জাতীয় সরকার গঠনের পথে হাঁটছে বিএনপি

আগের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও চলমান বাস্তবতা

পরের সংবাদ

বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন : সীমান্তে হত্যা বন্ধে সুরাহা নেই!

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২২ , ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২২ , ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সীমান্তে সংযত আচরণে ভারতের প্রতিশ্রæতি সত্ত্বেও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বিগত দিনের বৈঠকে সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হলেও কার্যকর হয়নি। গত ১৭-২১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকার পিলখানায় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে ৫২তম সীমান্ত সম্মেলনে যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আবারো সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। প্রতি বছর সীমান্ত সম্মেলনে হত্যার বিষয়টি আলোচিত হলেও কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। সীমান্তে সংযত আচরণে ভারতের প্রতিশ্রæতি সত্ত্বেও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে। যুদ্ধাবস্থা ছাড়া বন্ধুভাবাপন্ন দুই দেশের সীমান্তে এ রকম প্রাণহানি অস্বাভাবিক, অমানবিক। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির তথ্য বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সীমান্তে ২০২ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৩৮ জন। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সীমান্তে মারা গেছেন পাঁচজন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২। ২০২০ সালে ছিল ৪৯ জন। ২০১৯ সালে সীমান্তে নিহত হয় ৩৫ বাংলাদেশি। ২০১৮ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল তিনজন। ২০১৭ সালে ২২ জন। ২০১৬ সালে ৩১ ও ২০১৫ সালে ৪৫ জন নিহত হয়। এই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত এক দশকের মধ্যে কেবল ২০১৮ সালে সীমান্তে হত্যার ঘটনা দুই অঙ্কের নিচে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল। ওই বছর সরকারি হিসাবে তিনজন হত্যার শিকার হন। ওই সময়ে সীমান্তের পরিবেশও ছিল স্বস্তিদায়ক। অথচ পরের বছরই তা এক লাফে ১৩ গুণ বেড়ে যায়। অথচ বিভিন্ন সময় ভারতীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার নীতিতে কাজ করা হবে। সীমান্ত হত্যা রোধে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের হাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র দেয়া হবে না বলেও প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রæতির বাস্তবায়ন নেই। এবারের সম্মেলনে সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা, আহত ও মারধরের ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে অধিকতর কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে সীমান্তে যৌথ টহল জোরদার, বিশেষ করে রাতে টহল পরিচালনার বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। সীমান্তে মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা পাচার, আগ্নেয়াস্ত্র, জালমুদ্রা, স্বর্ণ চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে উভয় বাহিনী তথ্য আদান-প্রদানে সম্মত হয়েছে। বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন দরকার। কথা ও কাজে মিল থাকা দরকার। কয়েক দশক ধরে গুলি করে হত্যা করে চোরাকারবার ঠেকানো গেছে কী? দুদেশের মধ্যে সমঝোতা এবং এ সম্পর্কিত চুক্তি অনুযায়ী যদি কোনো দেশের নাগরিক অননুমোদিতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে, তবে তা অনুপ্রবেশ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথা এবং সেই মোতাবেক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের নিয়ম। গুলি করে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করা কেন? যেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, মানুষ পাচার এবং চোরাচালান বন্ধে যৌথ উদ্যোগ ও দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা ও আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে, সেখানে সীমান্তে গুলি-হত্যা কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত নয়। সীমান্তে যে কোনো অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিদ্যমান আইনে বিচার হবে এবং এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। ভারত বারবার বলেছে, তারা সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে না। কিন্তু পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে, তাতে তাদের এই বক্তব্য অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ছে। সীমান্তে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন এবং অবশ্যই এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আরো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে। আমরা আর সীমান্তে হত্যার বর্বরতা দেখতে চাই না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়