এবার নড়াইলের লোহাগড়ায় হিন্দু বাড়িতে হামলা, আগুন

আগের সংবাদ

গভর্নরের হাত ধরে অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হোক

পরের সংবাদ

করোনা বাড়ছে : সুস্থ থাকতে সচেতন থাকুন

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২২ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২২ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

নতুন করে করোনা ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের খবর গণমাধ্যমে আসছে। এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোয় ব্যাপকভাবে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীনে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন দেশগুলোর সরকার। আগামী কয়েক সপ্তাহে এসব দেশের পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে গতকাল ভোরের কাগজের খবরে প্রকাশ, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৯ হাজার ২২৩ জনে। এ সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৩২৪ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৩৮২ জনে। যেভাবে সংক্রমণের হার বাড়ছে, তাতে আর কয়েক দিনেই দেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ প্রেক্ষাপটে সরকার আবারো ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি নিয়ে কিছু দিন আগে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ছয় দফা আদেশ বাস্তবায়নের চিঠি দিয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা জরুরি। পাশাপাশি এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন হতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির দেশে করোনার মতো দীর্ঘস্থায়ী মহামারি মোকাবিলা করা সহজ কাজ নয়। একদিকে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত, অন্যদিকে জীবিকা রক্ষার চেষ্টা করা- সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জেঁকে বসা আর্থিক সংকটের মধ্যে নতুন করে করোনা সংক্রমণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে আমরা বড় ট্র্যাজেডি এড়াতে পেরেছি। কারণ, অনেক দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আমাদের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা এ পর্যন্ত সংক্রমণ মোকাবিলায় অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো করেছি। এটা সরকারের সাফল্য। নতুন করে করোনার ঊর্ধ্বমুখীতে উদ্বেগ বাড়ছে- এটাই স্বাভাবিক। তবে টিকাদান কর্মসূচি জোরালো হলে এ হার আরো কম হতো বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১২ কোটি ৯ লাখের বেশি মানুষ করোনা টিকার এক ডোজ পেয়েছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৭৫.৭৫ শতাংশ। আর টিকার দুই ডোজ পাওয়া নাগরিকের সংখ্যা ১১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি, যা মোট জনগোষ্ঠীর ৭০.০৫ শতাংশ। বুস্টার ডোজ দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ১৬২টি, যা মোট জনগোষ্ঠীর ২৪.২৪ শতাংশ। সে হিসাবে এখনো বুস্টার ডোজ পাননি ৪৬ শতাংশ মানুষ। বুস্টার (তৃতীয়) ডোজ প্রয়োগে দেশ এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। হাতে পর্যাপ্ত টিকা থাকলেও দ্রুত সময়ে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে বুস্টার ডোজ দেয়ার ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা বাড়াতে হবে। আগামী ১৯ জুলাই সরকার বুস্টার ডোজ দিবস ঘোষণা করেছে। এটা জরুরি ছিল। করোনা ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি দ্রুত সময়ে ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে বুস্টার ডোজের আওতায় আনতে হবে। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, ভিড় এড়িয়ে চলার পাশাপাশি টিকা নেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। করোনার সংক্রমণ কমার পর আমাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে যে উদাসীনতা তৈরি হয়েছে তা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়