অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান

আগের সংবাদ

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কোথায়?

পরের সংবাদ

ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা দরকার

মাহমুদুল হক আনসারী

লেখক ও গবেষক

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২২ , ১:৫২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২১, ২০২২ , ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

দ্রব্যমূল্যের বাজার অনিয়ন্ত্রিত। বাজারের কোনো পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল নেই। সব ধরনের পণ্যমূল্য নাগালের বাইরে। জনগণের খেয়ে দেয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হচ্ছে। আয় ও ব্যয়ের কোনোভাবেই হিসাব মিলাতে পারছে না মানুষ। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা মোটেও ভালো নেই। নিম্নবিত্ত মানুষ, দিনমজুর জনগণ বাজারে গেলে পরিস্থিতি দেখে হতাশার মধ্যে পড়ে যায়। চাল কিনলে ডাল কিনতে পারে না। তেল কিনলে মাছ কিনতে পারে না। সাধারণ মানুষের কষ্টের জীবন বাজারে গেলে বোঝা যায়। বাজার পরিস্থিতি মোটেও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। বাজার তদারকির কথা বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও যথাযথভাবে তা করা হয় না। এক কথায় অনিয়ন্ত্রিত বাজার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেটি সার্কুলার দেয় সেটা বাজারে বাস্তবায়ন হয় না। পণ্যমূল্য নির্ধারণ করলেও তা পাইকারি ও খুচরা দোকানে সেটা বাস্তবায়ন দেখা যায় না। জনগণ ব্যবসায়ীদের হাতে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
জনগণকে খেয়ে-দেয়ে বেঁচে থাকার জন্য বাজার করতে হয়। কিন্তু জনগণ স্বাধীনভাবে দেখে শুনে দরদাম করে বাজার করতে পারে না। বাজারে ক্রেতার কোনো স্বাধীনতা নেই। যেমন খুশি তেমনভাবেই চলছে বাজার। শুধু একটি কথা দোকানদারদের মুখে শোনা যায়, দাম বেড়ে গেছে। আমরা কী করব, এই কর সেই কর সব কিছু দিতে দিতে স্থানীয় প্রশাসন আমাদের সব টাকা নিয়ে যাচ্ছে। ট্যাক্সের টাকা পরিশোধ করতে করতে আমরা ব্যবসায়ীরা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি। তার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, ওয়াসার বিল সারাবছর বেড়েই চলছে। এই সবকিছু হিসাব করে ব্যবসায়ীরা বলে বাজার এখনো জনগণের নাগালের মধ্যে আছে। আমরা না পারছি রাখতে না পারছি ছেড়ে দিতে। আমরাও মানুষ, আমাদেরও সংসার পরিবার পরিজন আছে। আমাদের কথা কে ভাবছে।
এর মধ্যে ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি বাজারে বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। ১০ টাকার ওষুধের মূল্য ১৫ টাকা। ৫৫ টাকার ১০টি ট্যাবলেটের মূল্য ৭৫ টাকা। এভাবে সবধরনের রোগের ওষুধের মূল্য ফার্মেসিগুলো বাড়িয়ে নিচ্ছে। রোগের জন্য ওষুধ খেতেই তো হয়। জটিল কঠিন রোগের জন্য ডাক্তারের চিকিৎসা মতো ওষুধ খাওয়ার বিকল্প কিছু নেই। কিন্তু ইতোমধ্যেই কোনো কোনো ওষুধ ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিগুণ পর্যন্ত করা হয়েছে, যা মারাত্মক অন্যায়। স্বাস্থ্যসেবায় বহুলভাবে ব্যবহারযোগ্য ৫৩টি ব্যান্ডেড ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের দাম শতভাগ বাড়ানো হয়েছে। এভাবে প্রায় সবধরনের ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ১৫১টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করছে। দেশের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি হয় বলে জানা যায়। এটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক দিক এবং ইতিবাচক একটি সংবাদ। এর আগেও ২৩ ধরনের ওষুধের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানো হয়েছে ৫৩ ধরনের ওষুধের দাম। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় বাজার তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণের যেন কেউ নেই। যেখানে ওষুধ বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে বাংলাদেশ কোটি কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, সেখানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ওষুধ কিনে খাওয়ার সমস্যায় ভুগবে সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য কথা নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ওষুধ প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ জনগণের কথা মাথায় রেখে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিবেচনা করতে হবে। সাধারণ মানুষের আয়ের চিন্তা করে অপরাপর প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মতো ওষুধের বাজার মূল্য অবশ্যই জনগণের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। সরকারকে অনুরোধ করব, চিকিৎসা এবং ন্যায্যমূল্যে ওষুধ সরবরাহ ও প্রাপ্তিতে যেন জনগণের কথা চিন্তা করা হয়। সঙ্গে ভেজাল ও মানহীন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মাহমুদুল হক আনসারী
লেখক ও গবেষক, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়