×

জাতীয়

হলি আর্টিজান হামলার ৬ বছর: শক্তি হারালেও অনলাইনে সক্রিয় জঙ্গিরা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২২, ০৯:৪৫ এএম

হলি আর্টিজান হামলার ৬ বছর: শক্তি হারালেও অনলাইনে সক্রিয় জঙ্গিরা

ছবি: ভোরের কাগজ

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ৬ষ্ঠ বছর পুর্তি আজ শুক্রবার। দেশের ইতিহাসের সব থেকে বড় এ জঙ্গি হামলা মোকাবিলার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক সাঁড়াশি অভিযানে জঙ্গিরা এখন অনেকটাই কোনঠাসা। হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর এলিট ফোর্স র‌্যাবের ধারাবাহিক অভিযানে দেড় সহস্রাধিক জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জনই জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ ইনডেক্সে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে যাচ্ছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ একটি ধারণা। তাই এটিকে নিশ্চিহ্ন করা একটু দুরুহ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের ফলে সন্ত্রাসবাদী বা জঙ্গিরা এখন মাঠ পর্যায় না থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। মাওলানা ভাসানি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, জঙ্গিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম বেছে নিয়েছে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। আবার কাটআউট পদ্ধতিতেও কাজ করছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে র‌্যাব-পুলিশ বলছে, জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো জঙ্গি হামলার হুমকি ও আশঙ্কা নেই। ওই ধরনের সক্ষমতাও জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেই। তবে তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন স্পেসকে বেছে নিয়েছে। জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করাসহ সব ধরনের কার্যক্রমকে তারা অনলাইনে করার চেষ্টা করেছে। তাই তুষ্টিতে না ভুগে অনলাইন নজরদারিসহ সব ধরনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে র‌্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন ভোরের কাগজকে বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটে র‌্যাব কাজ করলেও জঙ্গিবাদ থেকে আমরা আমাদের নজর কখনো সরাইনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ জঙ্গিকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ জনই জেএমবির সদস্য।

অনলাইনে জঙ্গিবাদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ একটি ধারণা।

এটিকে পুরোপুরি নির্মুল করা না গেলেও তাদের সক্ষমতা আমরা নষ্ট করে দিয়েছি। ফলে সেইভাবে মাঠে সক্রিয় না থাকলেও অনলাইনে তারা সক্রিয় থেকে কাজ করার চেষ্টা করছেন। তবে সেই কার্যক্রম কেউ নস্যাৎ করতে র‌্যাব সাইবার মনিটরিং টিমসহ অন্যান্য ইউনিটগুলো দিনরাত সাইবার ওয়ার্ল্ডে নজরদারি করাসহ জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি জঙ্গিবাদের হোতা যারা ছিল, হুজিবি বা জেএমবির শুরুর দিকের নেতা, যারা ২০ বছর ধরে পলাতক ছিলেন তাদেরকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। শুধু গ্রেপ্তারই নয়, সন্ত্রাসবাদের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে ডি-র‌্যাডিকালইজড প্রোগ্রাম করছি। অনেকেই যারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে আবার সঠিক পথে ফিরতে চেয়েছেন তাদের জন্যও কাজ করেছি আমরা। অনেককে পরিচয় গোপন রেখে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আমরা আবার তাদের ওপর নজরদারিও অব্যাহত রেখেছি। অনেকেই সঠিকপথে ফিরেছেন।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত হুমকি বিবেচনায় সবচেয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ ইনডেক্সে সব দেশ মিলে ৪০তম অবস্থানে আমরা। যেখানে ইংল্যান্ডের অবস্থান ২১-এ। যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ২৮তম অবস্থানে। তবে, তুষ্টির সুযোগ এখনো নেই। সিটিটিসিসহ সব বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, গত ২০১৯ সাল থেকে আমরা জঙ্গি বা উগ্রবাদ দমনে কাজ করে যাচ্ছি। ১০৮টি সফল অভিযানের মাধ্যমে ১৬০ জনকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। সন্ত্রাসবাদ ইনডেক্সে আমাদের অবস্থান ভালো হচ্ছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই দেশের ইতিহাসের সব থেকে বড় জঙ্গি হামলায় দিনটিও ছিল শুক্রবার। ওইদিনের নৃশংস এ হামলায় ২ পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২২ জন নিহত হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App