বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা

আগের সংবাদ

মসলার বাজারে ঈদের আঁচ

পরের সংবাদ

বাদপড়া ও থেকে যাওয়া ১৯৭১-এর এমএনএ

ড. এম এ মোমেন

ভোরের কাগজ ২৮ জুন ২০২২ সংসদে ‘বিল নিয়ে প্রতিবেদন : পাকিস্তানের পক্ষ নেয়া এমএনএ এমপিএদেরও তালিকা হবে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর পাশাপাশি পাকিস্তানের পক্ষ নেয়া ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত এমএনএ (জাতীয় পরিষদের সদস্য) ও এমপিএদেরও (আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য) তালিকা তৈরির ক্ষমতা পাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল-২০২২’-এ বিধানটি যুক্ত করার সুপারিশ করে জাতীয় সংসদে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন বাহিনীর পাশে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে যারা এমএনএ ও এমপিএ নির্বাচিত হয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ নেয়ার কারণে শূন্য ঘোষিত আসনে উপনির্বাচনে পাকিস্তান সরকারের এমএনএ ও এমপিএ হয়েছেন তাদের তালিকা তৈরির বিধান যুক্ত করার কথা এতে বলা হয়েছে। এই কাজটি ১৯৭১-এর পাকিস্তান সরকার তাদের প্রকাশিত দলিলের মাধ্যমে অনেকটা সহজ করে দিয়ে গেছে। রাওয়ালপিন্ডি থেকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান ৭ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পাকিস্তানের পত্রিকাগুলোতে পাঠিয়েছে। ৮ আগস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সারমর্ম হচ্ছে বিভিন্ন ‘অপরাধমূলক’ কাজের জন্য পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত ১৬৭ জন এমএনএ (মেম্বার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি)- জাতীয় পরিষদ সদস্যের মধ্যে কার্যত ৭৯ জন আরএমপি পদে বহাল থাকতে পারবেন না। বহাল থাকবেন ৮৮ জন। যারা বহাল থাকতে পারবেন না, তারা কেন পারবেন না কারণটি স্পষ্ট, সামরিক আদালতে ‘ইন অ্যাবসেন্সিয়া ট্রায়াল’-এ তাদের অনেকেই সাজাপ্রাপ্ত, তাদের অবস্থানও পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তের বাইরে। বলাবাহুল্য, তাদের সবাই আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত এমএনএ। আর যারা বহাল থাকলেন, ৫১ বছর আগের পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তান সরকার যদি তাদের ওপর সন্তুষ্ট না থাকত, তাহলে তাদের সদস্যপদ কি বহাল থাকত? সরকারকে সন্তুষ্ট রাখার দুটো উপায় : প্রথমটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর সেটি হচ্ছে পারস্পরিক আস্থা। একালের রাজনৈতিক দলগুলো যেমন মনে করে আমাদের লোক চিহ্নিত করে সেকালে ব্যাপারটা এত নগ্ন না হলেও আমাদের ‘পন্থি’, তাদের পন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা যেত। দ্বিতীয় দলে যারা তারা হয়তো তেমন অনুগত ও ‘পন্থি’ না হলেও কৌশলগত কারণে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। যারা ‘অপরাধমূলক কাজে জড়িত নন’ (দ্বৈবচয়নের মাধ্যমে দুটো নাম উল্লেখ করি, সরাসরি নির্বাচিত আবদুল মালেক উকিল এবং সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত বেগম সাজেদা চৌধুরী- দুজনেই স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে মন্ত্রী হয়েছেন) যারা পাকিস্তান সরকারের সাদা তালিকায় রয়ে গেলেন, তারা কেমন করে রয়ে গেলেন- গত পঞ্চাশ বছরে এ ধরনের কোনো গবেষণা আমাদের চোখে পড়েনি। আবার ‘অপরাধমূলক কাজে জড়িত’ থেকে পাকিস্তান সরকারের এমএনএ তালিকা থেকে খারিজ হয়েছেন, স্বাধীনতার পর খারিজের আদেশ বাতিল হয়েছে তারা সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন (দৈবচয়নে দুটি নাম উল্লেখ করি- সরাসরি নির্বাচিত তাজউদ্দীন আহমদ এবং সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত বেগম নূরজাহান মোর্শেদ।) তাদের নিয়েও পৃথক কোনো গবেষণাকর্ম চোখে পড়েনি। একাডেমিক ইন্টারেস্টে ৭ আগস্ট ১৯৭১-এর সরকারি প্রেসনোট থেকে বহাল থাকা এমএনএ-র তালিকাটি তুলে ধরছি : রংপুর : মজাহার হোসেন, সাদাকাত হোসেন, মো. লুৎফর রহমান, শাহ আবদুল হামিদ, ড. মো. আবুু সোলায়মান মণ্ডল, মো. আজিজুর রহমান, মো. নুরুল হক ও আফসার আলী আহমদ। দিনাজপুর : ডা. মো. ওয়াকিল উদ্দীন মণ্ডল। বগুড়া : আকবর আলী খান চৌধুরী, মো. হাবিবুর রহমান ও ডা. মো. জাহিদুর রহমান। পাবনা : মওলানা এ রশিদ তর্কবাগীশ, সৈয়দ হোসেন মনসুর ও মো. আমজাদ হোসেন। রাজশাহী : আজিজুর রহমান, রাইসুদ্দীন আহমদ, মো. নাজমুল হক সরকার ও ডা. মো. শেখ মোবারক হোসেন। যশোর : এম মশিহুর রহমান। খুলনা : এমএ খায়ের বিএ, লুৎফর রহমান, মো. আবদুল গাফফার ও সৈয়দ কামাল বখত। বাকেরগঞ্জ : সালেহউদ্দীন আহমদ, মো. আবদুল বারেক, ডা. আজহার উদ্দীন আহমদ, এ কে ফয়জুল হক ও এম শামসুল হক। পটুয়াখালী : গোলাম আহাদ চৌধুরী, আবদুল তালুকদার ও আসমত আলী শিকদার। টাঙ্গাইল : এম শওকত আলী খান ও হাতেম আলী তালুকদার। ময়মনসিংহ : মো. এ সামাদ, করিমুজ্জামান তালুকদার, মো. আনিসুর রহমান, আবদুল হাকিম সরকার, মোশারফ হোসেন আকন্দ, জনাব ইব্রাহিম, সৈয়দ আবদুল সুলতান, মো. শামসুল হুদা, সাবিরুদ্দীন, জাবেদ আলী ও আসাদুজ্জামান। ফরিদপুর : এবিএম নুরুল ইসলাম, সৈয়দ কামরুল ইসলাম, মো. সালেহউদ্দীন, মো. আবুল খায়ের, মওলানা আদেলউদ্দীন আহমদ, আমজাদ হোসেন খান, আবিদুর রেজা খান ও ডা. এ এ কাশেম। ঢাকা : মো. নুরুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দীন খান, জহিরুদ্দীন, আফতাব উদ্দীন ভূঁইয়া, শহর আলী মিয়া ও কফিল উদ্দীন চৌধুরী। সিলেট : আবদুল মুনতাকিম চৌধুরী, আবদুর রহিম, আবদুল খালেক এডভোকেট ও ডিএমএইচ ওবায়েদুর রেজা চৌধুরী। কুমিল্লা : দেওয়ান আবুল আব্বাস, সিরাজুল হক, এএম আহমদ খালেক, হাজি আবুল হাশেম, মো. সুজাদ আলী, আবদুল আওয়াল ও হাফেজ হাবিবুর রহমান। নোয়াখালী : মো. ওবায়েদুল্লাহ মজুমদার, আবদুল মালেক উকিল, দেলওয়ার হোসেন ও মো. আবদুর রশিদ। চট্টগ্রাম : এমএ মজিদ, সৈয়দ মো. ফজলুল হক বিএসসি, মোহাম্মদ খালেদ, আতাউর রহমান খান, আবু সালেহ ও নূর আহমদ। সংরক্ষিত আসন : রাফী আকতার ডলী, সাজেদা চৌধুরী, মমতাজ বেগম, রাজিয়া বানু, তসলিমা আবিদ ও বদরুন্নেসা আহমদ। এই তালিকার কয়েকজন সদস্য মন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটল। তাদের মধ্যে ১৯৩ (মোট নির্বাচিত সদস্য ৩০০) জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যান্য অভিযোগে তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হলো। আগেই নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের নাম নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। ৪ আগস্ট ১৯৭১ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রæতি দিয়ে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানালেন। ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলো। ১২-২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, পাকিস্তান সে সুযোগ আর পায়নি। ২৩ অক্টোবর ১৯৭১ উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন করে ঘোষণা দেয়া হয় ১৫ জন বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় এমএনএ নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির ৫ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৫ জন, কনভেনশন মুসলিম লীগের ২ জন, নেজাম-ই-ইসলামের ২ জন এবং মুসলিম লীগ (কাইয়ুম)-এর ১ জন এমএনএ নির্বাচিত। তারপর শুরু হলো প্রার্থিতা প্রত্যাহার। মুক্তিফৌজের জীবননাশের হুমকির মুখেও যারা এমএনএ ও এমপিএ হতে চেয়েছিলেন তাদের কেউ কেউ পাকিস্তানি কর্নেলের হুমকিও মোকাবিলা করলেন। শান্তি কমিটির এক চেয়ারম্যান ওয়াশিংটন ইভনিং স্টার পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, ‘কর্নেল সাহেব আমাদের তার সামনে ডেকে নিয়ে বললেন, সবাইকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে, যাতে সঠিক প্রার্থীকে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় পাস করিয়ে আনা যায়।’ উপনির্বাচনে কর্নেলদের সাফল্যের কথা স্বীকার করতেই হবে। উপনির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ৭৮ আসনের ৫৮ জনকে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো। এর আগেই ৮৮ আসনের বিষয়ে ফয়সালা হয়ে গেছে, তারা ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের বিজয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আরো ৭৮টির ফয়সালা হলে মোট আসন দাঁড়াবে ১৬৬। কিন্তু আওয়ামী লীগের অধিকৃত আসন ছিল ১৬৭। একটি আসনের গরমিল কেন? সেই আসন নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিনিধি ম্যালকম ব্রাউন লিখেছেন : ‘শেখ মুজিবুর রহমানের জেতা একটি আসনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি- তার বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা নিষ্পত্তির জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’ ১২ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ ঘোষণা করেছেন ২৭ ডিসেম্বর। বড্ড দেরি করে ফেলেছেন। তত দিন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে আর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গৃহবন্দি জীবনযাপন করতে শুরু করেছেন। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে বেশ কটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ২০ আগস্ট জারি করা নির্দেশে বলা হয় ‘খ’ অঞ্চলের (পূর্ব পাকিস্তান) সামরিক আইনকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান সামরিক বিধি ও পাকিস্তান দণ্ডবিধি অনুযায়ী আনীত অভিযোগের জবাব ব্যক্তিগতভাবে ২ নম্বর সেক্টরের উপসামরিক শাসনকর্তার নাটোরের আদালতে প্রদানের জন্য ১৪ জন এমএনএকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারা যদি গরহাজির থাকেন তাহলে সামরিক বিধির ৪০ নম্বর ধারা বলে অনুপস্থিতিতেই তাদের বিচারকার্য সম্পাদন করা হবে। এই ১৪ জন হলেন : ১. রিয়াজুদ্দিন আহমদ, কুড়িগ্রাম, রংপুর; ২. মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, কোতোয়ালি, দিনাজপুর; ৩. আবদুর রউফ, মির্জাগঞ্জ, রংপুর; ৪. মতিউর রহমান, পীরগঞ্জ, রংপুর; ৫. মফিজ আলী মোহাম্মদ চৌধুরী, জয়পুরহাট, বগুড়া; ৬. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর; ৭. শাহ মাহতাব উদ্দিন, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর; ৮. মজিবুর রহমান, আদমদীঘি, বগুড়া; ৯. মোতাহার হোসেন তালুকদার, সিরাজগঞ্জ, পাবনা; ১০. আবদুল আওয়াল, হারাগাছ, রংপুর; ১১. আবদুল মজিদ তালুকদার, বেলকুচি, পাবনা; ১২. আবু সাঈদ, বেড়া, পাবনা; ১৩. এবিএম মকসেদ আলী, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর ও ১৪. প্রফেসর মো. ইউসুফ আলী, বিরোল, দিনাজপুর। তালিকার এই ১৪ জনের প্রত্যেককে পৃথক পৃথক নোটিস পাঠানো হয়েছে। একই সপ্তাহে জারি হওয়া অন্যান্য আদেশে এমএনএদের নিজ নিজ এলাকার উপসামরিক আইন প্রশাসনের দপ্তরে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে : ১৬ জনের দ্বিতীয় তালিকার এমএনএরা হচ্ছেন : ১. আতোয়ার রহমান তালুকদার, বদলগাছী, রাজশাহী; ২. মো. বয়তুল্লাহ, নওগাঁ, রাজশাহী; ৩. খালিদ আলী মিয়া, আলীনগর, রাজশাহী; ৪. শাহ মো. জাফরুল্লাহ, বাগমারা, রাজশাহী; ৫. এ এইচ এম কামারুজ্জামান, বোয়ালিয়া, রাজশাহী; ৬. আমিরুল ইসলাম, ইমানপুর, কুষ্টিয়া, ৭. আজিজুর রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া; ৮. আবু আহমদ আফজালুর রশিদ, আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া; ৯. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ, যশোর; ১০. ইকবাল আনোয়ারুল ইসলাম, ঝিনাইদহ, যশোর; ১১. সুবোধ কুমার মিত্র, কেশবপুর, যশোর; ১২. খোন্দকার আবদুল হাফিজ, নড়াইল, যশোর; ১৩. সোহরাব হোসেন, মাগুরা, যশোর; ১৪. এম রওশন আলী, বাঘারপাড়া, যশোর; ১৫. মোহাম্মদ মহসীন, খুলনা ও ১৬. মহিউদ্দিন মেহেরপুর, কুষ্টিয়া। ২৯ জনের তৃতীয় তালিকায় রয়েছেন : ১. আবদুল হাফিজ, মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহ; ২. আবদুল হামিদ, ময়মনসিংহ; ৩. মো. আ. হাকিম, জামালপুর, ময়মনসিংহ; ৪. জিল্লুর রহমান, ভৈরব, ময়মনসিংহ; ৫. সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ; ৬. মওলবী হুমায়ুন খালিদ, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল; ৭. শামসুর রহমান খান, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল; ৮. কেএম ওবায়দুর রহমান, নগরকান্দা, ফরিদপুর; ৯. মোল্লা জালাল উদ্দিন, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর; ১১. এম এ গফুর, খুলনা শহর; ১২. শেখ আবদুল আজীজ, কোতোয়ালি, খুলনা; ১৩. নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, বরিশাল; ১৪. আবদুল মান্নান হাওলাদার, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল; ১৫. আবদুর রব সেরনিয়াবাত, গৌরনদী, বরিশাল; ১৬. এনায়েত হোসেন খান, বাকেরগঞ্জ, ১৭. তাহের উদ্দীন ঠাকুর, সরাইল, কুমিল্লা; ১৮. আলী আজম ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা; ১৯. আবদুস সামাদ, জগন্নাথপুর, সিলেট; ২০. আবদুর রব, সিলেট; ২১. মুস্তফা আলী, হবিগঞ্জ, সিলেট; ২২. লুৎফর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ, সিলেট; ২৩. দেওয়ান ফরিদ গাজী, কোতোয়ালি, সিলেট; ২৪. মো. ইলিয়াস, শ্রীমঙ্গল, সিলেট; ২৫. ফজলুর রহমান, মনোহরদী, ঢাকা; ২৬. এ কে শামসুজ্জোহা, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা; ২৭. আবদুুল করিম ব্যাপারী, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা; ২৮. আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়া, রূপগঞ্জ, ঢাকা ও ২৯. শামসুল হক, কালিয়াকৈর, ঢাকা। (অসমাপ্ত তালিকা) ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২২ , ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ২, ২০২২ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

ভোরের কাগজ ২৮ জুন ২০২২ সংসদে ‘বিল নিয়ে প্রতিবেদন : পাকিস্তানের পক্ষ নেয়া এমএনএ এমপিএদেরও তালিকা হবে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর পাশাপাশি পাকিস্তানের পক্ষ নেয়া ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত এমএনএ (জাতীয় পরিষদের সদস্য) ও এমপিএদেরও (আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য) তালিকা তৈরির ক্ষমতা পাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল-২০২২’-এ বিধানটি যুক্ত করার সুপারিশ করে জাতীয় সংসদে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়। স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন বাহিনীর পাশে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে যারা এমএনএ ও এমপিএ নির্বাচিত হয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ নেয়ার কারণে শূন্য ঘোষিত আসনে উপনির্বাচনে পাকিস্তান সরকারের এমএনএ ও এমপিএ হয়েছেন তাদের তালিকা তৈরির বিধান যুক্ত করার কথা এতে বলা হয়েছে।
এই কাজটি ১৯৭১-এর পাকিস্তান সরকার তাদের প্রকাশিত দলিলের মাধ্যমে অনেকটা সহজ করে দিয়ে গেছে।
রাওয়ালপিন্ডি থেকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান ৭ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পাকিস্তানের পত্রিকাগুলোতে পাঠিয়েছে। ৮ আগস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সারমর্ম হচ্ছে বিভিন্ন ‘অপরাধমূলক’ কাজের জন্য পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত ১৬৭ জন এমএনএ (মেম্বার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি)- জাতীয় পরিষদ সদস্যের মধ্যে কার্যত ৭৯ জন আরএমপি পদে বহাল থাকতে পারবেন না। বহাল থাকবেন ৮৮ জন।
যারা বহাল থাকতে পারবেন না, তারা কেন পারবেন না কারণটি স্পষ্ট, সামরিক আদালতে ‘ইন অ্যাবসেন্সিয়া ট্রায়াল’-এ তাদের অনেকেই সাজাপ্রাপ্ত, তাদের অবস্থানও পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তের বাইরে। বলাবাহুল্য, তাদের সবাই আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত এমএনএ।
আর যারা বহাল থাকলেন, ৫১ বছর আগের পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তান সরকার যদি তাদের ওপর সন্তুষ্ট না থাকত, তাহলে তাদের সদস্যপদ কি বহাল থাকত?
সরকারকে সন্তুষ্ট রাখার দুটো উপায় : প্রথমটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর সেটি হচ্ছে পারস্পরিক আস্থা। একালের রাজনৈতিক দলগুলো যেমন মনে করে আমাদের লোক চিহ্নিত করে সেকালে ব্যাপারটা এত নগ্ন না হলেও আমাদের ‘পন্থি’, তাদের পন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা যেত। দ্বিতীয় দলে যারা তারা হয়তো তেমন অনুগত ও ‘পন্থি’ না হলেও কৌশলগত কারণে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। যারা ‘অপরাধমূলক কাজে জড়িত নন’ (দ্বৈবচয়নের মাধ্যমে দুটো নাম উল্লেখ করি, সরাসরি নির্বাচিত আবদুল মালেক উকিল এবং সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত বেগম সাজেদা চৌধুরী- দুজনেই স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে মন্ত্রী হয়েছেন) যারা পাকিস্তান সরকারের সাদা তালিকায় রয়ে গেলেন, তারা কেমন করে রয়ে গেলেন- গত পঞ্চাশ বছরে এ ধরনের কোনো গবেষণা আমাদের চোখে পড়েনি।
আবার ‘অপরাধমূলক কাজে জড়িত’ থেকে পাকিস্তান সরকারের এমএনএ তালিকা থেকে খারিজ হয়েছেন, স্বাধীনতার পর খারিজের আদেশ বাতিল হয়েছে তারা সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন (দৈবচয়নে দুটি নাম উল্লেখ করি- সরাসরি নির্বাচিত তাজউদ্দীন আহমদ এবং সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত বেগম নূরজাহান মোর্শেদ।) তাদের নিয়েও পৃথক কোনো গবেষণাকর্ম চোখে পড়েনি।
একাডেমিক ইন্টারেস্টে ৭ আগস্ট ১৯৭১-এর সরকারি প্রেসনোট থেকে বহাল থাকা এমএনএ-র তালিকাটি তুলে ধরছি :
রংপুর : মজাহার হোসেন, সাদাকাত হোসেন, মো. লুৎফর রহমান, শাহ আবদুল হামিদ, ড. মো. আবুু সোলায়মান মণ্ডল, মো. আজিজুর রহমান, মো. নুরুল হক ও আফসার আলী আহমদ।
দিনাজপুর : ডা. মো. ওয়াকিল উদ্দীন মণ্ডল।
বগুড়া : আকবর আলী খান চৌধুরী, মো. হাবিবুর রহমান ও ডা. মো. জাহিদুর রহমান।
পাবনা : মওলানা এ রশিদ তর্কবাগীশ, সৈয়দ হোসেন মনসুর ও মো. আমজাদ হোসেন।
রাজশাহী : আজিজুর রহমান, রাইসুদ্দীন আহমদ, মো. নাজমুল হক সরকার ও ডা. মো. শেখ মোবারক হোসেন।
যশোর : এম মশিহুর রহমান।
খুলনা : এমএ খায়ের বিএ, লুৎফর রহমান, মো. আবদুল গাফফার ও সৈয়দ কামাল বখত।
বাকেরগঞ্জ : সালেহউদ্দীন আহমদ, মো. আবদুল বারেক, ডা. আজহার উদ্দীন আহমদ, এ কে ফয়জুল হক ও এম শামসুল হক।
পটুয়াখালী : গোলাম আহাদ চৌধুরী, আবদুল তালুকদার ও আসমত আলী শিকদার।
টাঙ্গাইল : এম শওকত আলী খান ও হাতেম আলী তালুকদার।
ময়মনসিংহ : মো. এ সামাদ, করিমুজ্জামান তালুকদার, মো. আনিসুর রহমান, আবদুল হাকিম সরকার, মোশারফ হোসেন আকন্দ, জনাব ইব্রাহিম, সৈয়দ আবদুল সুলতান, মো. শামসুল হুদা, সাবিরুদ্দীন, জাবেদ আলী ও আসাদুজ্জামান।
ফরিদপুর : এবিএম নুরুল ইসলাম, সৈয়দ কামরুল ইসলাম, মো. সালেহউদ্দীন, মো. আবুল খায়ের, মওলানা আদেলউদ্দীন আহমদ, আমজাদ হোসেন খান, আবিদুর রেজা খান ও ডা. এ এ কাশেম।
ঢাকা : মো. নুরুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দীন খান, জহিরুদ্দীন, আফতাব উদ্দীন ভূঁইয়া, শহর আলী মিয়া ও কফিল উদ্দীন চৌধুরী।
সিলেট : আবদুল মুনতাকিম চৌধুরী, আবদুর রহিম, আবদুল খালেক এডভোকেট ও ডিএমএইচ ওবায়েদুর রেজা চৌধুরী।
কুমিল্লা : দেওয়ান আবুল আব্বাস, সিরাজুল হক, এএম আহমদ খালেক, হাজি আবুল হাশেম, মো. সুজাদ আলী, আবদুল আওয়াল ও হাফেজ হাবিবুর রহমান।
নোয়াখালী : মো. ওবায়েদুল্লাহ মজুমদার, আবদুল মালেক উকিল, দেলওয়ার হোসেন ও মো. আবদুর রশিদ।
চট্টগ্রাম : এমএ মজিদ, সৈয়দ মো. ফজলুল হক বিএসসি, মোহাম্মদ খালেদ, আতাউর রহমান খান, আবু সালেহ ও নূর আহমদ।
সংরক্ষিত আসন : রাফী আকতার ডলী, সাজেদা চৌধুরী, মমতাজ বেগম, রাজিয়া বানু, তসলিমা আবিদ ও বদরুন্নেসা আহমদ।
এই তালিকার কয়েকজন সদস্য মন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটল। তাদের মধ্যে ১৯৩ (মোট নির্বাচিত সদস্য ৩০০) জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যান্য অভিযোগে তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হলো। আগেই নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের নাম নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। ৪ আগস্ট ১৯৭১ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রæতি দিয়ে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানালেন। ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলো। ১২-২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, পাকিস্তান সে সুযোগ আর পায়নি। ২৩ অক্টোবর ১৯৭১ উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন করে ঘোষণা দেয়া হয় ১৫ জন বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় এমএনএ নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির ৫ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৫ জন, কনভেনশন মুসলিম লীগের ২ জন, নেজাম-ই-ইসলামের ২ জন এবং মুসলিম লীগ (কাইয়ুম)-এর ১ জন এমএনএ নির্বাচিত। তারপর শুরু হলো প্রার্থিতা প্রত্যাহার।
মুক্তিফৌজের জীবননাশের হুমকির মুখেও যারা এমএনএ ও এমপিএ হতে চেয়েছিলেন তাদের কেউ কেউ পাকিস্তানি কর্নেলের হুমকিও মোকাবিলা করলেন। শান্তি কমিটির এক চেয়ারম্যান ওয়াশিংটন ইভনিং স্টার পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, ‘কর্নেল সাহেব আমাদের তার সামনে ডেকে নিয়ে বললেন, সবাইকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে, যাতে সঠিক প্রার্থীকে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় পাস করিয়ে আনা যায়।’
উপনির্বাচনে কর্নেলদের সাফল্যের কথা স্বীকার করতেই হবে। উপনির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ৭৮ আসনের ৫৮ জনকে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো। এর আগেই ৮৮ আসনের বিষয়ে ফয়সালা হয়ে গেছে, তারা ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের বিজয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আরো ৭৮টির ফয়সালা হলে মোট আসন দাঁড়াবে ১৬৬। কিন্তু আওয়ামী লীগের অধিকৃত আসন ছিল ১৬৭। একটি আসনের গরমিল কেন? সেই আসন নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিনিধি ম্যালকম ব্রাউন লিখেছেন :
‘শেখ মুজিবুর রহমানের জেতা একটি আসনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি- তার বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা নিষ্পত্তির জন্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’
১২ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের তারিখ ঘোষণা করেছেন ২৭ ডিসেম্বর। বড্ড দেরি করে ফেলেছেন। তত দিন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে আর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গৃহবন্দি জীবনযাপন করতে শুরু করেছেন।
আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে বেশ কটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ২০ আগস্ট জারি করা নির্দেশে বলা হয় ‘খ’ অঞ্চলের (পূর্ব পাকিস্তান) সামরিক আইনকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান সামরিক বিধি ও পাকিস্তান দণ্ডবিধি অনুযায়ী আনীত অভিযোগের জবাব ব্যক্তিগতভাবে ২ নম্বর সেক্টরের উপসামরিক শাসনকর্তার নাটোরের আদালতে প্রদানের জন্য ১৪ জন এমএনএকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারা যদি গরহাজির থাকেন তাহলে সামরিক বিধির ৪০ নম্বর ধারা বলে অনুপস্থিতিতেই তাদের বিচারকার্য সম্পাদন করা হবে।
এই ১৪ জন হলেন : ১. রিয়াজুদ্দিন আহমদ, কুড়িগ্রাম, রংপুর; ২. মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, কোতোয়ালি, দিনাজপুর; ৩. আবদুর রউফ, মির্জাগঞ্জ, রংপুর; ৪. মতিউর রহমান, পীরগঞ্জ, রংপুর; ৫. মফিজ আলী মোহাম্মদ চৌধুরী, জয়পুরহাট, বগুড়া; ৬. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর; ৭. শাহ মাহতাব উদ্দিন, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর; ৮. মজিবুর রহমান, আদমদীঘি, বগুড়া; ৯. মোতাহার হোসেন তালুকদার, সিরাজগঞ্জ, পাবনা; ১০. আবদুল আওয়াল, হারাগাছ, রংপুর; ১১. আবদুল মজিদ তালুকদার, বেলকুচি, পাবনা; ১২. আবু সাঈদ, বেড়া, পাবনা; ১৩. এবিএম মকসেদ আলী, বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর ও ১৪. প্রফেসর মো. ইউসুফ আলী, বিরোল, দিনাজপুর।
তালিকার এই ১৪ জনের প্রত্যেককে পৃথক পৃথক নোটিস পাঠানো হয়েছে। একই সপ্তাহে জারি হওয়া অন্যান্য আদেশে এমএনএদের নিজ নিজ এলাকার উপসামরিক আইন প্রশাসনের দপ্তরে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে :
১৬ জনের দ্বিতীয় তালিকার এমএনএরা হচ্ছেন :
১. আতোয়ার রহমান তালুকদার, বদলগাছী, রাজশাহী; ২. মো. বয়তুল্লাহ, নওগাঁ, রাজশাহী; ৩. খালিদ আলী মিয়া, আলীনগর, রাজশাহী; ৪. শাহ মো. জাফরুল্লাহ, বাগমারা, রাজশাহী; ৫. এ এইচ এম কামারুজ্জামান, বোয়ালিয়া, রাজশাহী; ৬. আমিরুল ইসলাম, ইমানপুর, কুষ্টিয়া, ৭. আজিজুর রহমান, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া; ৮. আবু আহমদ আফজালুর রশিদ, আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া; ৯. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ, যশোর; ১০. ইকবাল আনোয়ারুল ইসলাম, ঝিনাইদহ, যশোর; ১১. সুবোধ কুমার মিত্র, কেশবপুর, যশোর; ১২. খোন্দকার আবদুল হাফিজ, নড়াইল, যশোর; ১৩. সোহরাব হোসেন, মাগুরা, যশোর; ১৪. এম রওশন আলী, বাঘারপাড়া, যশোর; ১৫. মোহাম্মদ মহসীন, খুলনা ও ১৬. মহিউদ্দিন মেহেরপুর, কুষ্টিয়া।
২৯ জনের তৃতীয় তালিকায় রয়েছেন :
১. আবদুল হাফিজ, মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহ; ২. আবদুল হামিদ, ময়মনসিংহ; ৩. মো. আ. হাকিম, জামালপুর, ময়মনসিংহ; ৪. জিল্লুর রহমান, ভৈরব, ময়মনসিংহ; ৫. সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ; ৬. মওলবী হুমায়ুন খালিদ, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল; ৭. শামসুর রহমান খান, ঘাটাইল, টাঙ্গাইল; ৮. কেএম ওবায়দুর রহমান, নগরকান্দা, ফরিদপুর; ৯. মোল্লা জালাল উদ্দিন, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর; ১১. এম এ গফুর, খুলনা শহর; ১২. শেখ আবদুল আজীজ, কোতোয়ালি, খুলনা; ১৩. নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, বরিশাল; ১৪. আবদুল মান্নান হাওলাদার, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল; ১৫. আবদুর রব সেরনিয়াবাত, গৌরনদী, বরিশাল; ১৬. এনায়েত হোসেন খান, বাকেরগঞ্জ, ১৭. তাহের উদ্দীন ঠাকুর, সরাইল, কুমিল্লা; ১৮. আলী আজম ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা; ১৯. আবদুস সামাদ, জগন্নাথপুর, সিলেট; ২০. আবদুর রব, সিলেট; ২১. মুস্তফা আলী, হবিগঞ্জ, সিলেট; ২২. লুৎফর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ, সিলেট; ২৩. দেওয়ান ফরিদ গাজী, কোতোয়ালি, সিলেট; ২৪. মো. ইলিয়াস, শ্রীমঙ্গল, সিলেট; ২৫. ফজলুর রহমান, মনোহরদী, ঢাকা; ২৬. এ কে শামসুজ্জোহা, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা; ২৭. আবদুুল করিম ব্যাপারী, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা; ২৮. আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়া, রূপগঞ্জ, ঢাকা ও ২৯. শামসুল হক, কালিয়াকৈর, ঢাকা। (অসমাপ্ত তালিকা)

ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়