শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও আমাদের বিপত্তি

আগের সংবাদ

সাকিবের ব্যাটে এগুচ্ছে টাইগাররা

পরের সংবাদ

ঈদযাত্রায় দুর্ভোগের শঙ্কা:বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার করুন

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২২ , ১:০৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২২ , ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

এবারের বন্যার একটি বড় প্রভাব পড়েছে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়। এমনিতেই দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর একটি বড় অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। এই বন্যা কার্যত মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক-মহাসড়কের এই হাল। দ্রুত সংস্কার না করা হলে তা ঈদে যাতায়াতের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন সারাদেশে আড়াই হাজার কিলোমিটার সড়কের অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় ১০টি জেলার অন্তত ৪৭২ কিলোমিটার সড়ক নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৩ থেকে ২৩ জুন ১০টি জেলার ৪১টি সড়কের ৪৭২ কিলোমিটার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উদ্বেগজনক হলো, ৭ জুলাই অফিস শেষে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হলে সড়কে যাত্রী ও গাড়ির চাপ বাড়বে। এ অবস্থায় সড়ক খারাপ থাকায় সিলেট অঞ্চল ও উত্তরবঙ্গে যাতায়াতে মানুষের ভোগান্তি অনেকগুণ বাড়বে। সিলেট সদরের সঙ্গে এখনো বিচ্ছিন্ন কয়েকটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ। ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহেরপুর ও জামালগঞ্জের সঙ্গে এখনো সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব সড়কের কঙ্কাল চেহারা বেরিয়ে আসছে। ওই সড়কগুলো দিয়ে এখন চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের খানাখন্দ ও গর্ত দ্রুত মেরামত না করলে ধীরে ধীরে তা আরো বড় হয়ে ঈদের সময় অতিরিক্ত গাড়ির চাপে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সারাদেশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীন সড়কগুলোর আড়াই হাজার কিলোমিটারই ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সড়কগুলোর খারাপ অংশের কোথাও পুনর্নির্মাণ, কোথাও সংস্কার, কোথাও পিচ ঠিক করা আবার কোথাও ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট (ডিবিএইচ) করা জরুরি বলে মহাসড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (এইচডিএম) বিভাগের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এই ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়কে দেশের মধ্যাঞ্চলে আবার ধাক্কা মেরেছে বন্যার পানি। আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়কের মেরামত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সড়কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তৎপর না হলে এ নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে সেটা দেখার বিষয়। বিগত বছরগুলোতে ঈদের সময় রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে যান চলাচল বিঘিœত হওয়া, যানবাহন গন্তব্যে পৌঁছতে কয়েকগুণ সময় বেশি লাগা, যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়াসহ নানারকম বিপদ-ভোগান্তির অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। আমরা নিশ্চয় এমন অবস্থায় পুনরাবৃত্তি চাই না। অনতিবিলম্বে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও বন্যায় নাজুক সড়কগুলো সংস্কার করে নিরাপদ যান চলাচল উপযোগী করতে হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘেœর নামে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সংস্কার কাজ করা হয়- যা প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজে আসে না। রাস্তাঘাটের সংস্কারে গাফিলতির কারণে কারো ঈদ আনন্দ যেন ভেস্তে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়