দুই যুগের হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডিএসসিসির অভিযান

আগের সংবাদ

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান

পরের সংবাদ

দেশের ইতিহাসে অপূর্ব নির্মাণশৈলী কর্ণফুলী টানেল

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২২ , ১:৫২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২১, ২০২২ , ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার সেই প্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাস ধারণ করে সাহসী ও দূরদর্শী একটি উদ্যোগ পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। দেশের ভেতরে ও বাইরে অনেকেই তার এই অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন অঙ্গীকার ঘোষণায় বিশ্বে একটি বার্তা যায়, বাংলাদেশ এখন স্বাবলম্বী হতে চলেছে। বাংলাদেশকে এখন আর কোনোভাবেই হেলাফেলা করা যাবে না। গত ২৫ জুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ প্রকল্প পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার মধ্য দিয়ে খুলে গেছে দখিন দুয়ার।
১৯৯৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুনেছিলেন এই স্বপ্নের বীজ। পদ্মা সেতুর পর আরেক চমক আসছে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিস্ময় এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন বয়ে আনবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশের টানেল। কর্ণফুলী টানেল মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হলেই মেগাসিটি হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী-খ্যাত বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নদীর তলদেশে ১৮-৩১ মিটার গভীরে টানেলে চলবে যানবাহন।
২০০৮ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রæতি দেন। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সমীক্ষার কাজ চললেও প্রতিশ্রæতি নিয়ে শঙ্কা দূর হয়নি চট্টগ্রামবাসীর। তবে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলে হাসি ফোটে সবার মুখে। দূর হয় সব শঙ্কা। এরপর জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজে অর্থছাড় করাতে যতটুকু সময় লেগেছে, ততটুকুই। চট্টগ্রাম নগরী থেকে টানেল অতিক্রম করে মেরিন ড্রাইভ কক্সবাজার যাবে আনোয়ারা উপজেলা হয়ে। সেই আনোয়ারাতেই বাস্তবায়িত হবে চীনা ইকোনমিক জোন। উত্তর দিকে এই মেরিন ড্রাইভ চলে যাবে বাস্তবায়নাধীন দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল মিরসরাই ইকোনমিক জোন পর্যন্ত। আবার মিরসরাই ইকোনমিক জোন সম্প্রসারিত হচ্ছে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় এলাকা পর্যন্ত। এছাড়া মীরসরাই, সীতাকুণ্ডের মাঝামাঝি এলাকায় নির্মিত হবে মাঝারি সাইজের একটি সমুদ্রবন্দর। নগরীর হালিশহর এলাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনগুণ বড় বে-টার্মিনাল। তবে কর্ণফুলী টানেল হয়ে যে সড়ক কক্সবাজার যাবে তা কোনো একসময় মিয়ানমার হয়ে প্রসারিত হবে চীনের কুনমিং সিটি পর্যন্ত। মহাপরিকল্পনার আওতায় চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ হাব। মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে হচ্ছে এলএনজি টার্মিনাল। এই কর্মযজ্ঞ পৃথকভাবে চলমান থাকলেও মূলত সরকারের মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনারই অংশ। কর্ণফুলী টানেল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পাল্টে যাবে বৃহত্তর চট্টগ্রামের চেহারা, আর এর ছোঁয়া লাগবে সারাদেশে। কারণ এই চট্টগ্রাম হয়ে খুলে যাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বার।
চট্টগ্রাম মহানগরীকে কর্ণফুলীর উভয় তীরে বিস্তার, বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ, কর্ণফুলীর ওপারে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, পটিয়া, বাঁশখালী হয়ে বান্দরবান কক্সবাজার পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন, ব্যাপক কর্মসংস্থান, আধুনিক পর্যটন সুবিধার বিকাশ ঘটবে- এমনটি আশাবাদ কর্ণফুলী টানেলকে ঘিরে। সর্বোপরি যোগাযোগ ব্যবস্থায় আনবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সূত্র মতে, ২০১৪ সালের ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বেইজিংয়ের সমঝোতা স্মারক সই হয়। ২০১৫ সালের ৩০ জুন নির্মাতা চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিসিসির সঙ্গে চুক্তি সই হয়। টানেলের সংযোগ, বিস্তার ও প্রবেশমুখ নগরীর প্রান্তে দক্ষিণ পতেঙ্গা নেভাল একাডেমির মাঝ বরাবর এবং দক্ষিণ প্রান্তে আনোয়ারা বহির্গমন পথ সিইউএফএল জেটিঘাট পয়েন্টে। ৯ হাজার ২৬৫ দশমিক ৯৭১ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এই মেগাপ্রকল্পে মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৪০০ মিটার। চারলেনের এ টানেল হচ্ছে দুই টিউববিশিষ্ট। সরকারের জন্য অনেক বেশি গর্ব করার মতো প্রকল্প হবে কর্ণফুলী নদীর নিচের সুড়ঙ্গপথ কর্ণফুলী টানেল। এ ধরনের পথ দেশের ইতিহাসে প্রথম। পানির তলার সুড়ঙ্গপথটি কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের দূরত্ব কমাবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে উদ্বোধনের মাধ্যমে এটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এই টানেল কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে বলে আশা করা যায়। কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের গাড়ি চট্টগ্রাম শহরকে এড়িয়ে সুড়ঙ্গপথ দিয়েই ঢাকাসহ সারাদেশে চলাচল করতে পারবে। টানেলের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশাল ও অপূর্ব নির্মাণশৈলী। এই টানেলের সামনে এলে আর মনে থাকে না এর নির্মাণব্যয়, সময়ক্ষেপণ এবং রাজনৈতিক মালিকানা কেন্দ্রিক বিতর্কের কথা। শুধু মনে হয় বাংলাদেশের সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস আর অর্জনের এক অনন্য বার্তা এই টানেল। পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ও উচ্চাকাক্সক্ষার একটি অসাধারণ স্মারক। এই টানেল চালু হওয়ার আনন্দে শামিল হতে পারি আমরা সবাই। আজ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই এই ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তার ফলে পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেল নির্মাণকাজ সম্ভব হয়েছে।

মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী
সাংবাদিক ও লেখক
পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়