নড়াইলে আর সাম্প্রদায়িক হামলা হতে দেব না: মাশরাফি

আগের সংবাদ

শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

পরের সংবাদ

আসুন বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হই

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২২ , ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২২ , ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

করোনার পর নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি বিশ্ব। আমরাও এর বাহিরে নই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পাশ্চাত্যের দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নানারকম অবরোধ আরোপ করেছে। এতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। ডলার সংকট এরই মধ্যে তীব্র হয়ে উঠেছে। ব্যাংকগুলো ঠিকমতো জ্বালানি তেলের এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারছে না। এমতাবস্থায় জ্বালানি খাতে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। সরকারকে সামনে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে বিদ্যুৎ ও তেলের খরচ কমানোর একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর শুরু করেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রায় শতভাগ জ্বালানি তেল আমদানি করা বাংলাদেশের পরিবহন খাতের ৯০ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩৪ শতাংশ তেলনির্ভর। ভর্তুকি বেড়ে যাওয়ায় সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় এলএনজি কেনার পরিমাণও কমানো হয়েছে। তাতে দেশজুড়ে লোডশেডিং ফিরে এসেছে আবার। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতে সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পেয়েছে। সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত ১২ বছরে ৫৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন বাস্তবায়ন করেছে। একসময় লোডশেডিংয়ের ওপর ভিত্তি করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে, কিন্তু জ্বালানির অভাবে উৎপাদন করা যাচ্ছে না। সুতরাং এখানে সমন্বয়হীনতা বিরাট একটি বিষয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ১০ বছর আগে থেকে যদি গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা যেত তাহলে এ অবস্থা দেখতে হতো না। কারণ আমাদের দেশে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে গ্যাসের অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা হয়নি। শুরু থেকেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বড় অংশ তেলনির্ভর। অথচ এখন বিশ্বে জ্বালানি তেল দুর্মূল্য। অন্যদিকে দেশে চাহিদার তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদনও পর্যাপ্ত নয়। একদিকে গ্যাস সংকট, তার ওপর সারের জন্য ইউরিয়া সার কারখানায় জরুরি গ্যাস সরবরাহ দিতে গিয়ে গ্যাসভিত্তিক কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র মৌসুমে বন্ধ রাখতে হয়। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না হওয়ায় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারে না। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে আমদানিসহ নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে। তবে জরুরিভিত্তিতে চাহিদা মেটাতে গিয়ে সরকারের নেয়া কিছু ব্যবস্থা বিরূপ সমালোচনারও খোরাক হয়েছে। জনগণকে সচেতন হতে হবে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা আমদানি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রতিফলন দরকার। সব ক্ষেত্রে যাতে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায় সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়