ড.-রাহমান-নাসির-উদ্দিন

শিক্ষকদের এখন নিয়মিতভাবেই ‘উচিত শিক্ষা’ দেয়া হচ্ছে!

আগের সংবাদ

পদ্মা সেতুতে সহসা চালু হচ্ছে না রেল

পরের সংবাদ

শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২২ , ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২২ , ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষকদের সম্মান আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ রীতি। কিন্তু রীতি-নীতিতে কালিমালেপন করছে কিছু মানুষ। বর্তমানে শিক্ষকদের সঙ্গে কিছু ঘটনা দেখলে বুঝা যায় সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করানো, অপমান করা, ঘুষি মারা, লাথি মারার মতো নোংরা এবং জঘন্য কর্মকাণ্ড বারবার শিক্ষক সমাজকে বিচলিত করে তুলেছে। সর্বশেষ আমরা দেখলাম, রাজশাহীর সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি কলেজের অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। মারধরের শিকার সেলিম রেজা গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ। তাকে গত ৭ জুলাই রাতে ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যক্তিগত চেম্বারে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। মারধরের শিকার হয়েও অধ্যক্ষ সেলিম রেজা বিষয়টি চেপে গেলেও জানাজানি হয়। গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে। তবে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী মারধরের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেছেন। তিনি শিক্ষক অপরাধ করেছে বলে দায়ী করছেন। কোনো শিক্ষক যদি অন্যায় করে থাকেন তবে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে; কিন্তু শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা, অপমান করা কি ঠিক? তাও আবার একজন জনপ্রতিনিধির হাতে। এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগে দেখেছি দেবাশিষ, রসরাজার, হৃদয় মণ্ডল, স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নির্যাতনের ঘটনা। শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কান ধরে ওঠবস করানোর সেই দৃশ্য মানুষ ভোলেনি। অতিসম্প্রতি সাভারে কলেজ শিক্ষককে এক বখাটে ছাত্র পেটানোর পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হলো। ওই শিক্ষক ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। আশালতা নামের আরেকজন শিক্ষিকাকে মিথ্যা অভিযোগে সাম্প্রদায়িকতার তকমা লাগানোর চেষ্টা করা হলো। ঘটনাগুলো দুঃখজনক। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদল শিক্ষার্থী কর্তৃক, বিশেষ করে অমুসলিম ও মুক্তমনা শিক্ষকদের ধর্ম অবমাননার ফাঁদে ফেলে হেনস্তা করার একটা প্যাটার্ন গড়ে উঠেছে; অথচ সরকারের দিক থেকে এর প্রতিকারমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। আমরা বলি আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু ইদানীংকালে অসহিষ্ণুতা ও অধৈর্যের যে প্রকাশ প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাসের যে সংস্কৃতি তা বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতা হারাবে। অধ্যক্ষ সেলিম রেজার ঘটনা তদন্ত করে দেখা দরকার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হোক। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে সব শিক্ষকের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কোনো প্রকার ক্ষমতা, টাকার জোর, দলীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেন এমন অপরাধ কেউ করতে না পারে, সেদিকে সরকার এবং কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়