জবি ছাত্রদলের সভাপতি আসলাম, সম্পাদক সুজন

আগের সংবাদ

শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে

পরের সংবাদ

রাজস্ব আয়ের বাস্তবতা ও করণীয়

প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২২ , ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ১, ২০২২ , ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট গতকাল সংসদে পাস হয়েছে। বাজেটের খরচের প্রায় ৬৫ শতাংশ সংস্থান ধরা হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর বাবদ অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ থেকে। সেজন্য বাজেট প্রণয়নের সময় অর্থ বিভাগ রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। জুন মাসে এই অর্থবছর শেষ হয়েছে। সেই হিসাবে রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এনবিআরের রাজস্ব আদায় করতে হবে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা, যা এনবিআরের সক্ষমতা অনুযায়ী অসম্ভব বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী এক মাসে বড়জোর ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব। তবুও প্রায় অর্ধ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু করতে হবে। আর আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরো ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কয়েক মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে, স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলেও গতি আসে। ফলে রাজস্ব আদায়ও বেড়েছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে নতুন করে বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়ায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়, যা ভোক্তা পর্যায়ে অসহনীয় হয়ে ওঠে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে ভোজ্যতেলের ওপর মোট ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে এক আদেশ জারি করেছে। এছাড়া মহামারিকালে মানুষের আয়-উপার্জন কম। ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে। আমদানিও কম। তাহলে ট্যাক্স আসবে কোত্থেকে? দোকানপাটে বিক্রি নেই, ফলে ভ্যাট আদায়ও কম। এসব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার-আয়তন, বাণিজ্যসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত আমলে নিলে নির্দিষ্ট রাজস্ব আহরণ কঠিন কিছু নয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এটা সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য ছিল ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে আয় বাড়বে। কিন্তু ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলেও লক্ষ্যমাত্রার উন্নতি নেই। এতে ভ্যাট আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা আদায় কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে এনবিআরের জন্য। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করের আওতা বাড়ানোসহ নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা খুবই শ্লথ গতির। বিনিয়োগ বাড়াতে পারলেই কেবল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। রাজস্ব আয় বাড়ানো এর শর্ত। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে দরকার করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি। সেখানে রাজস্ব প্রদানে সেবা নিশ্চিত, অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইন-কানুন সময়োপযোগী করা গুরুত্ব পাবে। পরিকল্পনাজনিত সমস্যা তো রয়েছেই, সঙ্গে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক নানা জটিলতা। আছে দুর্নীতির অভিযোগও। এসব বিষয়ে সরকারকে আরো জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়