হিরো আলম পারে না এমন কিছুই নেই

আগের সংবাদ

মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল গুজব

পরের সংবাদ

একদিনে প্রাণ ঝরল ৩৪ জনের : কিছুতেই থামছে না সড়কে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২২ , ১২:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২২ , ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সড়ক যেন মৃত্যুপুরী। কোনোভাবেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল। গত শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুটি দুর্ঘটনায় মা ও ছেলেমেয়েসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিন বগুড়ায় তিনটি দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে রাস্তা পারাপারের সময় স্বামী, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তাদের শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মা মারা যাওয়ার আগে প্রসব হওয়া নবজাতক বেঁচে আছে। এর আগের দিন শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ ১৪ জন নিহত হন। প্রতি বছর ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান সড়কে। এই নীরব হত্যাকাণ্ডের জন্য কাউকে খুব একটা কৈফিয়ত দিতে হয় না। প্রতিদিন খবরের কাগজে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখছি। এমন ঘটনা দেখতে দেখতে যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। স্বাভাবিক বিষয় বলে মেনে নিচ্ছি। কিন্তু কিছু ঘটনা খুব নাড়া দেয়। সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এআরআই) গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের বেপরোয়া গতি। কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে ছোট যানবাহন বন্ধ ও বেপরোয়া যানবাহন চলাচল বন্ধে সাফল্য নেই। এখনো দেশের সড়ক-মহাসড়কে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে ১০ লাখ নছিমন-করিমন-ইজিবাইক। অবাধে আমদানি হচ্ছে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক। দেশব্যাপী অন্তত ৫ লাখ ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, হিউম্যান হলার অবাধে চলছে। নিবন্ধনবিহীন কয়েক লাখ অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে সড়ক-মহাসড়কে। এসব যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান উৎস। দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির নজিরও তেমন নেই। যার ফলে চালকরা ইচ্ছামতো গাড়ি চালান। হাই রিস্ক নিয়ে ওভারটেক করেন। এছাড়া চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ফুটপাত দিয়ে মানুষ চলাচলের অবস্থা নেই। কাজেই মানুষ বাধ্য হয়ে মূল রাস্তায় হাঁটছে এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বাসে সিট বেল্ট বাঁধার ব্যবস্থা, হেলমেটের ব্যবহার কম থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনাতেও প্রাণহানি ঘটছে। ইদানীং মোবাইল ফোন কানে রেখে গাড়ি চালানো যেন ফ্যাশন অনেক চালকের কাছে। যদিও এ কাজ থেকে বিরত রাখতে আইন আছে। কিন্তু সে আইনের ব্যবহার হয় না। এ কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার জন্য যা-ই দায়ী হোক না কেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তায় যুক্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের ইতোপূর্বে নেয়া পরিকল্পনাগুলো ছিল গতানুগতিক। এর মাধ্যমে কী অর্জিত হয়েছে আর কী অর্জিত হয়নি বা কী অর্জন করা প্রয়োজন তার সঠিক কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমরা সড়ক নিরাপত্তায় সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। সড়কে মৃত্যুর মিছিল আর যেন দীর্ঘ না হয়। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব রকম ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবার উপলব্ধিতে আনতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়