উইম্বলডনে শেষ ষোলোতে হারমনি-জাবেউর

আগের সংবাদ

বৃষ্টিতে পিছিয়েই গেল বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ

পরের সংবাদ

সর্বনাশা বন্যা: শাল্লায় ৭হাজার ঘর-বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২২ , ১১:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২, ২০২২ , ১১:২৪ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সর্বনাশা বন্যায় হাজারো ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতি অপূরণীয়। অনেকই ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। কীভাবে ভাঙাঘর মেরামত করবেন এই চিন্তায় ঘুম হারাম ঘরহারা মানুষগুলোর। সর্বগ্রাসী বন্যায় যেনো সব শেষ করে গেছে। উপজেলাজুড়ে হাজারো ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অর্ধেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৬হাজারেরও বেশি। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ১১৯টি গ্রামেই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার ২৫হাজার পরিবারের মধ্যে জনসংখ্যা রয়েছে দেড়লাখ।

এরমধ্যে ৩হাজার পরিবার শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন ৭০টি আশ্রয় কেন্দ্রে। তারচেয়েও অধিক সংখ্যক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী, নিকটাত্মীয় কিংবা অন্য এলাকায়। নিজেরা কোনরকমে প্রাণে বাঁচলেও বন্যায় ভেঙে দিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। বিনাশ করে গেছে আসবাবপত্রসহ জরুরি কাগজপত্রও। শনিবার (২জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ঘরভাঙা মানুষগুলোর ভাঙাঘরের এমন বেহাল দৃশ্যই দেখা যায়। ঘরহারা মানুষের চোখে মুখে রয়েছে আতঙ্কের ছাপ। আর ১ফুট পানি বাড়লেই নিশ্চিন্ত হয়ে যেত গ্রামের পর গ্রাম। পানিতে ভেসে যেত মানুষও। এমন কথাই বলছেন ভুক্তভোগীরা।

এব্যাপারে সুখলাইন গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা জগদীশ সরকার বলেন বন্যায় ধ্বংসলীলা চালিয়ে গেছে। মানুষের দুর্ভোগের কোন শেষ ছিল না। এখনও চরম কষ্টে আছে মানুষ। সারা উপজেলায় ৭হাজারের চেয়েও বেশি ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় আশ্রয় কেন্দ্রের চেয়েও দ্বিগুণ পরিবার আত্মীয়পরিজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। যারা অনেকই ত্রাণ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি না করার দাবি জানান তিনি। হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুবল চন্দ্র দাস বলেন হবিবপুর ইউনিয়নে ক্ষতি হয়েছে সীমাহীন। এই ইউনিয়নেই নতুন গ্রাম বেশি। ফলে হবিবপুর ইউনিয়নে ৩হাজার ৬শ’ ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাহাড়া ইউপির সুলতানপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন আমার ঘর পাইন্যে ভাসাইয়া লইয়া গেছে গা। ক্ষতির তালিকায় আমার নাম নিছে না। আমি এই ঘরেই থাকতাম। এখন বাজারে থাকি। একই ইউপির আঙ্গারোয়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নিরঞ্জন দাস বলেন আমার ঘরে এখনো হাটুপানির উপরে। আফালে ঘরে বেড়া ভাঙছে। ঘরের জিনিসপত্র সব ভাসাইয়া লইয়া গেছে। গরীব মানুষ আমি কেমনে ঘর ঠিক করমু চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। প্রতিবেশী সুখলাইন গ্রামের ক্ষিতীশ দাসের ঘরের বেড়া আফাকে তছনছ কইরা ফালাইছে।

হবিবপুর ইউপির আনন্দপুর গ্রামের আশুতোষ রায় বলেন বন্যায় আমার ঘরের বেড়া ভাইঙ্গা নিছে। এখনো ঘরে কোমরপানি। কেমনে কিতা করতাম। উপজেলার এমন বহু মানুষ তাদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। যার ঘরে একটু পানি ঢুকেছে বাঁশের খুঁটির তৈরি ঘর হওয়ায় পছন ধরেছে খুঁটির গোড়ায়। ফলে তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত। এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা শরণার্থীরা নিজেদের বাড়ি ফিরতে পারেননি। বন্যার পানি ধীরেধীরে কমতে শুরু করেছে। কিন্তু ঘরহারা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। কীভাবে ঘর মেরামত করবেন এই দুশ্চিন্তা উপজেলার সর্বত্র।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন ৩হাজার ঘরের ক্ষতি হয়েছে আর পূর্ণাঙ্গ ক্ষতি হয়েছে ৬শ’ ৩০টার মত। তবে এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আমরা তালিকা তৈরি করতে মাঠে নেমেছি। পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০হাজার টাকা দেওয়া হবে। কম ক্ষতিগ্রস্তদেরও অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়