চলমান সংকট নিরসনে সাশ্রয়ী হতে হবে

আগের সংবাদ

আমদানির সুফল মেলেনি রাজস্বে

পরের সংবাদ

ডেঙ্গু নিয়ে এত অবহেলা কেন?

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২২ , ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২১, ২০২২ , ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

দিন যতই যাচ্ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ ততই প্রকট হচ্ছে। কোনোভাবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। দুই সিটি করপোরেশন দাবি করছে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, তাদের কোনো ত্রæটি নেই। এরপরও কেন ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না সেটা দেখার বিষয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মূল কাজের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে সিটি করপোরেশন লোক দেখানো কর্মসূচিতে ব্যস্ত- এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আমাদের এখানে শুধু মৌসুমভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সারা বছর কাজ না করার কারণে এডিস মশার প্রকোপ বেড়ে যায়; তাই ডেঙ্গু রোগীও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য যুক্তিসঙ্গত। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৮৯ জন। এ বছর মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মোট ৬৬ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মোট ভর্তি ২৩৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১১৭ জন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালগুলোয় ভর্তি ৩২ জন। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি ১৪৪ জন। ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সে বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত প্রথম ৫ মাসে ৩২৪ রোগী ছিল। গত বছর দেশে ২৮ হাজার ৪২৯ রোগী শনাক্ত হয়। যার মধ্যে প্রথম ৫ মাসে রোগী ছিল মাত্র ১০০ জন। ২০১৯ ও ২০২১ সালের প্রথম ৫ মাসের তুলনায় চলতি বছর রোগীর সংখ্যা বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এখনো ডেঙ্গু জ্বরের কোনো প্রতিষেধক বের করতে পারেনি সরকার। ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে হলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার থাকে। সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী। হঠাৎ থেমে থেমে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা পায়। ফলে এডিস মশার বিস্তারও ঘটে বেশি। এ মশা যত বেশি হবে ডেঙ্গুর হারও তত বাড়বে। উৎস বন্ধ না করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা পরিচালিত এক জরিপে উত্তর সিটির ৬৩টি এবং দক্ষিণ সিটির ৯৬টি বাড়িতে এডিস মশা অতিরিক্ত মাত্রায় চিহ্নিত করা হয়েছিল। জরিপে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২২টি ওয়ার্ডে বিভিন্ন মাত্রার ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়। এরপর সিটি করপোরেশন কী ভূমিকা রেখেছে তা আমাদের জানা নেই। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু চোখ রাঙালেও, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে করপোরেশনের তৎপরতা এখনো আগের মতোই। যদিও ঢাকা সিটির দুই মেয়র ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাচ্ছেন বলে দাবি করছেন। আমরা দুই মেয়রের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। এক্ষেত্রে নগরবাসীকেও সচেতন থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়