আসুন বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হই

আগের সংবাদ

বন্ধুত্বের স্মারক

পরের সংবাদ

শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

ইমরান উদ্দিন

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২২ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২২ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষক তিন অক্ষরবিশিষ্ট ছোট শব্দ হলেও এই শব্দ বহন করা ব্যক্তিরা পুরো জাতি গড়ার কারিগর। কবি গোলাম মোস্তফা বলেছেন, ‘পিতা গড়ে শরীর, শিক্ষক গড়েন মন। পিতা বড় না, শিক্ষক বড় বলবে কোন জন।’ শিক্ষক হচ্ছেন একজন মননশীল মানুষ গঠনের শিল্পী। শিক্ষক একজন ছাত্রকে মননশীল করে তোলেন। একজন মানুষকে আদর্শ ও নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকের বিকল্প নেই। বাবা-মা আদর, স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করে গড়ে তুললেও আসল মানুষ হিসেবে তৈরি করতে অক্ষম। কারণ মা-বাবারা সন্তানদের সবকিছু দিতে পারলেও শিক্ষার জন্য শিক্ষকের কাছে যেতে হয়। আসল মানুষ বলতে নিজেকে নিজে চেনার, অজানাকে জানার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন একমাত্র শিক্ষক। শিক্ষকের নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে জাতির ভবিষ্যৎ। অন্যান্য পেশার তুলনায় এই পেশা হচ্ছে অনেক সম্মানের এবং মর্যাদাপূর্ণ। একজন শিক্ষককে সবাই সম্মান করেন। তিনি জাতির মুকুট হিসেবে থাকেন সবসময়। আমাদের সবার অবশ্যই বাদশাহ আলমগীরের ঘটনা জানা আছে- বাদশাহ আলমগীর একবার এক সকালবেলা রাজকার্যে যাওয়ার সময় দেখলেন তার পুত্র শিক্ষকের পায়ে পানি ঢালছে। এটা দেখে মনে খুব ব্যথা পেলেন। পরে তিনি শিক্ষককে ডেকে নিয়ে বললেন, আমার ছেলে আপনার কাছ থেকে কিছুই শিখতে পারেনি। যদি শিক্ষা অর্জন করত তাহলে আমার ছেলে আপনার পায়ে শুধু পানি ঢালত না, বরং নিজ হাতে আপনার পা ধুয়ে দিত। ভারতবর্ষের একজন বাদশাহ শিক্ষক হওয়ার কারণে তাকে কত সম্মান করলেন।
কিন্তু ধীরে ধীরে কালের বিবর্তনে এখন শিক্ষকরা আর ভালো নেই। দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিম্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঠুনকো বিষয়ের জের ধরে জাতি গড়ার কারিগরদের ওপর হামলা হয়। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু আজ আমাদের সমাজে শিক্ষকদের এই দুরবস্থা দেখতে হচ্ছে। কেন এই দুরবস্থা? কেন এমনটা হলো? এই প্রশ্নের জবাব অনেকটা অস্পষ্ট। এগুলোর পেছনে বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপরাজনীতির ছোঁয়া লাগার বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের স্বার্থসিদ্ধ করার জন্য শিক্ষকদের বলির পাঁঠা বানায়। এটা খুবই দুঃখজনক। একজন আদর্শ শিক্ষক আদর্শ মানুষ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন। এই আদর্শ শিক্ষক যখন রাজনীতির ময়দানে আবর্তিত হন, তখন পদস্খলনও বরাবর টের পাওয়া যায়। ফলত তারা পদ-পদবির লোভে নিজেদের সম্মান হারান। রাজনৈতিক নেতারাও তাদের যেমন ইচ্ছা তেমন ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। রাজশাহীর রাজাবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষকে অপদস্তের ঘটনা তার দিকেই ইঙ্গিত করে। তাই শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেয়ে একজন আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা রেখে আদর্শ জাতি গড়ার পেছনে কাজ করা উচিত। এই ঘটনার আগে সাভারে এক ছাত্রকে অনৈতিক কাজে নিষেধ করাকে জের ধরে প্রেমিকার সামনে হিরো সাজার জন্য নিজের শিক্ষককে স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করে। যার ইতিহাস বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক। নৈতিকভাবে অধঃপতনের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত। একজন নৈতিক বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে বিচার বিভাগের দীর্ঘ সময়ক্ষেপণও এর জন্য দায়ী। বাংলাদেশে হররোজ অপরাধ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। বিচার হচ্ছে না। একটা প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা এবং প্রমাণ সবার সামনে উন্মুক্ত থাকার পরও বিচার করতে চলে যায় কয়েক দশক। ফলে নিত্যনতুন অপরাধের জন্ম হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বর্তমানে শিক্ষকরা তাদের নায্য সম্মান থেকে সবসময় অবহেলিত হচ্ছেন। তাদের যা সম্মানী দেয়া উচিত তার চেয়ে অনেক কম সম্মানী দেয়া হয়। ওই সম্মানী দিয়ে তাদের পরিবার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। তারা হামলা, অপদস্ত ও হত্যার শিকার হচ্ছেন। সমাজে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কিন্তু তা সত্ত্বেও এই মহান পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। এটা হচ্ছে আমাদের জন্য আশার দিক। হজরত আলী (রা.) এর একটি বাণী- ‘আমি যার কাছে একটি অক্ষর শিখেছি, আমি তার গোলাম হয়ে গেছি।’ একজন বাগানের মালী যেমন অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাগানকে ফলে-ফুলে সুশোভিত করে তোলেন ঠিক তেমনি একজন শিক্ষক অক্লান্ত পরিশ্রম করে জাতির কর্তা উপহার দেন। শিক্ষকরা হচ্ছেন সুন্দর জাতি গড়ার কারিগর। তাদের ক্ষতি হওয়া মানে পুরো জাতির ক্ষতি হওয়া। তাই প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের শিক্ষকের প্রতি আরো যতœশীল হওয়া চাই। অন্তত যাতে তারা নিজের পরিবার নিয়ে নিরাপত্তায় বসবাস করতে পারেন এটা নিশ্চিত হওয়া উচিত।

ইমরান উদ্দিন : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়