা আশাবাদী- আশা নিয়েই বাঁচতে চাই। শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়ে আমাদের দেশের কিছু অতিউৎসাহী মানুষের নেতিবাচক প্রচারণায় সাধারণের মধ্যে স্বাভাবিক উদ্বিগ্নতার ছায়াপাত ঘটেছিল। কিন্তু খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদদের গাণিতিক পর্যালোচনা এবং অর্থ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর জরিপে উঠে আসা ইতিবাচক চিত্রে উদ্বিগ্নতা থাকলেও আমাদের অস্বস্তি অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে সতর্কতার বিকল্প নেই। আর সেজন্যই ব্যয় সংকোচন নীতি। ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি নিম্নরূপ সাতটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার মনোযোগ নিবদ্ধ করেছে : ১. সরকারি সব দপ্তরে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ ব্যবহার কমানো। বাজেটে জ্বালানি খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার চেয়ে ২০ শতাংশ কম খরচ করা, ২. অনিবার্য না হলে শারীরিক উপস্থিতিতে সভা পরিহার করে অনলাইন সভা করা, ৩. অত্যাবশ্যক না হলে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার, ৪. খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিং, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ অন্যান্য পদক্ষেপ জোরদার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে প্রাইভেটকারের ব্যবহার সম্পর্কে পর্যালোচনা করা। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, ৬. অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ৭. প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব ক্রয় পরিকল্পনা পুনঃপর্যালোচনা করে রাজস্ব ব্যয় হ্রাসে উদ্যোগ গ্রহণ প্রভৃতি। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে কারণ আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো। বিলাসদ্রব্য আমদানির মাধ্যমে যাতে রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি না হয় সে বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। সরকার ঘোষিত এসব সিদ্ধান্ত যথাযথ বাস্তবায়ন হলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ব্যয় সংকোচন নীতি বা কৃচ্ছ্রসাধন থেকে অবশ্যই ইতিবাচক সুফল পাওয়া সম্ভব। অর্থনীতি যত শক্তি অর্জন করবে আমাদের আত্মবিশ্বাসও ততই বলিষ্ঠ এবং পরাক্রমশালী হয়ে উঠবে।
করোনা-অতিমারি-উত্তর মন্দাক্রান্ত অর্থনীতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দিন দিন বিশ্বব্যাপী আরো জর্জরিত হয়ে উঠছে। অর্থনীতির চাকা সচল ও সক্রিয় রাখতে ভবিষ্যতের ভাবনা এখনই ভাবতে হবে, বিভিন্ন কার্যক্রমও গ্রহণ করতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোকেও চিন্তিত করে তুলেছে। যুদ্ধের সময় যত বাড়ছে বৈশ্বিক নানামুখী সংকটও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক কথায় এই যুদ্ধজাত প্রভাব সমগ্র বিশ্বেই চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যার প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতির ওপর, বাজারের ওপর এবং বিশেষভাবে বললে খাদ্যসামগ্রী এবং জ্বালানির ওপর। করোনা অতিমারি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে যতটা স্থবির করেছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তার চেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করছে। এই যুদ্ধ করোনা-উত্তর বিশ্বে যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে!
লেখার শুরুতে যেমনটি বলতে চেয়েছিলাম যে, আমাদের অর্থনীতির হালহকিকত ততটা দুর্দশাপীড়িত নয়। তবে সতর্ক হতে হবে। বলেছিলাম হতাশ হওয়ার মতো কোনো কারণ এখনো ঘটেছে বলে আপাতত মনে হয় না। বরং আমরা আশাবাদী- আশা নিয়েই বাঁচতে চাই। এরূপ আশারই বার্তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রত্যাশার চেয়ে জোরালো বলে তারা মতামত প্রকাশ করেছে। এডিবির বর্তমান বছরে জুলাই মাসে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের (এডিও) ক্রোড়পত্রে এরূপ মন্তব্যই প্রকাশ পেয়েছে। গত ২২ জুলাই এটি প্রকাশিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির চিত্রও উপস্থাপিত হয়। এতে উপ-আঞ্চলভিত্তিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির আউটলুকে বলা হয়, সর্বশেষ দাপ্তরিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২২ (২০২১-২২) অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.২ শতাংশ। যদিও এডিবি বিগত অর্থবছরের জন্য ৬.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছিল। আউটলুকে আরো বলা হয়েছে, এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে শিল্প (১০.৪ শতাংশ) ও সেবা (৬.৩ শতাংশ) খাতের মাধ্যমে। তবে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে ২.২ শতাংশ হয়েছে বলেও আউটলুকে বলা হয়েছে। এডিও আউটলুকে আরো বলা হয়েছে, ‘রপ্তানি ও আমদানি প্রত্যাশার চেয়ে জোরদার ছিল, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বেসরকারি বিনিয়োগ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত। বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাও এ প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।’ সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনেও ২০২২ অর্থবছরের জন্যও মূল্যস্ফীতির আভাস আগের মতোই আছে। তবে বিশ্বব্যাপী খাদ্য এবং জ্বালানির (ডিজেল, কেরোসিন ও প্রাকৃতিক গ্যাস) দাম বাড়ায় ২০২৩ সালের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
অপরদিকে কানাডাভিত্তিক সংবাদ প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ১০৪ ট্রিলিয়ন ডলার গেøাবাল জিডিপিতে আইএমএফের তথ্যের ভিত্তিতে দেশভিত্তিক অবস্থানের ওপর ১৯১ দেশের যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে ৩৯৭ বিলিয়ন ডলার জিডিপি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র ভারতের অবস্থানই বাংলাদেশের ওপর- তাদের অবস্থান ছয়ে। উল্লেখ্য, এই জরিপে দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশ স্থান পায়নি। উপরন্তু ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট একই প্রতিবেদনে বৈদেশিক ঋণখেলাপি হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ যে ২৫টি দেশের নাম প্রকাশ করেছে তার মধ্যে পাকিস্তানের নাম থাকলেও বাংলাদেশের নাম নেই। সরকারি বন্ড, ৫ বছরের ডিফল্ট ক্রেডিট অদল-বদল, জিডিপিতে সুদের ব্যয়ের হার, জিডিপিতে সরকারি ঋণের হার প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রণীত। সবশেষে বলতে চাই বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে পরিকল্পনা ও রূপরেখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এতদূর এগিয়ে এনেছেন সাম্প্রতিককালের টালমাটাল বিশ্বেও তারই গৃহীত নীতির সাফল্যে বাংলাদেশ আরো শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে।

আহমেদ আমিনুল ইসলাম : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়