নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

দেশে এবার ৯৯ লাখ ৫১ হাজার পশু কোরবানি: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

পরের সংবাদ

৩৩ বছর পর জানতে পারলেন তিনি পুরুষ নন!

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২২ , ৩:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১১, ২০২২ , ৩:৫৫ অপরাহ্ণ

৩৩ বছর কেটে গেল, কেউ কথা রাখেনি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা এই কবিতার রূপক অর্থই প্রকাশ পেয়েছে চীনের এক নাগরিকের জীবনে। জন্মের সময় তাকে পুরুষ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। অথচ ৩৩ বছর পার করে এসে এখন জানছেন, তিনি পুরুষ নন।

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের বাসিন্দা চেন লি’র সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসকরা যখন তার প্রকৃত লিঙ্গ পরিচয় জানান তখন তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। নিজেকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে তার প্রকৃত নাম গণমাধ্যমে আসেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধিকাল থেকে চেন লি’র অনিয়মিত প্রস্রাবের সমস্যা ছিল। এ জন্য চিকিৎসকদের কাছেও গেছেন তিনি। চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচারও করেছিলেন। সেই অস্ত্রোপচারের পর গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসতে থাকে তার।

পাশাপাশি, মাসের নির্দিষ্ট একটি সময়ে চেন প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পেটে অস্বস্তি অনুভব করেন। তখন একজন চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে তাকে অ্যাপেনডিসাইটিস হয়েছে বলে জানান। আর এই রোগের চিকিৎসার পরও তার শরীরে আগের সব উপসর্গ অব্যাহত থাকে।

গত বছর তিনি প্রস্রাবের পুরোনো সমস্যা নিয়ে আবারও চিকিৎসকের কাছে যান। সেই সময় বেরিয়ে আসে তার শারীরিক সমস্যার প্রকৃত কারণ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, চেনের শরীরে নারীদের সেক্স ক্রোমোজোম রয়েছে। ঋতুস্রাবের কারণে তার প্রস্রাবে মাসের নির্দিষ্ট সময়ে রক্ত আসে এবং পেটে অস্বস্তি অনুভব করেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট বলছে, চেন এই খবরে অবাক হয়ে যান এবং গুয়াংজু হাসপাতালে গিয়ে যৌনাঙ্গের সমস্যার চিকিৎসা নেন। পরবর্তী মেডিকেল পরীক্ষায় জানা যায়, চেনের শরীরে একটি জরায়ু এবং ডিম্বাশয়সহ নারী প্রজনন অঙ্গও রয়েছে। এমনকি তার শরীরে পুরুষদের শরীরে থাকা সেক্স হরমোনের উপস্থিতিও কম এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্ট্রেরোনের মাত্রা অনেক বেশি।

পুরুষ ও নারীর উভয় প্রজনন অঙ্গ পাওয়া যাওয়ায় চেনকে শেষ পর্যন্ত উভয় লিঙ্গ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ৬ জুন তিন ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চেনের শরীর থেকে জরায়ু ও ডিম্বাশয় ফেলে দেয়া হয়। এর ১০ দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

চিকিৎসক লুও জিপিং বলেছেন, দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠেছেন চেন এবং আস্থাও ফিরে পেয়েছেন তিনি। এখন থেকে তিনি একজন পুরুষ হিসেবে জীবনযাপন করতে পারলেও যৌনজীবন তেমন সুখকর হবে না। কারণ তার অণ্ডকোষ শুক্রাণু তৈরি করতে পারবে না।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়